।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী না হলে মিলবে না মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। মিলবে না রেশনও। সম্প্রতি এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি নীতিমালা জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

গত ২ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব খাজা মিয়া স্বাক্ষরিত ‘শহীদ’ খেতাবপ্রাপ্ত ও যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা আদেশ ২০২১’ এবং ‘শহীদ’ খেতাবপ্রাপ্ত ও আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা রেশন আদেশ ২০২১’ পৃথক দুটি নীতিমালা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৮-এর (ধারা ৩) বিধান মতে এ দুটি নীতিমালা জারি করা হয়।

এই গেজেটে সম্মানী ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অযোগ্যতা হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে কোনও সুবিধাভোগী ফৌজদারি অপরাধে ৬ (ছয়) মাসের বেশি সাজাপ্রাপ্ত হলে, তিনি সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন না। তবে শর্ত, সাজা হতে অব্যাহতি বা খালাসপ্রাপ্ত হলে যথারীতি সম্মানী ভাতা প্রাপ্য হবেন।

কোনও বীর মুক্তিযোদ্ধা বা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বা খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বা সুবিধাভোগীগণ বা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুবিধাভোগী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী না হলে সম্মানী ভাতা পাবেন না।

এদিকে রেশন প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিধিমালায়ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী না হলে রেশন পাবেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংজ্ঞা হিসাবে ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ধারা ২-এর উপধারা (১)-এর দফা ‘প’-এ দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

ওই সংজ্ঞায় বলা হয়- ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনা- অর্থ যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ।’

অবশ্য বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্ট আইন ২০১৮-এও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী না হলে কোনও ধরনের ভাতা প্রাপ্য হবেন না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই আইনে বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা বা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা বা খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার উত্তরাধিকারীরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী না হলে সুবিধাভোগী হিসেবে গণ্য হবেন না।