grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা কাম্পে পাহাড় ধসে ও পানিতে ভেসে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় দুইজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃতরা হলেন বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের জি-৩৭ ব্লকের নুর মোহাম্মদের মেয়ে নুর নাহার (৩০), শাহা আলমের ছেলে শফিউল আলম (১২), জি-৩৮ ব্লকের ইউসুফের স্ত্রী দিল বাহার (২৪) ও তাদের দুই সন্তান আব্দুর রহমান (৪) ও আয়েশা সিদ্দিকা (২) এবং পালংখালী ক্যাম্প-১৮-এ পানিতে ভেসে দিল বাহার নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মো. শামসুদ্দোজা নয়ন।

তিনি বলেন, সকাল থেকে টানা বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ভারী বর্ষণে কক্সবাজারের বিভিন্ন উপজেলার শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। রোহিঙ্গা শিবিরের শতাধিক ঘরবাড়ি ডুবে গেছে। বৃষ্টির সময় পাহাড় ধসে ১০ নম্বর শিবিরের শিশুসহ পাঁচ রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পানির স্রোতে ভেসে ক্যাম্প-১৮-এর এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শামসুদ্দোজা নয়ন আরও বলেন, বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তমব্রু শূন্যরেখায় অবস্থানরত রোহিঙ্গা শিবির ডুবে গেছে। তবে সেখানে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে টানা বর্ষণে কক্সবাজার সদরের পিএমখালী, পোকখালী, ভারুয়াখালী, গোমাতলী, ঈদগাঁও, ইসলাম, পেকুয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, উখিয়ার জালিয়াপাড়া, ইনানী, টেকনাফের সাবরাং, হ্নীলা, হোয়াইক্যং, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার নিম্নাঞ্চলের শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বেড়িবাঁধ না থাকায় এসব গ্রামে ঢুকছে জোয়ারের পানি।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুর রহমান বলেন, লঘুচাপের কারণে সাগরে জোয়ারের পানি ৩-৪ সেন্টিমিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিজাম উদ্দিন বলেন, ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত শিশুসহ ছয়জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। উদ্ধার অভিযান চলছে।