grand river view

।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

অনন্তলোকে পাড়ি জমালেন গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীর। শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটের দিকে করোনাভাইরাসের কাছে পরাজয় বরণ করেন নন্দিত এই গণসংগীতশিল্পী।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শিল্পীর ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব ও ইউনাইটেড হাসপাতালের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজ্জাদুর রহমান। মাশুক জানান, রাত ১০টার দিকে তার বাবা হার্ট অ্যাটাক করেন। এরপর অনেক চেষ্টা করেও আর ফেরানো যায়নি। তিনি সবার কাছে তার বাবার জন্য দোয়া চেয়েছেন।

কোভিড পজিটিভ হয়ে সবকিছু দ্রুত ঘটলো গণসংগীত শিল্পী ফকির আলমগীরের জীবনে। এক সপ্তাহের মধ্যে বাসা থেকে আইসিইউ, এরপর ভেন্টিলেশন সাপোর্ট। অবশেষে বিদায়।

শুক্রবার (২৩ জুলাই) দুপুরে এই নন্দিত শিল্পীর পুত্র মাশুক আলমগীর রাজীব জানান খানিক স্বস্তির বার্তা। বলেন, ‘বাবার অবস্থা এখন আগের চেয়ে ভালো। অক্সিজেন স্যাচুরেশন শতভাগ। বিশেষ করে ডান ফুসফুস সংক্রমণমুক্ত। তবে বাম ফুসফুস এখনও ভাইরাসের সঙ্গে যুদ্ধ করছে।’

মাশুকের এমন খবরে স্বস্তি ফিরলেও কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভেন্টিলেশনে থেকেই হার্ট অ্যাটাক হয় ফকির আলমগীরের।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৫ জুলাই মধ্যরাত থেকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ফকির আলমগীর। ১৮ জুলাই চিকিৎসকেরা তাকে ভেন্টিলেশন সাপোর্ট দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ১৪ জুলাই ফকির আলমগীরের করোনাভাইরাস পজিটিভ ফল আসে। এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

ফকির আলমগীর স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অন্যতম শিল্পী। তারও আগে থেকে তিনি শ্রমজীবী মানুষের জন্য গণসংগীত করে আসছিলেন। স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রেখেছেন ফকির আলমগীর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠের বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এরমধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে।

১৯৮২ সালের বিটিভির ‘আনন্দমেলা’ অনুষ্ঠানে গানটি প্রচারের পর দর্শকের মধ্যে সাড়া ফেলে। কণ্ঠ দেয়ার পাশাপাশি গানটির সুরও করেছেন ফকির আলমগীর। তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন ঋষিজ শিল্পীগোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা, গণসংগীত চর্চার আরেক সংগঠন গণসংগীতশিল্পী পরিষদের সাবেক সভাপতি।

সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৯ সালে সরকার তাকে একুশে পদক দিয়ে সম্মানিত করে।

গণসংগীতশিল্পী ফকির আলমগীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (২৪ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে তার মরদেহ নেয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার ছেলে মাশুক আলমগীর রাজীব।

শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি জানান, ‘পূর্ব সিদ্ধান্তে কিছু পরিবর্তন এসেছে। বাবাকে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য শনিবার বেলা ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত রাখা হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে। তার আগে বেলা ১১টার দিকে খিলগাঁওয়ের পল্লীমা সংসদে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর শহীদ মিনার হয়ে বাদ জোহর তালতলা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।’