।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা নিয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। সোমবার (১৯ জুলাই) বিকাল ৪টা ২ মিনিটে রাজধানীর মহাখালীর ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতালে টিকা গ্রহণ করেন তিনি। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।

শায়রুল কবির খান জানান, সোমবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে টিকা নেয়ার উদ্দেশে বাসা থেকে বের হন বিএনপি চেয়ারপারসন। বিকাল পৌনে ৪টার দিকে হাসপাতালে পৌঁছান তিনি। গণমাধ্যমকর্মীসহ বিপুল নেতাকর্মীদের অবস্থান থাকায় তাকে হাসপাতালের ভেতরে নিতে বেগ পেতে হয়। পরে গাড়িতে বসিয়েই তাকে টিকা দেয়া হয়। টিকা নেয়ার পর বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে বাসার উদ্দেশে রওনা করেন খালেদা জিয়া। ৪টা ৩৫ মিনিটে তিনি বাসায় পৌঁছান।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খালেদা জিয়ার ভাই শামীম ইস্কান্দর, ভাইস চেয়ারম্যান ও চিকিৎসক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, হাবিবুন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, ইশরাক হোসেন প্রমুখ।

টিকা দেওয়ার পর খালেদা জিয়ার চিকিৎসক দলের অন্যতম সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন মডার্নার টিকা গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন, ‘দেশের একজন আইন মান্যকারী নাগরিক হিসেবে সাধারণ মানুষের কাতারে এসে খালেদা জিয়া করোনার টিকা নিয়েছেন। তিনি জমায়েত অ্যাভয়েড করার জন্য আজকে টিকা নিতে এসেছেন। অন্য সময় এলে হয়তো আরও ভিড় হতো, সে ভিড় এড়ানোর জন্যই তিনি আজ টিকা নিয়েছেন।’

জাহিদ হোসেন বলেন, ‘অন্যদের মতো ম্যাডাম জিয়া মডার্নার টিকা নিয়েছেন। উনার কোনও আলাদা ইচ্ছা নেই। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকে তিনি ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।’

এর আগে ৮ জুলাই করোনার টিকা নিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইটে নিবন্ধন করেন খালেদা জিয়া। এ সপ্তাহের শুরুতে টিকার ফিরতি মেসেজ আসে।

গত ২৭ এপ্রিল ভর্তির পর এভার কেয়ার হাসপাতাল থেকে ১৯ জুন রাত ৯টার দিকে গুলশানের বাসভবনে ফেরেন খালেদা জিয়া। ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় তার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হয়। এরপর প্রথমে পুরান ঢাকার বিশেষ কারাগার ও পরে কারাবন্দি অবস্থায় বিএসএমইউ’র হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।