।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

করোনা প্রাদুর্ভাবে ভ্যাকসিন নিয়ে দারুন সংকটে পড়ে ভেনিজুয়েলা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক অবরোধের মুখে থাকার কারণে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন নিতে যথেষ্ট বেগ পাবার শঙ্কা ছিলো শুরু থেকে। সেই শঙ্কা বাস্তব রূপ পেলে এগিয়ে আসে রাশিয়া ও চীন। এই দুটি দেশ আলাদাভাবে ৩৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠায় ভেনিজুয়েলায়। কিন্তু সংখ্যায় তা ছিলো যথেষ্ট কম।

কোভ্যাক্স নামের ভ্যক্সিন শেয়ারিং জোটের কাছ থেকে টিকা নিতে ভেনিজুয়েলা অর্থ প্রেরণ শুরু করে। কিন্তু মার্কিন অবরোধের কারণে সরাসরি না পাঠিয়ে বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে গত জুনে কয়েক দফায় ১২ কোটি মার্কিন ডলার কোভ্যাক্সকে পরিশোধ করে দেশটি। কিন্তু শেষ চারটি লেনদেন আটকে দেয় সুইস ব্যাংক। ফলে ভ্যাকসিন পাওয়া নিয়ে শুরু হয় জটিলতা। এর মধ্যেই ঘটে এক অভূতপূর্ব ঘটনা। কিউবা জানায়, তাদের নিজেদের আবিস্কৃত আবদালা নামের ভ্যাকসিনটি করোনার বিরুদ্ধে ৯২ দশমিক ২৮ শতাংশ কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। ভেনিজুয়েলা প্রথম সুযোগেই কিউবার সঙ্গে ১ কোটি ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন নেয়ার চুক্তি করে। জুনের শেষ নাগাদ চুক্তির প্রথম চালান হিসেবে ৩২ লাখ ডোজ কিউবার আবদালা ভ্যাকসিন পায় ভেনিজুয়েলা। এরপরই প্রেসিডেন্ট মাদুরো কোভ্যাক্সকে বলে, হয় ভ্যাকসিন দিয়ে দাও, নইলে পুরো টাকা ফেরত চাই! তারপরেই টনক নড়ে তাদের। রয়টার্স জানায়, কোভ্যাক্সের শরিক গাভির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

এভাবেই কিউবার আবিস্কৃত ভ্যাকসিন করোনাকালে দুনিয়াজুড়ে মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর ভ্যাকসিন কূটনীতিকে চ্যালেঞ্জ করতে শুরু করেছে। বিশেষ করে ল্যাতিন অ্যামেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে কিউবার এই ভ্যাকসিন হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে ধারনা করছেন অনেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নীতি নির্ধারণী বিষয়ে গবেষণায় নিয়োজিত সংস্থা আটলান্টিক কাউন্সিলের এক সাম্প্রতিক প্রকাশনায় বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ‘ক্যারিবিয়ানদের কাছে মার্কিন ভ্যাকসিন পৌঁছানোর কৌশলগত গুরুত্ব’ নামের গবেষণায় মার্কিন কূটনীতিক জেমস ব্রুয়েস্টার ও ওয়াজিম মওলা উল্লেখ করেন, “কিউবার ভ্যাকসিন বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেলে বেশিরভাগ ক্যারিবীয় রাষ্ট্র হয় কিউবার কাছ থেকে অনুদান পাবে বা কম দামে ভ্যাকসিন কিনবে। অতিমারির শুরুর দিকে কিউবা এ অঞ্চলে তাদের চিকিৎসক টিম পাঠিয়েছিলো। মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্য এই উদ্যোগকে ক্যারিবীয় অঞ্চলে ভবিষ্যতে কিউবার বিকাশ হিসাবে চিহ্নিত করেছিলেন।” অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন কূটনীতিকে সংকটে ফেলার ক্ষেত্রে কিউবার ভ্যাকসিন যে ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে, তা নিয়ে আগেভাগেই আলোচনা শুরু হয়েছে।

পাঁচ প্রচেষ্টার দুটি প্রস্তুত

জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচেভেলে বলছে, ৬০ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার কিউবা৷ ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের দেশটি অবরোধের বিরুদ্ধে যেভাবে লড়েছে, করোনার বিরুদ্ধেও যেন লড়ছে সেভাবেই৷ এক কোটি দশ লাখ মানুষের দেশটি মহামারির শুরুতেই রাশিয়া বা চীন থেকে ভ্যাকসিন আমদানি না করার সিদ্ধান্ত নেয়৷ জাতিসংঘের কোভ্যাক্স উদ্যোগের সহায়তা না নেয়ারও সিদ্ধান্ত নেয় তারা৷

পরমুখাপেক্ষী না হয়ে নিজেদের সামর্থ্যে ভ্যাকসিন তৈরি করে দেশবাসীকে করোনা থেকে রক্ষার সেই সিদ্ধান্ত এখন সফল বলে দাবি করছে কিউবা৷ সে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, আবদালা নামের ভ্যাকসিনটি বায়োনটেক-ফাইজার এবং মডার্নার মতোই করোনার বিরুদ্ধে শতকরা ৯২ দশমিক ২৮ ভাগ কার্যকর৷ তবে এ টিকা তিন ডোজ নিতে হয়৷

রয়টার্স জানায়, চিকিৎসাসেবা ও ভ্যাকসিন উৎপাদনে স্বনির্ভর কিউবা করোনার ৫টি ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ শুরু করে। এর মধ্যে দুটি প্রস্তুত বলে দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে। আবদালার সঙ্গে সোবেরানা টু নামের আরও একটি ভ্যাকসিন তাদের প্রস্তুত।

শিশুদের ভ্যাকসিনে বিস্ময়কর সাফল্য

গেলো মাসের শেষ দিকে সোবেরানা টু ভ্যাকসিনটির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয় তিন থেকে ১৮ বছর বয়সী শিশুদের ওপর। প্রথমবারের মতো বিশ্বে শিশুদের জন্য করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রস্তুত বলে জানায় কিউবা।

ফিনলে ইন্সটিটিউটের ক্লিনিকাল রিসার্চের পরিচালক মেইবি রড্রিগেজের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, সোবেরানা টু ভ্যাকসিনটিরও তিনটি ডোজ। প্রথম দুটি ডোজের পরই পরীক্ষায় ৬২ শতাংশ কার্যকর  হয়েছে এই ভ্যাকসিন।

তৃতীয়টি বুস্টার ডোজ। এই ধাপের পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল এখনও বাকি। তবে সোবেরানা প্লাস নামের ডোজটি নেয়ার পর এই ভ্যাকসিনটিও ৯০ শতাংশের বেশি প্রতিরোধী হবে বলে আশা করছেন এর উৎপাদকরা। পুরোদমে প্রস্তুত হলে কিউবার এই ভ্যাকসিনটির চাহিদা অনেক বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ এই মুহূর্তে শিশুদের জন্য উপযোগী অন্য কোনো কোভিড ভ্যাকসিন নেই। আবার ওদিকে করোনার নতুন ভেরিয়েন্টগুলোতে কম বয়সীদের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যেভাবে সতর্ক করছেন, সেক্ষেত্রেও সোবেরানা টু দুনিয়াজুড়েই ভিন্নরকম গুরুত্ব পাবে।

কাস্ট্রোর দেশের ভ্যাকসিন চায় ৩০ রাষ্ট্র

বিপাকে থাকা ভেনিজুয়েলার জন্য ভ্যাকসিনের প্রথম চালান পাঠানোর বিষয়টি শুরুতেই বলা হয়েছে। এর বাইরেও ৩০টির বেশি রাষ্ট্র কিউবার ভ্যাকসিন চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ব বায়োকিউবা ফার্মার ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইরা মাওরি। যদিও তিনি চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে দেশগুলোর নাম বলতে রাজি নন।

জুনে আর্জেন্টিনার স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস ভিজোট্টি কিউবা সফরে গিয়ে একটি সমঝোতা সই করেন। সেখানে কিউবায় করোনা প্রতিরোধী উপাদানের উৎপাদনে অংশীদারত্বের অঙ্গীকার করে ল্যাতিন অ্যামেরিকার দেশটি। এর আগে ভ্যাকসিন উৎপাদনে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বের অঙ্গীকার করে ইরান। মেক্সিকোও এ নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছিলো।

পরিস্থিতি যা, তাতে বোঝা যায়, কিউবার ভ্যাকসিনে আগ্রহীদের বেশিরভাগই ল্যাতিন অ্যামেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের রাষ্ট্র এবং মার্কিন অর্থনৈতিক অবরোধের শিকার রাষ্ট্র। তবে তার আগে এ মাসেই একটি স্বতন্ত্র বিশেষজ্ঞ প্যানেলের কিউবার ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা চূড়ান্তভাবে পরীক্ষা করার কথা। তাদের অনুমোদন পেলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন চাইবে কিউবা। যদিও এই প্রক্রিয়া চলাকালেই কিউবায় হঠাৎ করেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয়। কাস্ট্রোর দেশটির পক্ষ থেকে যে বিক্ষোভে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

ভ্যাকসিন উৎপাদক দেশ, অথচ সিরিঞ্জেরও অভাব!

ডয়েচে ভেলে জানায়, আবদালা লাতিন অ্যামেরিকা অঞ্চলে তৈরি প্রথম করোনা ভ্যাকসিন৷ সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবা এমন একটি ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের মূল কৃতিত্ব দিচ্ছে বিজ্ঞানী গেরার্দো এনরিকে গুইলেন নিয়েতোকে৷ হাভানার সেন্টার ফর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজির (সিআইজিবি)বায়োমেডিকেল রিসার্চের পরিচালক নিয়েতোর নেতৃত্বেই এ মুহূর্তে সবচেয়ে কার্যকর ভ্যাকসিনগুলোর সমমানের ভ্যাকসিনটি তৈরি করেছেন কিউবান বিজ্ঞানীরা৷ এ সাফল্য খুব সাড়ম্বরে উদযাপনও করেছে কিউবা৷

বাবা দিবসে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয় নিয়েতোকে নিয়ে তৈরি বিজ্ঞাপন৷ সেখানে ৫৮ বছর বয়সী বিজ্ঞানীর সন্তান জানান, তার বাবা পরিবার এবং দেশের মানুষের জন্য কিভাবে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন৷ কিউবায় জাতীয় বীরের মর্যাদা পাওয়া নিয়েতো জানান, দীর্ঘদিন ধরে সপ্তাহের প্রতিটি দিন ভোর থেকে মাঝরাত পর্যন্ত সহকর্মীদের নিয়ে কাজে ডুবে থেকে এখন তিনি তৃপ্ত, কারণ, আবদালার কার্যকারিতা রীতিমতো বিস্ময়কর৷ নিয়েতোর ভাষায়, “ভ্যাকসিনটা যে ভালো করবে তা আমরা জানতাম, কিন্তু ফলাফল এত ভালো হবে তা আসলেই ভাবিনি৷”

কিন্তু ভ্যাকসিনের এই সফলতায় পৌঁছতে রীতিমতো কঠিন পথ আর বাধাবিঘ্ন পাড়ি দিতে হচ্ছে কিউবাকে। মার্কিন অবরোধের কারণে প্রয়োজনীয় উপাদানের ঘাটতি ভুগিয়েছে তাদেরকে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, নিজ দেশে ভ্যাকসিন দেয়ার মতো পর্যাপ্ত সিরিঞ্জ অবধি ছিলো না। এ অবস্থায় মার্কিন-কিউবানরা চাঁদা তুলে টাকা দিয়ে সিরিঞ্জ কেনার ব্যবস্থা করেন।

গুইলেন নিয়েতো জানান, এ পর্যন্ত একটি করে ডোজ পেয়েছেন কিউবার ২২ লাখ মানুষ আর ১৭ লাখ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজও দেয়া শেষ৷ এছাড়া নয় লাখ মানুষ ইতিমধ্যে তিনটি ডোজই পেয়ে গেছেন৷ আগামী আগস্টের মধ্যে দেশের অন্তত ৭০ ভাগ মানুষকে তিন ডোজ টিকা দেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছে কিউবা৷

যেভাবে কাজ করে কিউবার ভ্যাকসিন

কিউবার টিকাটিতে ভেক্টর বা এমআরএনএ প্রযুক্তি কোনটিই ব্যবহার করা হয়নি। আবদালা একটি প্রোটিন ভিত্তিক টিকা। অর্থাৎ, মানব কোষে যুক্ত হতে সার্স কোভ-২ ভাইরাস যে কাঁটাসদৃশ বহিরাবরণ ব্যবহার করে, টিকায় সেই অংশে থাকা প্রোটিন ব্যবহার করা হয়েছে।

ভাইরাসের রিসেপটর বলে পরিচিত ওই অংশের প্রোটিনের মাধ্যমে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করতে পেরেছেন কিউবান বিজ্ঞানীরা। এক্ষেত্রে রিসেপটরের বাইন্ডার হিসেবে তারা ‘ইস্ট’ ব্যবহার করেন।  

তবে চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগেই গত মে থেকে আবদালা ও সোবেরানা টু দিয়ে দেশটির জাতীয় কোভিড টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।

নিয়েতো বলেন, “আমরা জানি দিনশেষে আমাদের স্বনির্ভর হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। নিজস্ব সক্ষমতা ও যোগ্যতার ওপর নির্ভর করা ছাড়া আমাদের সামনে কোনো পথ ছিল না।”

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবার রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতার বাস্তবতা তুলে ধরে একথা বলেন তিনি। একইসঙ্গে, তার ফলে কিউবার নিজ সফলতার উদাহরণও তুলে ধরে বলেন, “নিষেধাজ্ঞার কারণে আজ আমাদের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যের ও কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। এতে করে নতুন কোনো রোগ প্রতিরোধী টিকার মানব ট্রায়াল পরিচালনা, টিকাকরণ কর্মসূচি এবং টিকা উৎপাদনসহ যেকোনো জনস্বাস্থ্য দুর্যোগ মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার সক্ষমতা বেড়েছে।”

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার অভিমত কী?

জোসে মোয়াই একজন পেরুভিয়ান চিকিৎসক। ৩০ বছর আগে নিজ দেশে মহামারি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ শুরু করেন। ডক্টর্স উইদাউট বর্ডাসের হয়ে তিনি এর আগে গুয়েতেমালা, মোজাম্বিক ও নাইজারের মতো দেশে চিকিৎসা সেবাদানে যুক্ত ছিলেন। গত দুই বছর ধরে কিউবায় প্যান আমেরিকান হেলথ অর্গানাইজেশনের (পাহো) প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি আঞ্চলিক সংস্থা, যার সদস্য ২৭টি দেশ। ড. মায়ো কিউবার দেয়া তথ্যে পূর্ণ আস্থা রাখেন।

ডয়েচে ভেলেকে তিনি বলেন, “ভ্যাকসিন গবেষণায় তিন দশকের অভিজ্ঞতা আছে কিউবার। একারণে, তাদের প্রকাশিত ফলাফলে আস্থা রেখেছি। করোনার টিকা আবিষ্কার বেশ জটিল গবেষণা। এখানে বিজ্ঞানের সাধনায় নিবেদিত অনেক গবেষক ও সংস্থার অংশগ্রহণও ছিল।”   

কিউবা অন্য নানা রোগ প্রতিরোধী নিজ চাহিদার ৮০ শতাংশ টিকা অনেক আগে থেকেই স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করছে, আর একেই সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে মনে করেন ড. মোয়া। তিনি আবদালার উচ্চ কার্যকারিতা হার নিয়েও তাই বিস্মিত হননি। বরং একে দেশটির স্বাস্থ্য খাতের ক্রম উন্নতির যৌক্তিক ফলাফল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “কিউবান বিজ্ঞানীদের প্রকাশিত ফলাফল অ্যান্টিবডি উৎপাদনের ইতিবাচক প্রভাবের দিকটিও উঠে এসেছে।”