grand river view

।। জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহীর বিদিরপুর গ্রামের মুক্তার আলী শখ করে তার গরুর নাম রেখেছিলেন ‘হিরো আলম’। গায়ের রঙ কালো। আড়াই মন ওজনের গরুটি তিনি বিক্রি করেছেন ৮৩ হাজার টাকায়।

বুধবার পড়ন্ত বিকেলে যখন গরুটি বিক্রি করলেন তখন রাজশাহীর সিটি হাটে জমে উঠেছে কোরবানির পশু কেনাবেচা। মোক্তার আলী গরু বিক্রি করে খুশি হতে না পারলেও কিছুটা যেন দম ফেলার সুযোগ পেলেন। বলছিলেন, করোনাকালে গরুটি বিক্রি করতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। আশা ছিলো লাখ টাকায় বিক্রি করবেন, কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় কম দামেও ছেড়ে দিলেন।

প্রত্যাশা মাফিক দাম না পেয়েও ‘মানিক রাজা’কে বিক্রি করলেন বড়গাছি গ্রামের আজমত আলী। ১৪ মণ ওজনের গরুটি ৩ লাখ টাকায় বিক্রির আশা নিয়ে বাজারে আসলেও বিক্রি করলেন ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায়।

তিনি জানান, চারপাশের পরিস্থিতি দেখে দাম কম হলেও বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেললেন। কারণ কোরবানির বাজারে বিক্রি করতে না পারলে, স্বাভাবিক সময়ের বাজারে দাম আরো কম হবে।

বাগমারার মামুন এনেছিলেন বুধবারের বাজারের সবচেয়ে বড় গরু ‘কালা মানিক’। পছন্দসই দাম না পেয়ে ফেরত নিয়ে গেলেন বাড়িতেই। বললেন, ঢাকায় নিয়ে বিক্রির চেষ্টা করবেন তিনি।

ছোট আর মাঝারিতে জমজমাট হাট

বুধবার দুপুর বারোটা থেকেই বাজারে জনসমাগম শুরু হয়। আশেপাশের স্থানীয় ক্রেতা ছাড়াও দেশের দূরদূরান্তের ব্যাপারীরা আসেন সিটি হাটে। সারা দুপুর ঢিমেতালে বিক্রি হলেও বিকেল গড়াতেই শুরু হয় জোর বেচাকেনা।

কুষ্টিয়া থেকে আসা ব্যাপারী বেল্টু জানান, ছোট ও মাঝারি সাইজের গরুর চাহিদা বেশী হওয়ায় দাম চড়া। তিনি ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকায় ৫টি গরু কিনেছেন। নিয়ে যাবেন ঢাকায়।

মন্টু নামের আরেক ব্যাপারী বলেন, বড় গরুর ক্রেতা কম। স্থানীয় ক্রেতা নেই বললেই চলে। মূলত বাইরের ব্যাপারীরা কিনছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে কী অবস্থা হবে, ক্রেতা পাওয়া যাবে কি না, সেসব বিষয় মাথায় রেখে বেশি দামে কেনার মত ঝুঁকি কেউই নিতে চাইছে না। এতেই বড় গরু কম বিক্রি হচ্ছে।

নগরীর সাধুর মোড়ের শামীম হোসেন জানান, টানা করোনাকালে সবারই উপার্জন কমেছে। ফলে যারা কোরবানী দিতে আগ্রহী সবারই বাজেট কম। সবাই চাইছে ছোট বা বড়জোর মাঝারি গরু কিনতে। সেকারণে বাজারে এই দুই শ্রেণির গরুর চাহিদা বেশি।

তিনি বলেন, দাম অন্যবারের তুলনায় গরু প্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার বেশি।

শিকেয় স্বাস্থ্যবিধি

দুপুরের দিকে বাজারে ভীড় কম থাকলেও বিকেলের দিকে তিল ধারণের ঠাই ছিল না। ছিল না সামাজিক দূরত্বের বালাই। সামাজিক দূরত্ব বলতে গরু ও ক্রেতার মধ্যে তিন ফুট দূরত্ব থাকার বিধি, সেটি দূরে থাক ইঞ্চি খানেক ব্যবধানও ছিল না। করোনাবিধি নিশ্চিত করতে ইজারাদারদের উদ্যোগও সেভাবে চোখে পড়েনি।

গাদাগাদি গরুর সারি আর ক্রেতা-বিক্রেতার গাঁ ঘেষাঘেষির মধ্য দিয়ে সিটি হাটে  চলেছে কোরবানির পশু কেনাবেচা। জনসমাগম বেশি হওয়ায় টাকা লেনদেন, হাঁচি-কাশি, থুতু ফেলা, হাত মেলানা সবই চলছে আগের নিয়মে।

মাস্ক ছাড়াই অধিকাংশ ক্রেতা বিক্রেতা এসেছে একে অন্যের সংর্স্পশে।হাটের প্রবেশের পথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা থাকলেও বাজারের ভেতর হাত ধোয়া বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার সরবরাহ ব্যবস্থা ছিল না।

রাজশাহী সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানাতে চেষ্টার কমতি নেই তাদের। হাটের প্রবেশ পথে স্যানিটাইজার রেখেছেন। গাড়িগুলোতে স্প্রে করছেন। যাদের মুখে মাস্ক নেই তাদের মাস্ক দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, ‘পশু হাটের পরিবেশটাই এমন, ক্রেতা বিক্রেতা খুব কাছকাছি থাকবে। সেটি হাজার বারণ করলেও কেউ শোনে না। আমাদের পক্ষ থেকে বলা দরকার, বলছি। এর বেশি আর কী করার আছে?’