।। রাজিউদ্দীন আহ্‌মাদ ।।

রাজশাহীতে ছোটবেলায় যখন পদ্মার পাড়ে হাঁটতে যেতাম বা গোসল করতে যেতাম তখন পদ্মায় কোন চর দেখি নি। বর্ষাকালে বড়কুঠির পাশে দাঁড়ালে নদীর ওপার দেখা যেত না। কিছুটা বড় হয়ে যখন রাজশাহী কলেজের (কলেজটা নদীর পাড়েই এবং বড়কুঠি থেকেও বেশি দূরে নয়) ছাত্র তখন কলেজের ফিজিক্স বিল্ডিংয়ের ছাদের উপর থেকে দূরবীন (ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টের একটা ছোট দূরবীন ছিল, সময়ে সময়ে সেটা ছাদের উপর নিয়ে গিয়ে ছাত্রদের দেখানো হতো) দিয়েও ভাল করে ওপার দেখতে পাই নি, কোন চরও দেখি নি। তারপরে কত কিছু হয়ে গেল, পূর্ব পাকিস্তান হয়ে গেল বাংলাদেশ। তারও পরে ১৯৭৫ সালের ২১ এপ্রিল চালু হলো ফারাক্কা বাঁধ। ফারাক্কা বাঁধ গঙ্গার পানি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য নির্মিত একটি বাঁধ।

ভারতের দীর্ঘ ও প্রধান যে সমস্ত নদ-নদী প্রবাহিত তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হচ্ছে গঙ্গা। একেবারে বাংলাদেশের বর্ডারের কাছে এসে সেই গঙ্গা নদী দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে যায়। তার একটা শাখা ভাগিরথী, যা হুগলী নামে বেশি পরিচিত, কলকাতার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে, আর একটি পদ্মা নামে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ওই একই সাগরে গিয়ে পড়েছে। এই নদীর উপরে একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয় পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার ফারাক্কায়, যার জন্য এটি ফারাক্কা বাঁধ নামে পরিচিত। ফারাক্কা বাঁধের উজানে গঙ্গা নদী থেকে ৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ক্যানাল তৈরি করে ভাগিরথী/হুগলী নদীতে পানি সরবরাহ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে করে ভাগিরথী/হুগলী শুকিয়ে না যায়।

ফারাক্কা, পদ্মা, হুগলী, বাংলাদেশ ও ফারাক্কা-হুগলী ক্যানাল। (গুগল ম্যাপস থেকে, স্কেলে নয়।)

এই বাঁধের নির্মান কাজ শুরু হয়েছিল অনেক আগেই, ১৯৬২ সালে; কাজ শেষও হয়ে গিয়েছিল ১৯৭০ সালে। কিন্তু চালু হয় ১৯৭৫ সালে। ফারাক্কা বাংলাদেশ বর্ডার থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তা, দিন তারিখ যা-ই হোক না কেন, এটা চালু হওয়ার পর হুগলীর তেমন কোন ক্ষতি না হলেও পদ্মা ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে শুরু করে- এটা তাদের পানি নিয়ন্ত্রণ ও বণ্টনের খেলা। কয়েক বছরের মধ্যেই পদ্মায় বড় বড় চর জাগতে শুরু করল এবং রাজশাহীর আবহাওয়া মরুভূমির মত হতে থাকল। এ নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বৈঠক চলতেই আছে সেই গোড়া থেকে। কিন্তু ফল শূন্য। ভারত তাদের ইচ্ছেমত পানি ছাড়ে পদ্মার জন্য- কখনও আমাদের শুকিয়ে মারে তো কখনও ভাসিয়ে মারে।

বছরের পর বছর এমন অবস্থা দেখে ও ভুগে চিন্তা করতে থাকি, কী করা যায়! মাথায় কিছু কিছু আইডিয়াও আসে। কিন্তু এসব উপযুক্ত কাউকে বলাও তো আমার সাধ্যের বাইরে! এরপরে প্রথম সারির একজন জাতীয় নেতা, একেএম কামারুজ্জামান, যিনি দেশের জন্য প্রাণও দিয়েছেন, তাঁর ছেলে খায়রুজ্জামান লিটন যখন ২০০৮ সালে প্রথমবারের মতো রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হলেন তখন তাঁর অফিসে বসে একদিন আমি তাঁকে বহুদিনের লালন করা আমার সেই পরিকল্পনার কথা বলেছিলাম। তিনি এর কিছু নেগেটিভ দিক (পরিকল্পনাটা বিশাল ও ব্যয়বহুল; এতো টাকা কোথায় পাওয়া যাবে; ইত্যাদি) তুলে ধরে আমাকে অনেক প্রশ্ন করেছিলেন। আমিও তার সে সব প্রশ্নের জবাব দিয়ে গেলাম। তখন বুঝি নি যে তিনি ওই সমস্ত প্রশ্ন করে পরিকল্পনাটিকে তাঁর মাথায় গেঁথে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু, তা কী করে সম্ভব! একজনের স্বপ্ন আরেকজন কি পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেন!

বর্তমান রাজশাহীর অবস্থা। (গুগল ম্যাপসের আলোকে, স্কেলে নয়।)

আমি কিন্তু আমার পুরো পরিকল্পনাটা তাঁকে বিনে পয়সায় দিতে চেয়েছিলাম; যেহেতু আমি নিজে রাজশাহীর এবং যেহেতু এতে মূলত রাজশাহীবাসী উপকৃত হবেন। তারপরেও তিনি আমার অফারটি গ্রহণ করেন নি। কিন্তু, তার কিছুদিন পরে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলীর ঘরে গিয়ে দেখি তার টেবিলে কিছু ড্রইং যা কেমন জানি চেনা চেনা মনে হচ্ছে। জানতে চাইলে বাবলা (সেই সময়ের প্রধান প্রকৌশলী) বললেন যে, লিটন সাহেব তাকে এটা করতে বলেছেন, তাই তিনি করার চেষ্টা করছেন। তারও বেশ কিছু দিন পরে গিয়ে দেখলাম যে বড়কুঠির পাশ থেকে দরগার সম্মুখ পর্যন্ত পদ্মার পাড়টিকে আক্ষরিক অর্থেই ফুড কর্নার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। নগরবাসী হয়ত খুব খুশি, কিন্তু তাঁরা খুশি কারণ তাঁরা কিছুই পান না। এমন অবস্থায় যা কিছু হোক, অন্তত কিছু পেলেন তো! তাতেই তাঁরা খুশি হয়ে যান। এরপরে এটার ব্যাপারে আর কিছু জানি না। এর মধ্যে আমি দেশেও ছিলাম কম। গত ছয়/সাত মাস ধরে দেশে আছি, বস্তুত এবার দেশে এসে আটকে গেছি করোনা ভাইরাসের কারণে।

কোনো কাজ নেই, সারাদিন ঘরে বসে থাকি। তাই ইন্টারনেটে এটা-ওটা পড়ে সময় কাটাই। এর মধ্যে ইন্টারনেটে পুরনো কাগজে চোখ বুলাচ্ছিলাম, হঠাৎ একটা খবরের হেডিংয়ে আমার চোখ আটকে গেল। খবরটি পড়ে জানতে পারলাম যে, মেয়র মহোদয় পাওয়ার কন্সট্রাকশন কর্পোরেশন লিমিটেড (পাওয়ার চায়না লিমিটেড) নামে একটা চৈনিক সংস্থার সঙ্গে একটি চুক্তি করেছেন যে, তারা চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকে তিন বছরের মধ্যে ৫০ বছর মেয়াদি একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করবে এবং তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে। খবরটি দ্য ডেইলি স্টার -এর ১৪ মে ২০১৯ তারিখের পত্রিকার। পড়ে ভালই লাগল এই জন্য যে, লিটন সাহেব অন্তত একটা প্রফেশনালি যোগ্য সংস্থার কাছে গেছেন। আবার খারাপও লাগল, কারন তিনি আমার কথা বেমালুম ভুলে গেছেন!

লিংকসহ ডেইলি স্টার-এর হেডিং

আমি অবশ্য হলফ করে বলতে পারি, তিনি আমার কথা ভোলেন নি। তা হলে? আমি তো তাঁর কৃতিত্বে ভাগ বসাতে চাই নি, আমি কোন পারিশ্রমিকও চাই নি! আমাকে বললে আমি কেবল আমার চিন্তাগুলো তাঁর নিযুক্ত সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করতে পারতাম, এবং তাদের কাছ থেকে মেয়রের পক্ষ থেকেই ঠিকমত কাজটি বুঝে নিতে পারতাম যা মেয়রের পক্ষে নিতান্তই একটি কঠিন কাজ। যা-ই হোক, আমি এখন জনগণের জন্য আমার চিন্তা-ভাবনাগুলো বলব; এবং একই সঙ্গে এটাও বলব যে, আমার যে অফার আগে ছিল তা এখনও বলবৎ আছে। মেয়র মহোদয় আমাকে ডাকলেই আমি তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসব।

মূল পরিকল্পনাটি একটু ব্যাপক। তবে তাকে কীভাবে সংক্ষিপ্ত করা যায়, বা তাকে কীভাবে ফেজিং করা যায় সেটি নিয়েও আলোচনা হতে পারে। আমি সে আলোচনায় না গিয়ে মূল চিন্তাটিই এখানে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

আমাদের নদীর দরকার, বা নিদেনপক্ষে পানির দরকার; তাই, প্রথমেই যে চিন্তা তা হচ্ছে, একটি বিশাল ও গভীর জলাধার তৈরি করতে হবে। তা হলে আমরা বর্ষা বা বন্যার সময় সেখানে ইচ্ছেমত পানি আটকে রাখতে পারব এবং তা শুকনা মৌসুমে ফারাক্কা থেকে যে পরিমাণ পানি আসছে তার সমপরিমাণ অথবা কম বা বেশি কাছাকাছি পরিমান পানি ধীরে ধীরে ছাড়তে পারবো। তাতে রাজশাহীর দক্ষিণে সারাবছর পানি থাকবে, ফলে দখিনা বাতাশ কেবল উষ্ণ বালি নিয়ে এসে রাজশাহীকে পুড়িয়ে মারতে পারবে না। কিন্তু তার উপায়? নদীকে ড্রেজিং করে চর-টর সব উপড়িয়ে ফেলে গভীর করে ফেলা? কিন্তু, এটা অত্যন্ত কঠিন কাজ এবং কিছুটা অবাস্তবও বটে। এটা বলছি টেকনিক্যাল দৃষ্টিকোণ থেকে, ব্যয়ভার বা ফিনানশিয়াল দৃষ্টিকোণ থেকে নয়। গত কয়েক দশকে যেভাবে চর জেগেছে তাতে এটা এখন ভাবাও যায় না। অনেক ফ্যাক্টরের মধ্যে সাদামাটা একটা হচ্ছে, চরগুলিকে উপড়িয়ে ফেলে নদীকে গভীর করলে যে পরিমাণ বালি ও মাটি উঠবে তাকে কী করব? এ বালি-মাটি অপসারণ করাটাই তো তখন একটা আলাদা বিশাল প্রজেক্ট হয়ে যাবে! তা হলে কী করা যায়? এখানেই আসছে চরগুলি নিয়ে বিকল্প চিন্তা। যতটা সম্ভব চরগুলিকে রেখেই তাদের চার পাশের অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকাগুলিকে ড্রেজিং করে গভীর করে ফেলতে হবে, এবং ওই বালি-মাটি দিয়েই চরগুলিকে ড্রেসিং করে তাদের আরও উঁচু করে ফেলতে হবে। চরের উচ্চতা হবে নগর রক্ষা বাঁধের উচ্চতার সমান বা কাছাকাছি। এতে চরগুলির আকার-আয়তনেও কিছুটা রদবদল আসবে। এবারে চরগুলিকে কাজে লাগান আর সঙ্গে সঙ্গে নদীর পাড়গুলিকে সাজানর পালা। এখানে একটু ঝামেলা আছে।

ঝামেলা হচ্ছে, নদীর ওপার বা দক্ষিণ পার পর্যন্ত কিন্তু সবটা বাংলাদেশ নয়। বর্ডার গেছে নদীর ভিতর দিয়ে। সেদিক না আটকালে তো আমরা পানি ধরে রাখতে পারব না! এখানে হয় ভারতের সহযোগিতা লাগবে অথবা অন্য কোনোভাবে তার সমাধান করতে হবে। এ বিষয়টি নিয়েও আমি মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে বিশদ আলোচনা করেছিলাম, সে বিষয়ে এখানে আর যাচ্ছি না।

সরদহ পুলিশ একাডেমি থেকে চার কিলোমিটার উজানে কম-বেশি ৫০০ মিটার লম্বা একটি ছোট্ট বাঁধ নির্মাণ করে পানি আটকে রাখতে হবে। এখানে একটি জলবিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্টও তৈরি হতে পারে। এটা একটা ইঞ্জিনিয়ারিং হিসাব-নিকাশের ব্যাপার, তবে আমার ধারণা চোটখাটো একটা প্ল্যান্ট যা রাজশাহীর মোট বিদ্যুৎ চাহিদার সমান না হলেও অন্তত অর্ধেক যোগান দিতে সক্ষম এমন একটা তো হতেই পারে! এর সঙ্গে অতিরিক্ত একটি প্রকল্পের কথাও বলেছিলাম।

নওহাটা থেকে সেখানকার বারনইয়ের ক্ষীণ ধারাটিকে সংস্কার করে মোটামটি চওড়া একটি ক্যানাল কাটা হবে যা রাজশাহীকে কেন্দ্র করে ঘুরে উজানে কাশিয়াডাঙ্গারও উজানে কোন একটা উপযুক্ত জায়গাতে আর ভাটিতে আমাদের প্রস্তাবিত নতুন বাঁধের উজানে পদ্মার সঙ্গে মিলিত হবে। এটি মূলত দুটি কাজ করবে- এক, বর্ধিত রাজশাহী মহানগর যা প্রতিনিয়ত চারিদিকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে বিস্তার লাভ করছে তার সীমানা নির্ধারণ করবে, এবং দুই, এর আশেপাশের ক্ষেত-খামারকে এবং মানুষের জন্যও খাবার পানি সরবরাহ করবে। তিন নম্বর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ করবে এই ক্যানাল; তা হলো, রাজশাহীকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে। বলাবাহুল্য, এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে রাজশাহী একটি পর্যটন নগরীতে রূপান্তরিত হবে। সেখানে লম্বা নৌভ্রমনের একটি জায়গা সৃষ্টি হবে। এর পাড় দিয়ে অর্থকরি নানান কারবার গড়ে উঠবে; লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

পরিকল্পনা- রাজশাহী মহানগরী। গুগল ম্যাপসের উপর আঁকা এই পরিকল্পনাটা একটা ধারণা মাত্র, এখানে বহু চিন্তা-ভাবনার প্রয়োজন, প্রয়োজন অনেক কিছু সমন্বয়ের।

এখানে একটি কথা উল্লেখ থাকা উচিত যদিও সেটা স্থপতি বা পরিকল্পনাবিদদের কাজের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নাও হতে পারে; সেটা হচ্ছে, এই ক্যানালের মধ্যকার সমস্ত এলাকা আরডিএ ও আরসিসির নিয়ন্ত্রণাধীন থাকবে, একটা স্থাপনাও (এখতিয়ার সাপেক্ষে) এদের অনুমতি ব্যতিরেকে হতে পারবে না। এ দুটি সংস্থারও কাজের ব্যাপ্তি ও আয় বৃদ্ধি পাবে, কর্মকর্তা ও কর্মচারির সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে।

এবার আসি চরের প্রসঙ্গে যেটা নিয়ে এ রচনার অবতারণা। চরগুলি প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে ঠিকই (যদিও বাধ্য হয়ে), কিন্তু এদেরকে ব্যবহারযোগ্য করে তৈরি করতে প্রচুর ব্যয় হয়েছে। সুতরাং, এখানে টাউন গড়া হবে না- এখানে যা কিছু হবে তা হবে আর্থিকভাবে ফলপ্রসূ। এখানে গড়ে উঠবে বিনোদনের জায়গা (পাবলিক অ্যাকুরিয়াম, পিকনিক স্পট, মিটিং-স্পেস ইত্যাদি), পাঁচতারা হোটেল, বিলাসী রেস্তোঁরা এবং অতি বিলাসবহুল কিছু অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। এগুলির প্রায় সবই হবে ধনিক শ্রেণিকে লক্ষ্য করে। এসব চরের মধ্যে আবাসিক ভবন বা হোটেলসহ চরগুলি মূল শহরের সঙ্গে ব্রিজদ্বারা সংযুক্ত থাকবে কিন্তু অন্যগুলিতে যাওয়ার জন্য থাকবে প্রয়োজনমত আধুনিক ফেরি, ভিজিটর বা যাঁরা বিনোদনের জন্য যাবেন তাঁরা ফেরি ব্যবহার করবেন। উপযুক্ত বিনিয়োগকারী না পেলে এই ফেরিসমূহ সিটি কর্পোরেশন নিজে পরিচালনা করতে পারে বলে আমার ধারণা। তাতেও সিটি কর্পোরেনের বড় ধরনের একটা আয় হবে বলে আমি মনে করি।

তা হলে দেখা যাচ্ছে, চরের মাঝে শহরকে বিস্তৃত বা সম্প্রসারণ করা আর্থিকভাবে ‘ভায়াবল’ কোনো যুক্তিসঙ্গত প্রজেক্ট নয়, সেটা হবে মূল প্রজেক্টের একটা বাইপ্রোডাক্ট মাত্র। কিন্তু, উল্লেখিত ডেইলি স্টারের খবরে যা ধারণা পাওয়া যায় তাতে মনে হয় যে এটাই মূল প্রজেক্ট! নগরবাসীদের কাছে আমার প্রত্যাশা এই যে, তাঁরা বিষয়টি নিয়ে একটু গভীরভাবে ভেবে দেখবেন এবং তাঁরা যদি আমার চিন্তা-ভাবনাগুলো পছন্দ করেন বা যুক্তিসঙ্গত মনে করেন তবে যাঁর যেভাবে সম্ভব নিজ নিজ অবস্থান থেকে এটাকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সিটি কর্পোরেশনকে সহায়তা প্রদান করবেন। রাজশাহীকে যদি ভালবাসেন তবে এর জন্য কিছু করুন।

রাজিউদ্দীন আহ্মাদ একজন কানাডা প্রবাসী স্থপতি ও রাজশাহীর ভদ্রার মোড়ে ‘স্মৃতি অম্লান’ স্মারক- এর নির্মাতা