grand river view

শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়ে একটি টেলিভিশন সিরিজ টানা ১৮ বছর চলা বিস্ময়করই বটে। সনি টিভির ক্রাইম পেট্রোল তেমনই এক সিরিজ। তিন পেরিয়ে চতুর্থ সিজন চলা এই জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা সিরিজের পুলিশ চরিত্রে অভিনেতাদের নিয়ে লিখেছেন মারশাদ মোহাইমেন

২০০৩ সালে প্রথম ভারতের সনি এন্টারটেইনমেন্ট টেলিভিশন ‘ক্রাইম পেট্রোল’ নামের একটি টেলিভিশন সিরিজ প্রকাশ্যে আনে। শুরুর দিকে সনির অন্য টিভি সিরিজের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় খানিক পিছিয়ে থাকলেও বছরখানেকের মধ্যেই এর নির্মাণশৈলি আর গল্প বলার ধরনের মধ্য দিয়ে হয়ে ওঠে টেলিভিশনটির অন্যতম জনপ্রিয় সিরিজ। ভারত পেরিয়ে এখন এশিয়ার নানা দেশে এই সিরিজটি জনপ্রিয়। বাংলাদেশেও এর দর্শক অসংখ্য।

১৮ বছর ধরে ক্রমাগত আধুনিক সব কলাকৌশল প্রয়োগ করে প্রতিদিনই নতুন নতুন সব ধারনা নিয়ে স্ক্রিনে আসছে ক্রাইম পেট্রোল। মূলত সমাজে ঘটে যাওয়া নানা অপরাধের বিশ্লেষণ ও তা থেকে রক্ষার উপায়কে উপজীব্য করে নাটকীয় উপস্থাপন করা হয় এখানে, যার ট্যাগলাইন- ক্রাইম নেভার পে। এ যাবৎ জনপ্রিয় এই সিরিজের তিনটি সিজন শেষ হয়েছে। চতুর্থ সিজন চলছে এখন। অনুপ সোনি দীর্ঘদিন এই সিরিজ উপস্থাপনা করলেও তিনি সিনেমা নিয়ে বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়ায় এখন অভিনেত্রী সোনালি কুলকার্নি উপস্থাপনা করছেন।

অনুপ সোনি: ক্রাইম পেট্রোল থেকে সিনেমায়
সোনালি কুলকার্নি: সিনেমা থেকে ক্রাইম পেট্রোলে

ক্রাইম পেট্রোল নিছকই একটি সাদামাটা টিভি সিরিজ নয়। এর নির্মাণের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব ও সিনেমাস্টাইলকে মেনে চলেন নির্মাতারা। অর্থ লগ্নিও করা হয় বিপুল অঙ্কের। সবকিছু ছাপিয়ে এই সিরিজে মূল চরিত্র হয়ে ওঠেন পুলিশেরা। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, তাদের স্ক্রিনের পরিচয়ের আড়ালে চাপা পড়ে গেছে আসল পরিচয়। এই লেখায় আমরা চেষ্টা করেছি, তাদের উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের চরিত্রের আড়ালে সত্যিকারের পরিচয়টাকে তুলে আনার।

সঞ্জীব ত্যাগী

সঞ্জীব ত্যাগী

সিনিয়র পুলিশ ইন্সপেক্টর অভিমন্যু জিন্দালের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সঞ্জীব ত্যাগী। জন্ম ১৯৭১ সালের ২৯ জুন ভারতের উত্তর প্রদেশে। তার অভিনয় জীবন শুরু হয় ডিডি ন্যাশনালে টিভি শো দিয়ে। এরপর ২০০০ সালে ভারতীয় টিভি সিরিয়ালের সব থেকে আলোচিত কাহানি ঘার ঘার কি নামের সিরিয়ালে মিস্টার মালহোত্রা চরিত্রে অভিনয় করেন। এরপর অভিনয় করেন রাভান (২০০৬), কারাম ধারাম আপনা (২০০৯), জুনুন: আইসি নাফরত তোহ কাইসা ইশক (২০১২) ও কোর্ট রুম: সাচ্চাই হাজির হো-এর (২০১৯) মতো দর্শকপ্রিয় সিরিয়ালে। অক্ষয় কুমারের সঙ্গে ২০১৫ সালে বেবি সিনেমায় পুলিশের ভূমিকায় অভিনয়ের পাশাপাশি সঞ্জীব মানি দেওভা ভাব নামের আরেকটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন।

সবশেষ ২০২১ সালে হনাক নামের একটি সিনেমায় কাজ করেন তিনি। ৫১ বছর বয়সী সঞ্জীব ত্যাগীর উচ্চতা ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি। এই প্রতিভাবান অভিনেতা ক্রাইম পেট্রোলে পুলিশ ইন্সপেক্টর চরিত্রে সব থেকে বেশি অভিনয় করাদের একজন। স্ত্রী দীপালি ত্যাগীকে নিয়ে তিনি মুম্বাইয়ে বাস করেন। ক্রাইম পেট্রোলের প্রতি পর্বে অভিনয়ের জন্য সর্বোচ্চ সম্মানীপ্রাপ্তদের একজন তিনি। এ পর্যন্ত তিনি সনি টিভির জনপ্রিয় এই সিরিজের ২৭২টি এপিসোডে অভিনয় করেছেন।

নিসার খান

ক্রাইম পেট্রোলে এ পর্যন্ত পুলিশ ইন্সপেক্টর চরিত্রে যত জন নিয়মিত অভিনয় করেছেন, তাদের মধ্যে সিনিয়র ইন্সপেক্টর আদিল খানের ভূমিকায় থাকা নিসার খানের অভিনয় ক্যারিয়ার সব থেকে দীর্ঘ। ক্রাইম পেট্রোলেও সবচেয়ে বেশি পুলিশ ইন্সপেক্টর চরিত্রদানকারীদের মধ্যে তিনি একজন। ১৯৬৯ সালের ৪ মে তিনি ভারতের পাঞ্জাবের মালেরকোটলায় জন্ম নেন। ৫ ফুট ১১ ইঞ্চি উচ্চতার নিসার খান নব্বইয়ের দশকে তার অভিনয় ক্যারিয়ার শুরু করেন বলিউড সিনেমা দিয়ে। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ছিলো তুম মেরে হো। ২০০০ সালে তিনি জিন্দেগি জিন্দাবাদ নামের সিনেমায় অভিনয় করেন। তবে তিনি আলোচিত হন টিভি সিরিয়াল মহাভারতের দ্রোণাচার্য চরিত্রে অভিনয় করে।

নিসার খান

তার অভিনীত সিনেমা ও চরিত্রগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- লক্ষ্য (২০০৪) সিনেমায় পাকিস্তানী ক্যাপ্টেন বেহরাম খান, ডন (২০০৬) সিনেমায় হাতিম কোরেইশি, রোজ বেড (২০১২) সিনেমায় দিবাকার, ডি-ডে (২০১৩) ও রাব দা ওয়াস্তা (২০১৩) সিনেমায় পুলিশ কর্মকর্তা ও যোধা (২০১৪) সিনেমায় ডিএসপি ডোগরা। এছাড়া ২০১৬ সালে তিনি অক্ষয় কুমার অভিনীত এয়ারলিফট ও ২০২০ সালে অজয় দেবগন অভিনীত তানহাজি সিনেমায় অভিনয় করেন। এর বাইরেও রাম মিলায়ি জোড়ির মতো আরও অনেক সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করেছেন নিসার খান। তিনি অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেছেন ভারতের ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা থেকে। স্ত্রী তাবাসসুম আহমেদকে নিয়ে তিনি মুব্বাই থাকেন। ক্রাইম পেট্রোলে ইন্সপেক্টর আদিল খান চরিত্রে অভিনয়ের জন্য প্রতিপর্বে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্তদের একজন নিসার খান।

মাঙ্গেস দেশাই

ক্রাইম পেট্রোলের দীর্ঘযাত্রায় পুলিশ বাহিনীতে নতুন মুখদের একজন ইন্সপেক্টর সুনীল কেলকার। ‘চার চামাচ চায়ে দিমাগ কি বাত্তি জ্বালায়ে’ জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এই সংলাপ দিয়ে ইন্সপেক্টর সুনীল কেলকার ক্রাইম পেট্রোল পুলিশের অভিনয়ে যোগ করেন নতুন মাত্রা। এই সিরিজে বছর দুয়েক হলেও এই চরিত্রে রূপদানকারী মাঙ্গেস দেশাইয়ের অভিনয় ক্যারিয়ার বেশ দীর্ঘ। তিনি মূলত মারাঠী অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। তার কাজের একটি বড় অংশ কমেডি অভিনেতা হিসেবে। শুরুতে থিয়েটারকর্মী হিসেবে দেখা গেলেও তিনি প্রথম অভিনয় করেন ১১ বছর বয়সে শিশু অভিনেতা হিসেবে।

মাঙ্গেস দেশাই

২০১৬ সালে বিদ্যা বালানের সঙ্গে এক আলবেলা সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য সেরা অভিনেতা হিসেবে ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পান। মাঙ্গেস পড়াশোনা করেছেন ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে। বিএসসি শেষ করে তিনি অভিনয় নিয়ে স্নাতক করেন। এরপর পুরোদমে লেগে পড়েন নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে। ১৯৯৮ সালে মারাঠী ডেইলি সোপ তিসরা ঢোলায় গোয়েন্দা সহকারীর চরিত্র দিয়ে শুরু করেন। এরপর তিনি অবন্তিকা, ঘারকুল, একালতে পলিটিশিয়ান ও বসুধার মতো জনপ্রিয় মারাঠী টিভি সিরিয়ালে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কাড়েন। বাপু ভিরু ভাটেগাওকার নামের মারাঠী সিনেমা দিয়ে তার চলচ্চিত্র যাত্রা শুরু হয়।

এক আলবেলার কথা তো আগেই বলা হয়েছে। সঙ্গে আরও দুই সিনেমার কথা বলতে হয়, যেগুলোর কারণেই মাঙ্গেস দেশাই মারাঠী চলচ্চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে উঠে আসেন। একটি হলো ২০০৬ সালের ডার্ক কমেডি থ্রিলার ব্লাইন্ড গেম ও ২০১৯ সালের অ্যাকশন থ্রিলার লালবাত্তি। এছাড়াও মাস্টার একে মাস্টার, বাবা লাগিন, নিশানে দাভা আঙ্কটা, হুপ্পা হুইয়া, খেল মান্ডলা ও বায়োস্কোপে অভিনয় করেন। আন্তর্জাতিক সিনেমা ফ্রি স্টেটেও গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ২০১৯ সালে মারাঠী ক্রাইম থ্রিলার জাজমেন্ট প্রশংসিত হয় নানা মাধ্যমে, যেখানে মাঙ্গেস এক আইএএস অফিসার অগ্নিবেশ সতমের ভূমিকায় অভিনয় করেন। স্ত্রী শালাকা দেশাই ও সন্তান সাহিল দেশাইকে নিয়ে মুম্বাইয়ে থাকেন এই অভিনেতা।

রাজেন্দ্র শিরশতকর  

পুরাতন থেকে নতুন পুলিশ হিসেবে তালিকা করলে এই নামটি প্রথম দিকেই আসবে। বলা যায় ক্রাইম পেট্রোলের শুরু থেকেই এখন অবধি পুলিশ ইন্সপেক্টর চরিত্রে অভিনয় করছেন রাজেন্দ্র শিরশতকর। তবে সাম্প্রতিক সময়ে করোনাকালে তাকে কম দেখা গেছে সনির জনপ্রিয় এই টিভি সিরিয়ালে। মারাঠী অভিনেতা হিসেবে তার অভিনয়জীবন শুরু হয়। ২০০৮ সালে মারাঠী সিনেমা গালেগালে নিগালে দিয়ে তার চলচ্চিত্রযাত্রা শুরু। সে বছরই মুম্বাই মেরি জান সিনেমায় কনস্টেবল সিন্ধে চরিত্রে অভিনয় করে বলিউডে নাম লেখান তিনি।

রাজেন্দ্র শিরশতকর

২০০৯ থেকে ২০১০ সালে তিনি অভিনয় করেন জনপ্রিয় মারাঠী টিভি সিরিয়াল ভার্চা ক্লাসে। ২০১০ সাল থেকে তিনি ক্রাইম পেট্রোলের ইন্সপেক্টর হিসেবে অভিনয় করে আসছেন। এ পর্যন্ত তিনি দেড়শর বেশি এপিসোডে কাজ করেছেন। এর মধ্যে পুলিশের বাইরে একটি সাধারণ চরিত্রেও তাকে দেখা যায়। ২০১০ সালে শিক্ষানাচা আইসা গো নামের মারাঠী সিনেমায় গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায় তাকে। ১০ বছরে অন্তত ১০টি মারাঠী সিনেমায় অভিনয় করা রাজেন্দ্র মিস্টার অ্যান্ড মিসেস আনওয়ান্টেড (২০১৬) ও সেকশন থ্রি সেভেন ফাইভে (২০১৯) অনবদ্য অভিনয় দিয়ে বলিউডে নজর কাড়েন।

এরপর সুযোগ পান নেটফ্লিক্সের প্রথম সফল ভারতীয় ওয়েব সিরিজ স্যাক্রেড গেমসে। মনোজ বাজপেয়ী, সাইফ আলী খান, নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী ও পঙ্কজ ত্রিপাঠির মতো তারকাদের সঙ্গে সিরিজের দুটি সিজনেই এএসআই ধোবলে চরিত্রে অভিনয় করে আলো ছড়ান তিনি। গেলো বছর তিনি অভিনয় করেন এক থি বেগমে নানা মাত্রে নামের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে।

অভিষেক খান্ডেকার

অভিষেক খান্ডেকার

ক্রাইম পেট্রোলের নতুন এপিসোডগুলোতে এই সিরিজের পুরনো যেসব অভিনেতাকে পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে দেখা যায়, তাদের মধ্যে একজন অভিষেক খান্ডেকার। ৩৯ বছর বয়সী অভিষেক ক্রাইম পেট্রোলে পুলিশ ইন্সপেক্টর ছাড়াও অন্তত ৭টি অন্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

পুলিশ ইন্সপেক্টর রূপদানকারীদের মধ্যে তার পারিশ্রমিকই অন্যদের তুলনায় কম। তবে বলিউডে অভিনেতা হিসেবে তার কাজ কিন্তু কম নেই। যদিও এর অধিকাংশই পুলিশের চরিত্রে।

২০১৮ সালে সত্যমেভ জয়তে দিয়ে বলিউডে তার ডেব্যু হয়। একই বছর সিম্বা সিনেমাতেও অভিনয় করেন তিনি। এরপর চপস্টিক (২০১৯) ও দ্য হোয়াইট টাইগার (২০২১) সিনেমায় অভিনয় করেন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে। এ বছরের ১৬ জুলাই মুক্তির প্রতীক্ষায় থাকা ফারহান আখতারের তুফান সিনেমায় তাকে দেখা যাবে বক্সিং কোচের চরিত্রে।    

গীতাঞ্জলি মিশ্রা

গীতাঞ্জলি মিশ্রা

বাংলাদেশে আশির দশকে খলনায়ক চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করে একজন হঠাৎ করেই নায়ক চরিত্রে অভিনয় করতে শুরু করেন। তিনি প্রয়াত জসিম। সেই সময় তার ব্যাপারে বিনোদন সাংবাদিকরাও খলনায়ক থেকে নায়ক হয়ে ওঠা লিখতেন! আজকাল সেই ধারনারই আর চল নেই। কে খল আর কে নায়ক- তার থেকে মুখ্য হয়ে ওঠে কে কত ভালো অভিনেতা। ভারতেও তাই। তারপরেও জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল সিআইডির অভিজিৎ চরিত্রে আদিত্য শ্রীবাস্তব যখন কাজ শুরু করেন, তখন অনেকেই বলতেন, সিআইডির এক পর্বে তো তিনি খল চরিত্রে অভিনয় করেছেন! সাম্প্রতিক সময়ে সনি টিভির সিরিজ ক্রাইম পেট্রোলেও অনেক চরিত্রাভিনেতাকে পুলিশের ভূমিকায় অভিনয় করতে দেখা যাচ্ছে। গীতাঞ্জলি মিশ্রা তাদেরই একজন।

দীর্ঘদিন ধরে ক্রাইম পেট্রোলে নেতিবাচকসহ নানা চরিত্রে অভিনয় করা এই হিন্দি টেলিভিশন অভিনেত্রী বেশ কয়েকটি পর্বে পুলিশ ইন্সপেক্টরের ভূমিকায় ছিলেন। যদিও শক্তিশালী এই অভিনেত্রীর অন্য অনেকগুলো চরিত্রে ক্রাইম পেট্রোলে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। গীতাঞ্জলি ১৯৮৬ সালের ৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে জন্ম নেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি হিন্দি টিভি সিরিয়ালে অভিনয় শুরু করেন। তার প্রথম সিরিয়াল ছিলো মাটি কি বান্নো। পৃথ্বি বল্লভ, নাগিন ৩ ও বালিকা বধূসহ অন্তত ১০টি সিরিয়ালে তিনি নানা ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ক্রাইম পেট্রোল ছাড়াও কালার টিভির ক্রাইম শো সাবধান ইন্ডিয়াতেও তিনি কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে তিনি আরবাজ খান অভিনীত নির্দোষ সিনেমা দিয়ে বলিউডের বড়পর্দায় নাম লেখান। গেলো বছর আলোচিত লুডু সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি। এছাড়া ওয়েব সিরিজ অভয়-এর দ্বিতীয় সিজনেও দেখা যায় তাকে।

রাজিব কুমার

রাজিব কুমার

গীতাঞ্জলির মতোই রাজিব কুমারও ক্রাইম পেট্রোলে বিভিন্ন সময়ে নানা চরিত্রে অভিনয় করেছেন। এ বছর এসে তাকে পুলিশ ইন্সপেক্টর চরিত্রে রহস্য উদ্ঘাটনে নামতে দেখা যাচ্ছে। রাজিব কুমার মূলক একজন থিয়েটার আর্টিস্ট হিসেবে তার কাজ শুরু করেন। ইন্ডিয়ান স্কুল অব ড্রামা থেকে পড়াশোনা শেষ করে থিয়েটারের পাশাপাশি তিনি মনোযোগী হন টেলিভিশন সিরিয়ালে। সনি টিভির আরেক জনপ্রিয় সিরিয়াল আদালতেও বিভিন্ন চরিত্রে তাকে দেখা গেছে।

সুশীল ত্যাগী

ঋত্বিক রোশন অভিনীত লক্ষ্যসহ (২০০৪) বলিউডের একাধিক সিনেমায় তিনি ছোটখাটো চরিত্রে কাজ করেছেন। কালার চ্যানেলে উড়ান নামের সিরিজে বাবার চরিত্রে তার অভিনয় দারুনভাবে প্রশংসিত হয়। এর আগে শাশ বিনা শাশুড়াল ও শাশুড়াল গেন্দা ফুলের মতো জনপ্রিয় টিভি সিরিয়ালেও দেখা যায়।

সুশীল ত্যাগী

ক্রাইম পেট্রোলে পুলিশ ইন্সপেক্টর চরিত্রে পরিচিত মুখ সুশীল ত্যাগী। শতাধিক এপিসোডে তিনি কাজ করেছেন। তবে অভিনেতার চেয়ে মূলত তিনি একজন প্রযোজক হিসেবে শর্টফিল্ম ও ডকুমেন্টারি ফিল্মের সঙ্গে কাজ করেন।

সি কোয়েস্ট ২০৩২ নামের টিভি শো দিয়ে ১৯৯৩ সালে তার যাত্রা শুরু। ১৯৯৪ সালে ডেড কানেকশন নামের হিন্দি সিনেমায় অভিনয় করেন।

এরপর থেকে তিনি নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে তার ক্যারিয়ার বেছে নেন। ৫০ ছুঁই ছুঁই সুশীল ত্যাগীর উচ্চতা ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি।

সাহিম খান

সাহিম খান

সাহিম খান হচ্ছেন ক্রাইম পেট্রোলের সেই অভিনেতাদের একজন, যিনি ছোট থেকে বড়, ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক সব চরিত্রেই সমানভাবে অভিনয় করেছেন এই টিভি সিরিজে। একই সঙ্গে তার অভিনয় জীবনের উত্থানই হয়েছে এই সিরিজ দিয়ে। মূলত অপরাধী বা ঘটনার শিকারের চরিত্রে বেশি কাজ করলেও সাহিম খান কয়েকটি এপিসোডে পুলিশ ইন্সপেক্টর ও সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টরের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। একটি এপিসোডে তিনি পুলিশ কন্সটেবলের ভূমিকায়ও অভিনয় করেন।

জনপ্রিয় এই সিরিজে তার যে অভিনয়গুলোকে সবচেয়ে জনপ্রিয় হিসেবে ধরা হয়, তার মধ্যে একটি চরিত্র রয়েছে পুলিশ ইন্সপেক্টরের। এক ব্যক্তির অন্তর্ধান রহস্যের কিনারা করতে গিয়ে ছদ্মবেশে এক নারীর স্টকার হিসেবে সেই পর্বের শুরুতে প্রবেশ ঘটে সাহিম খানের। সেই এপিসোডে তার মুখে ‘ময়না, মেরি ময়না’ সংলাপটি দর্শকপ্রিয় হয়। সাহিম খান উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের এক কৃষক পরিবারের ১৯৮৯ সালে জন্ম নেন। অভিনয়ের স্বপ্ন নিয়ে বাড়ি থেকে তার মুম্বাই আসার গল্প যেকোনো সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে।

বলিউডে ২০০৭ সালে আসার পর থেকে স্ট্রাগলিং অ্যাক্টর হিসেবে নানা কাঠখড় পুড়িয়ে ২০১২ সালে সাবধান ইন্ডিয়া নামের টিভি সিরিজে কাজ করার সুযোগ পান। পরের বছরই তার সুযোগ মেলে ক্রাইম পেট্রোলে। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। সে বছরই বলিউডের ক্রাইম থ্রিলার মুভি চেহরা: দ্য আননোন মাস্কে নাম ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ মেলে তার। সিনেমা সুপার ফ্লপ হলেও সাহিম খানের অভিনয় প্রশংসিত হয়।

মঈন আজম খান

এরপর নানা টিভি সিরিয়াল ও সিনেমায় অভিনয় করলেও তিনি পরিচালনার দিকে ঝোঁকেন। ২০১৮ সালে তার পরিচালনায় প্রথম হিন্দি সিনেমা ‘একরাম’ মুক্তি পায়। সিনেমাটি সে বছর কানাডার ক্রিয়েশন ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের পুরস্কার পায়। আর সাহিম পুরস্কৃত হন সেরা অভিনেতা হিসেবে।

মঈন আজম খান

১৯৮১ সালের জানুয়ারিতে জন্ম নেয়া মঈন আজম খান দীর্ঘদিন ধরেই ক্রাইম পেট্রোলে সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টরের ভূমিকায় অভিনয় করছেন। প্রায় দুইশ এপিসোডে তিনি এ যাবৎ অভিনয় করেছেন।

মনিষ রাজ শর্মা

মনিষ রাজ শর্মা

বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় দিয়ে ক্রাইম পেট্রোলে যাত্রা শুরু হয় মনিষ রাজ শর্মার। বছর দুয়েকের মধ্যেই তিনি সিরিজটিতে সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টরের চরিত্রে অভিনয় শুরু করেন। এখন পর্যন্ত প্রায় দুইশ এপিসোডে অভিনয় করেছেন মুম্বাইয়ে জন্ম নেয়া মনিষ।

অনুজ নায়াক

অনুজ নায়ক

ক্রাইম পেট্রোলে সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন অনুজ নায়াক। দুটি এপিসোডে তাকে পদোন্নতি পেয়ে পুলিশ ইন্সপেক্টর হতে দেখা যায়, যেখানে পুরো একটি কেস তদন্ত করতে যান তিনি। ২০১৯ সালে ‘দ্য ফাইনাল কল’ নামের একটি টিভি সিরিজে অভিনয় করেন তিনি।

নিরাজ সিং

সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টর চরিত্রে নিরাজ সিং দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন ক্রাইম পেট্রোলে। ১৯৯৫ সালের ৭ আগস্ট ভারতের দিল্লিতে জন্ম নেয়া নিরাজ ব্যাচেলর ডিগ্রি শেষ করে ২০১১ সালে মুম্বাই আসেন।

নিরাজ সিং

স্ট্রাগলিং অ্যাক্টর হিসেবে বলিউডের অলিগলি ঘুরতে ঘুরতে সে বছরই তিনি ওভার দ্য রেইনবো নামের একটি ছবিতে ছোট চরিত্রে সুযোগ পান। ২০১৩ সালে তিনি ক্রাইম পেট্রোল টিমের সঙ্গে যুক্ত হন। গেলো বছর আয়ুষ্মান খোরানা অভিনীত ‘শুভ মঙ্গল জ্যাদা সাবধান’ ছবিতে অভিনয়ের সুযোগ পান নিরাজ।

রাজদীপ শিকদার

রাজদীপ শিকদার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে বাঙালি পরিবারে জন্ম। সেখানেই বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা। প্রথমে নিজ এলাকায় চাকরিতে ঢুকলেও অভিনয়ের পোকায় তা ছেড়ে পাড়ি জমান মুম্বাইয়ে। দীর্ঘদিন ধরে ক্রাইম পেট্রোলে সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টরের চরিত্রে অভিনয় করছেন।

শশ্বিতা শর্মা

শ্বশ্বিতা শর্মা

গৃহবধূ বা গৃহকর্মী এমন সব চরিত্র দিয়ে শুরু করা শ্বশ্বিতা শর্মা অনেকদিন ধরেই ক্রাইম পেট্রোলে এএ্সআই চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছোটবেলা থেকে গান ও নাচ শিখেছেন। মাস্টার্স করেছেন ইতিহাসে। পরে আবার কত্থক নৃত্যের ওপর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন শ্বশ্বিতা।

মলিনী সেনগুপ্ত

হেট স্টোরি টু, নির্বোধ, সানাম রে ও শামিতাভের মতো বলিউড সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। স্টারপ্লাসে ‘মর্যাদা: লেকিন কাব তাক’ সিরিয়ালের জন্য তিনি স্টার পরিবার অ্যাওয়ার্ডে মনোনয়ন পান। কালার চ্যানেলে ‘কোর্টরুম: সাচ্চাই হাজির হো’ নামের সিরিয়ালে অভিনয় করেও তিনি জনপ্রিয়তা পেয়েছেন।

মলিনী সেনগুপ্ত

সতীশ নাইকড়ি

ভারতের বাঙালি থিয়েটার শিল্পীদের মধ্যে পরিচিত এক নাম মলিনী সেনগুপ্ত। ক্রাইম পেট্রোলে তিনি বিশেষ কিছু এপিসোডে পুলিশ ইন্সপেক্টর হিসেবে অভিনয় করেছেন। বিশেষ করে নারীর বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত অনেকগুলো পর্বে তাকে দেখা যায়। দুটি এপিসোডে এএসপি চরিত্রেও তিনি অভিনয় করেন। বেগুসরাই, চন্দ্রগুপ্তমৌর্য ও আপনা আসমান নামের তিনটি টিভি সিরিয়ালে অবিনয় করেছেন মলিনী। ২০১৭ সালে পঞ্চলায়েত ও ২০১৮ সালে রাধাকিষাণ নামের দুটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

সতীশ নাইকড়ি

সুমন সিং

৪০ বছর বয়সী সতীশ নাইকড়ি দীর্ঘদিন ধরে ক্রাইম পেট্রোলে সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টরের চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চির মারাঠী এই অভিনেতা ক্রাইম পেট্রোলের শুরু থেকেই এই সিরিজে অভিনয় করেন।

সুমন সিং

নয়াদিল্লিতে জন্ম নেয়া সুমন সিং পড়াশোনা শেষ করেছেন গণযোগাযোগ নিয়ে। মুম্বাইয়ে এসে তিনি অ্যাংকরিং ও অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেন। ক্রাইম পেট্রোলে পুলিশের এএসআই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। পাশাপাশি বলবীর, হন্টেড নাইট, শপথের মতো টিভি সিরিজেও কাজ করেন তিনি। স্টার স্পোর্টসে প্রো কাবাডির অ্যাংকরিংও করেন। সুমন সিং ‘কলার বোম্ব’ নামের একটি হিন্দি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। গত ৯ জুন মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।

নম্রতা যাদব

নম্রতা যাদব

ক্রাইম পেট্রোলের আরেকজন অভিনেত্রী যিনি বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে এখন পুলিশের এএসআই চরিত্রে কাজ করছেন। ১৯৯১ সালে জন্ম নেয়া এই মারাঠী অভিনেত্রী পুনে থেকে আইটি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়াশোনা শেষে মুম্বাই পাড়ি জমান। এরপর ক্রাইম পেট্রোল টিমের সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বেশ কয়েকটি দর্শকপ্রিয় মারাঠী সিনেমায় অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে ইয়ারি দোস্তি, ভূতকাল, ওয়েলডান ভাল্যা ও সিপ্রা উল্লেখযোগ্য।

মেলানি নাজারেথ

মেলানি নাজারেথ

মুম্বাইয়ের মেয়ে মেলানি নাজারেথ সনি টিভিতে জনপ্রিয় হন ‘ইয়ে উন দিনো কি বাত হ্যায়’ সিরিয়ালের মাধ্যমে। ২০১৮ সালে তিনি ক্রাইম পেট্রোল টিমে নিয়মিত যুক্ত হন। সাধারণ চরিত্রে কয়েকটি এপিসোডে তাকে দেখা যায়। এরপর পুলিশের এএসআই চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

বিকাশ জৈন

বিকাশ জৈন

ক্রাইম পেট্রোলের আরেক নিয়মিত সহকারী পুলিশ ইন্সপেক্টর চরিত্রে অভিনয় করেন বিকাশ জৈন। ইরফান খানের আলোচিত মাদারি সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি।

অভিষেক কুন্দনিয়া

অভিষেক কুন্দনিয়া

ক্রাইম পেট্রোলে তিন বছর ধরে এএসআই চরিত্রে অভিনয় করছেন অভিষেক কুন্দনিয়া। হিমাচল প্রদেশে জন্ম। সেখানেই বেড়ে ওঠা। মুম্বাইয়ে অভিনেতা হতে গিয়ে ক্রাইম পেট্রোল টিমে সুযোগ পান।

পঙ্কজ উপাধ্যায়

পঙ্কজ উপাধ্যায়

ক্রাইম পেট্রোলে সাধারণ চরিত্র থেকে শুরু করে পুলিশের এসআই হয়ে ইন্সপেক্টর অবধি সব চরিত্রেই সমানতালে অভিনয় করেছেন পঙ্কজ উপাধ্যায়। বলিউডেও তিনি সমান পরিশ্রমী অভিনেতা হিসেবে পরিচিত। উত্তরপ্রদেশের গোরাখপুরে ১৯৭৬ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্ম নেয়া এই অভিনেতা পড়াশোনা শেষ করেছেন বাণিজ্যে। কলেজ জীবন থেকেই থিয়েটারে যুক্ত হন।

পুনিত চান্না

অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখিও করেন তিনি। ২০০৩ সালে মুম্বাই পাড়ি জমান। ২০০৫ সালে উর্মিলা মাতন্ডকার অভিনীত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার নয়নাতে সামান্য সময়ের ছোট্ট একটি চরিত্রে অভিনয় করেন। খল অভিনয় দিয়ে তার টিভি ক্যারিয়ার শুরু হয়। ২০১৭ সালে হার্টবিট ও বাবুমশাই বন্দুকবাজ দিয়ে অভিনেতা হিসেবে বলিউডে নিজেকে পরিচিত করান তিনি। এরপর কাজ করেছেন বেতাল (২০২০) নামের সিনেমায়।

পুনিত চান্না

ক্রাইম পেট্রোলের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ অভিনেতা, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এই টিভি সিরিজে একের পর এক নানা চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন। সাধারণ চরিত্রে বেশি অভিনয় করলেও বেশ কয়েকটি এপিসোডে তাকে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যায়। রাজস্থানে জন্ম নেয়া পুনিতের বেড়ে ওঠাও সেখানে। পড়াশোনা শেষে চার্টার্ড অ্যাকাউন্টান্ট হিসেবে পেশাজীবন শুরু করেন দিল্লিতে। পরে সেখান থেকে মুম্বাই পাড়ি জমান তার অভিনেতা হবার ইচ্ছা থেকে। মুম্বাইয়ে তিনি ভর্তি হন অনুপম খেরের অ্যাক্টর বিল্ডিং ইন্সটিটিউটে। সেখানে তিনি অভিনয় ও নাচ শেখেন। ২০১৪ সালে ‘ভানগড়’ নামের একটি হরর সিনেমায় কাজ করার সুযোগ পান তিনি। এরপর অভিচি (২০১৭) ও হানাক (২০২১) নামের দুটি সিনেমায় অভিনয় করেন তিনি।