grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে না এলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি করুণ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। আর তাতে করে বিপদে পড়তে হবে বলেও জানিয়েছেন অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

রোববার (১১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতর আয়োজিত ভার্চুয়াল বুলেটিনে এ শঙ্কার কথা জানান তিনি।

অধ্যাপক রোবেদ আমিন বলেন, ‘বর্তমান ভ্যারিয়েন্টের মাধ্যমে মৃত্যু শুধু বয়স্ক মানুষের হচ্ছে না, তরুণদেরও হচ্ছে।’

বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে সব জেলাতেই করোনা ছড়িয়ে পরেছে এবং সংক্রমণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়ে যাচ্ছে, সঙ্গে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঢাকা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর সংখ্যা ৭০ জন, চট্টগ্রামে ২০ জন ও রাজশাহীতে ১৩ জন, খুলনায় ৫১ জন মারা গেছেন। শনাক্তের হার ঢাকায় ৪৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ১৮ দশমিক ২৯ শতাংশ, খুলনায় ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনায় রোগীর চাপ বাড়ছে।’

অধ্যাপক রোবেদ আমিন আরও বলেন, ‘গত মাসে সারা দেশে সংক্রমণের হার অনেক বেশি ছিল। জুন মাসে এক লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন রোগী সংক্রমিত হয়েছেন। শুধু জুলাইয়ের প্রথম ১০ দিনে প্রায় এক লাখ রোগীকে সংক্রমিত হতে দেখতে পেয়েছি। আমরা যেভাবে সংক্রমিত হচ্ছি, হাসপাতালে রোগীর চাপ যদি বাড়তেই থাকে, আগামী সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যে হাসপাতালের শয্যা আর খালি থাকবে না। সারাদেশে গত মাসেও অসংখ্য বেড খালি ছিল, আইসিইউ বেড খালি ছিল। সেই খালি বেডের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। বর্তমানে সারাদেশে মাত্র ৩০০ এর মতো কোভিড-১৯ আইসিইউ বেড খালি আছে।’

তিনি বলেন, ‘সারাদেশে লকডাউন চলছে। লকডাউন সফল করতে পুলিশ এবং বিজিবির পাশাপাশি সেনাবাহিনীও মাঠে রয়েছে। কিন্তু আমরা লক্ষ্য করেছি— জরুরি প্রয়োজন ছাড়াও অনেকে বাইরে বের হচ্ছেন।’

আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে যদি আমরা করোনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি, পরিস্থিতি অত্যন্ত করুণ হয়ে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘সংক্রমণের হার এভাবে চলতে থাকলে এক দিনে ১৫ হাজার শনাক্ত হতে বেশি সময় লাগবে না। আর তাতে করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সবাইকে বিপদে পড়তে হবে।’