grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

কী হতে পারতো না পারতো, খেলা শেষে আসলে তা মূল্যহীন। ফুটবলে শেষমেশ গোলই আসল, আর তার থেকে আসল কথা হলো ফল। কিন্তু তারপরেও খেলা শেষে কিছু ‘যদি’ ‘কিন্তু’র হিসাব মেলাতে বসতেই হয়। সেই বৈঠকে যদি কোপা আমেরিকার ফাইনালে ৮৬ মিনিটের কথা আসে? বক্সের ভেতর থেকে গাবির সেই গোলমুখী শটটা যদি জাল খুঁজে পেতো? তা পায়নি বলেই দিন শেষে ১-০ গোলে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর যার কারণে ব্রাজিল যদি কিন্তুর হিসাবে আটকে গেলো, সেই মানুষটি এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। বলটা ফিস্ট করে বারপোস্টের উপর দিয়ে উড়িয়ে তিনি শুধু গোলই বাঁচাননি, বহুদিন পর আর্জেন্টিনাকে পাইয়ে দিয়েছেন এক প্রহরী, যার ওপর আস্থা রাখা যায়!

নেইমারের ফ্রিকিক, ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল গাবির পায়ে। এরপরই সেই দুর্দান্ত সেভ।

মার্টিনেজ শুধু এই এক খেলায় আর্জেন্টিনাকে তো বাঁচাননি! ফাইনালে নিয়েও তো এসেছেন তিনি। কলম্বিয়ার বিপক্ষে ট্রাইবেকারের সেই অনবদ্য পারফরম্যান্স খুব সহজেই কি ভোলা যাবে? কোচ স্কালোনি তো ওই ম্যাচের পরেই বলেছেন, ‘আমাদের যেমন লিও (মেসি) আছে, তেমনই এমিও (মার্টিনেজ) আছে।’

অথচ এই জাতীয় দলেই তিনি ছিলেন সাইডবেঞ্চে। ফ্রাঙ্কো করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হবার কারণেই তো তার সুযোগ হলো গোলবারের নিচে দাঁড়ানোর। বাকিটা তো ইতিহাস। শুধু দলের জয়েই ভূমিকা রাখেননি, নিজেও অর্জন করেছেন টুর্নামেন্টের সেরা গোলরক্ষকের খেতাব।

ক্লাব ফুটবলেও তো কম লড়েননি আর! আর্সেনালে কাটিয়ে অ্যাস্টন ভিলায়ও খেলছেন লড়াই করেই। ব্যক্তিজীবনেও লড়াই তার কম নয়। নিজের পরিবারের আর্থিক অনটন এতটাই ছিলো যে, তার বাবা বাড়ির বিদ্যুৎবিলও পরিশোধ করতে পারেননি! খাওয়া-পরার কষ্ট তো ছিলোই!

আজ সেই মার্টিনেজ হিরো। আর্জেন্টিনার যে দুশ্চিন্তা বারবার পিছু ধাওয়া করতো সেই ডিফেন্সের লাস্ট লাইনটা এখন অনেক বেশি বিশ্বস্ত তারই কারণে। কোপার পর তাই বিশ্বকাপ নিয়ে আর্জেন্টিনা স্বপ্ন দেখতেই পারে!