grand river view

।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

ছবি শেষ হওয়ার সঙ্গে বাতি জ্বলে উঠলো সাল দুবুসি অডিটোরিয়ামের। তার আগেই শুরু হলো মুহুর্মুহু করতালি। আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে গেলো হলের প্রতিটি মানুষ। সামনের সারিতে বসে থাকা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ নির্মাতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ ভাসলেন করতালির ঢেউয়ে আর পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ডুবু ডুবু অবস্থা আজমেরী হক বাঁধনের।

অডিটোরিয়ামের ভিডিও আর ছবি থেকে অন্তত সেটাই অনুমান করা যায়। প্রিমিয়ার শেষে ছবির প্রধান চরিত্র আজমেরী হক বাঁধন বলেন, ‘গতকাল রাতেও আমরা হোটেলে বসে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। বাংলাদেশের ছবি কে দেখতে আসবে? কারণ, বাংলাদেশ বা আমাদের সিনেমা এখানকার ক’জন মানুষই বা চেনে। খবর নিয়েছি হলটাও অনেক বড়। ১ হাজার আসন! আমাদের ধারণা ছিল শ’খানেক মানুষ আসবে! কিন্তু সকল ধারণা ভুল প্রমাণ হলো। জনসমুদ্র পেলাম ছবি শুরুর আগেই।’

আরও বলেন, ‘শুটিংয়ের পর আমি প্রথম ছবিটি দেখলাম। ফলে এই দেখাটা আমার জন্য আরও অন্যরকম আনন্দ আর বেদনার। কারণ, পর্দায় ছড়িয়ে থাকা রেহানার বেদনাটি আমাকেও ঘিরে ধরেছিল। কিন্তু ছবি শেষ হওয়ার পর সবার এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়া, আমাদের দিকে তাকিয়ে ননস্টপ করতালি দেয়া- এসব দেখে আমি আর নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। টানা কতক্ষণ করতালি চলেছে সেটার হিসাব না জানলেও, এত দীর্ঘ মুহুমুর্হু করতালি আমি আর শুনিনি।’

স্থিরচিত্রে দেখা যাচ্ছে, কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন বাঁধন, তাকে থামানোর চেষ্টা করছিলেন পাশে দাঁড়ানো সাদ। সাদের মুখে লেগে ছিল করতালির বিপরীতে সৌজন্যতার হাসি।

বুধবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ সময় বিকাল সোয়া ৩টায় ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর প্রথম প্রিমিয়ার হয় কানের পালে দো ফেস্টিভাল ভবনে। এতে দর্শক সারিতে পাশাপাশি বসেছেন ছবিটির পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ, অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন, সিঙ্গাপুরের প্রযোজক জেরেমি চুয়া, চিত্রগ্রাহক তুহিন তমিজুল, প্রোডাকশন ডিজাইনার আলী আফজাল উজ্জ্বল, শব্দ প্রকৌশলী শৈব তালুকদার, কালারিস্ট চিন্ময় রয় এবং নির্বাহী প্রযোজক এহসানুল হক বাবু।

এদিন ছবিটি দেখে প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন দেশের সংবাদকর্মী এবং মার্শে দু ফিল্মে অংশগ্রহণকারী ফিল্ম প্রফেশনালরা।

ছবি শেষে আজমেরী হক বাঁধন উপস্থিত সাংবাদিকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় জানান, ‘এটি আমাদের দেশের জন্য বড় অর্জন। কান উৎসবে এসে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে পেরেছি এটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয়। এখানে সবাই এত প্রশংসা করছে আমাদের, বাংলাদেশের ছবি নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছে, এগুলো শুনলে বুকটা ভরে ওঠে।’

বলা দরকার, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনও ছবি কান উৎসবে অফিসিয়াল সিলেকশনের আঁ সার্তে রিগায় স্থান পেয়েছে।

ছবিটির চিত্রনাট্য ও সম্পাদনা করেছেন নির্মাতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদ নিজেই।

একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক রেহানা মরিয়ম নূরকে কেন্দ্র করে এর গল্প। কর্মস্থলে ও পরিবারে তাল মেলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাকে। কারণ, শিক্ষক, চিকিৎসক, বোন, কন্যা ও মা হিসেবে জটিল জীবনযাপন করেন তিনি।

১ ঘণ্টা ৪৭ মিনিট ব্যাপ্তির ছবিটিতে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন আজমেরী হক বাঁধন। এছাড়া বিভিন্ন চরিত্রে আছেন সাবেরী আলম, আফিয়া জাহিন জায়মা, আফিয়া তাবাসসুম বর্ণ, কাজী সামি হাসান, ইয়াছির আল হক, জোপারি লুই, ফারজানা বীথি, জাহেদ চৌধুরী মিঠু, খুশিয়ারা খুশবু অনি, অভ্রদিত চৌধুরী।

আয়োজকরা জানিয়েছে, সাল দুবুসিতে আগামীকাল বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে ‘রেহানা মরিয়ম নূর’-এর আরেকটি প্রদর্শনী হচ্ছে। এরপর বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায় কান শহরের মাল্টিপ্লেক্স সিনেয়ুম অরা’য় ছবিটি দেখানো হবে।

১৬ জুলাই আঁ সার্তে রিগায় বিভাগের ‘বেস্ট পারফরম্যান্স’ স্বীকৃতির ঘোষণা আসছে। বাঁধনের অসামান্য অভিনয়ের সুবাদে বাংলাদেশের ছবিটি এই পদক পেলেও পেতে পারে বলে মনে করছেন কানে অংশ নেয়া অনেক ফিল্ম প্রফেশনাল।