grand river view

।। আরাফাত ই কামাল, রাজশাহী ।।

বছর কয়েক আগে বেশ কিছু পাখি কিনে বাড়িতে এনেছিলেন মাসুম রেজা। বাড়িতে আসার পরেই ঘটে বিপত্তি। পরিবারের সদস্যরা এই পাখি কেনাকে মেনে নিতে পারেননি। পড়তে হয়েছিল বাধার মুখে। মাসুম রেজা দমার মানুষ নন, বুঝিয়ে ছিলেন পরিবারকে। তার পরিবারের সদস্যের কোনো ধারণা ছিল না পাখি পালন করেও আয় করা সম্ভব।

প্রথমে মাসুম বাজরিকা ও ডায়মন্ড ঘুঘু দিয়ে ব্যবসা শুরু করেন। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাখির সংখ্যাও বাড়তে থাকলো। বর্তমানে সেগুলো ছাড়াও লাভ বার্ড, ককাটেল, রিং নেট, লরি, সান কনুর প্রায় ৩০০ পাখি নিয়ে খামার গড়ে তুলেছেন তিনি।

নওগাঁর মাসুম রেজা তাঁর খামারে বসে শোনালেন খামারি হওয়ার গল্প। পাখি পালন শখ থেকে শুরু হলেও এখন পুরো ধ্যানজ্ঞান পাখিদের নিয়ে। খামারকে ঘিরেই যেন আয়ের পথ খুলেছে তার। মাসুম রেজা জানালেন সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে অবসর নেয়ার পরে নিজেই কিছু করার ইচ্ছে ছিল।

মাসুম বলেন, এখন আশপাশের লোকজন ছাড়াও দূরের ক্রেতারা আসছেন পাখি সংগ্রহ করতে। আমার ইচ্ছে ছিল চাকরির পর নিজে কিছু করবো, উদ্যোক্তা হবো। এখন আমি উদ্যোক্তা। আমার মনে হয়, উদ্যোক্তা হতে ইচ্ছেটাই আসল।

নওগাঁ জেলার পত্নীতলা থানার গগনপুর গ্রাম নিজ বাড়ির ছাদে পাখির খামার করেছেন মাসুম রেজা। বর্তমানে তার খামারে ৮০ পেয়ার, লাভ বার্ড, ককাটেল ৪০, পেয়ার টিয়া/রিংনেক ৫০ পেয়ার, লরি ২ পেয়ার, সান কনুর ৫ পেয়ার পাখি রয়েছে।

তিনি বলেন, গ্রামে বসবাস করার জন্য পাখি পালন করাটা কষ্টের। শহরে থাকলে অনেক ধরনের সুযোগ মিলতো। তারপরও আমি দমে যাইনি। নিজের খামার গড়ে তুলেছি।

তিনি জানান, পাখি বছরে ৩ বার ব্রিড করে। কিছু পাখি নিয়ে আসার পর সেগুলো ডিম না দিলে সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তখন নিজের মানসিকতা ও উদ্যোম দুটোই হারাই। তবে ভেঙে পড়লে চলবে না। নতুনভাবে শুরু করতে হবে। পাখি পালনের ক্ষেত্রে ছোট পাখি দিয়ে শুরু করা ভালো পরে ধীরে ধীরে পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।

তরুণ উদ্যোক্তার উদ্দেশে মাসুম রেজা বলেন, পাখি পালনের সফলতা অর্জন করতে হলে প্রথমে ছোট পাখি দিয়ে ব্যবসাটা শুরু করা প্রয়োজন। এতে ঝুঁকি কম, আয়ের উৎসও ভালো। এই পেশায় যে আসবে তার ক্ষতি কোনো হবে না বরং আয় হবে।