grand river view

।। সাদিয়া রহমান মৌ, রাজশাহী ।।

করোনা মহামারির এই দুঃসময়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। অনেক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন দিন আনে দিন খায় এমন মানুষ। দেখা দিয়েছে পর্যাপ্ত খাবার ও অর্থের সংকট। এই অবস্থায় অসহায় ও কর্মহীন মানুষকে সাহায্য করার জন্য কিছু মানবদরদী তরুণ কাজ করছেন রাজশাহীতে। তারা Fight Against COVID-19 নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে চালু করেছেন ‘দুই পট চাল ও ৪০ টাকা’ প্রকল্প। অল্প পরিমাণ চাল ও টাকা কেউ দিতে না করবে না—এই ভাবনা থেকেই তাদের এই উদ্যোগের শুরু। সংগ্রহ করা চাল ও টাকা দিয়ে তারা অসহায় মানুষদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

মানুষ মানুষের জন্য

করোনায় চারিদিকে মানুষের নাজেহাল অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে রাজশাহীর লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা মোহাম্মদ তালহার মাথায় একটি ফেসবুক গ্রুপ খোলার চিন্তা আসে। চায়নায় থাকাকালীন করোনার ভয়াবহতা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। আর নিজের শহরে এই অবস্থা দেখে তিনি ভাবতে থাকেন কীভাবে মানুষকে সাহায্য করা যায়। মূলত মানুষকে সাহায্য করার উদ্দেশ্যেই তিনি এই গ্রুপ খোলেন।

গ্রুপ খোলেন পরিচিত কিছু মানুষকে নিয়ে। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে গ্রুপটি সবার নজরে আসে। বেড়ে যায় জনপ্রিয়তা। গ্রুপের কার্যক্রমও আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে। গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা বর্তমানে ১৭ হাজারেরও বেশি।

গ্রুপে চ্যালেঞ্জার্স (স্বেচ্ছাসেবক) হিসেবে কাজ করছেন অনেকেই। এর মধ্যে রক্তিম আকিব, তমাল রহমান, আলিফের নেতৃত্বে গ্রুপের চ্যালেঞ্জার্সরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দুই পট চাল ও চল্লিশ টাকা সংগ্রহ করছেন। সেই সংগৃহীত সামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন কর্মহীন ও অসহায় মানুষদের কাছে।

প্রতিদিন শহরের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে চলছে এই চাল ও টাকা সংগ্রহের কাজ। কোনোদিন এর পরিমাণ বেশি থাকে আবার কোনোদিন কম।

গ্রুপের অন্যতম চ্যালেঞ্জার্স তামান্না মুস্তারী বলেন, যে পরিমাণ মানুষ এখন অসহায় হয়ে পড়েছে সবাইকে সাহায্য করা আমাদের একার পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা চেষ্টা করছি অন্তত কিছু মানুষকে সাহায্য করার। যাদের সামর্থ্য আছে তারা যদি এই কাজে কিছুটা সহযোগিতা করেন তাহলে আমরা লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারবো।

মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন রাজশাহীর এক দল তরুণ

গ্রুপটিকে সক্রিয় করে তোলা মোটেও কয়েকদিনে সম্ভব হয়নি। এর জন্য যেমন সময়ের প্রয়োজন তেমনি দিতে হয়েছে শ্রম। আর এই গ্রুপ দাঁড় করানোর জন্যও সবসময় কাজ করে চলেছেন কিছু মানুষ। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রেড ক্রিসেন্ট রাজশাহী জেলা ইউনিটের যুব প্রধান সাদিয়া অর্চি, সাংবাদিক মেহেদি হাসান সাগরসহ অনেকে।

তারা ঈদ-উল-ফিতরের সময় দুস্থদের ঈদের জামা ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। তবে গত কয়েকদিনের লকডাউনে যখন সাধারণ মানুষ খাদ্য সংকটে তখন প্রতিদিন শতাধিক খাবারের প্যাকেট পৌঁছে দেন প্রকল্পের চ্যালেঞ্জার্সরা। পাশাপাশি ইমার্জেন্সি ফুড সার্ভিস ও ব্লাড ম্যানেজমেন্টের কাজও করে যাচ্ছেন তারা।

চ্যালেঞ্জার্স গ্রুপের সদস্যরা জানান, করোনা বর্তমানে যে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে সেখানে গ্রুপের মাধ্যমে যদি কিছু মানুষের উপকার হয় তবেই তারা সফল হবেন।