grand river view

।। জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

চোখের সামনেই শ্বাসকষ্টের ছটফটানিতে বাবা মজিবুর রহমানের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালে আনতে দেরি হওয়ায় হয়নি তার ন্যূনতম চিকৎসাও।

সোমবার দুপুরে মৃত্যুর পর মরদেহ নওগাঁয় নিয়ে যেতে মা আর মামা যান অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজে। তখন স্ট্রেচারে থাকা বাবার মরদেহ আগলে রাখে ৭ বছর বয়সী শিশু সন্তান মরিয়ম। করোনা উপর্সগ, তাই শেষবারের মত বাবার শরীর ছোঁয়ার অনুমতিও নেই তার। সেকারণে পাশে বসে শিশুটি কাঁদছিলো অঝোরে। আর রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের পাশের সেই হৃদয়বিদারক দৃশ্য মোবাইল ফোনের দৌলতে সামাজিক যোগাযোগে হয়ে যায় ভাইরাল।

শিশুটির চাচা সাদেকুল ইসলাম জানান, তার ভাই নওগাঁর সাপাহার উপজেলার জবাইবিল গ্রামের মজিবুর রহমান। সাইকেলে করে পাড়া মহল্লায় ঘুরে ঘুরে মনোহারি পণ্য বিক্রি করতেন। পাঁচ সদস্যের পরিবারে তিনি ছিলেন একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি। গত দিন সাতেক আগে জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হন। সেটি সিজনাল ইনফ্লুয়েঞ্জা ভেবে কোন ধরণের চিকিৎসা গ্রহণ করেননি।

সাদেকুল বলেন, “সোমবার শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে আনা হয় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ভর্তির আগেই জরুরি বিভাগের পাশে মৃত্যু হয় তার।”

স্বজনেরা জানান, মরিয়ম সবার ছোট। তার এক ভাই ও বোন রয়েছে। উর্পাজনকারী একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে বিপাকে পড়েছে পরিবারটি। মরদেহ গ্রামে নিয়ে দাফন করলেও তারা এখন ভবিষ্যত নিয়ে নিদারুণ অনিশ্চয়তায়।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, এখন উত্তরবঙ্গে করোনাভাইরাস সংক্রমণের মহামারি চলছে। গ্রামে গ্রামে করোনা উপর্সগ জ্বর, সর্দি-কাশির প্রাদুর্ভাব। প্রান্তিক মানুষেরা এ বিষয়গুলোর তোয়াক্কা করছেন না।

চিকিৎসকদের উদ্বেগ, করোনা উপর্সগ থাকলেও গ্রামের মানুষ সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা ভেবে চিকিৎসা বা ন্যূনতম পরীক্ষাতেও আগ্রহী হচ্ছে না।