মামার বাড়ির জামগাছ

কিলবিল পোকাটা মাথায়, রাস্তার জটলায় লীন,

বামে ডানে রৈ’ এর মহীসোপান, বাদামী পায়ের পাতা গো আয়েশে ফেনা মেখে ডুবে যেও, খৈ’র মানুষ, আমের বাটিতে সুখ পেও

কার্তিক মাসের খবরে, তোমাকে খুঁজতে যায় গাধাগুলো বাড়ির পেছনে, শ্বাসপোড়া কয়লার স্তূপে, ছাইপাশ ঘেঁটে, উদ্ধার হয় কিছু বিকল কলকব্জা, আবেগের, অনতিদূরেই কান-খিল শব্দ করছে শত ড্রেজার ও হ্যামার

সুনসান খুঁজে খুঁজে তুঘলকে যাই, প্রতিদিন, সেখানে বাজারে ভোদরের নামে নাচে কেউ আনন্দময়ী, তাঁর দিকে ছুঁড়ি মারি মহাশূন্যের সুরি, বুমেরাং ফিরে আসে ড্রাগনের লালা, স্মৃতি ও বিম্ব আর মামার বাড়ির জামগাছ, ডালভরা শালিখ পাখি

চিতই পিঠার দোকান

মহিলা পিঠা বানায়, পুরুষটা বেচে, এই ব্যষ্টিক অর্থনীতিতে তারা এক অপরের সমযোগী, মহিলাটি আগুনের উপরে, পুরুষটি টাকার ছালায়, এবং দুজনেই রাস্তার পাশে, চিতই পিঠার দোকান চালায়, সংগ্রাম করে জীবনের একটি রেখায়

মহিলাটি চালকুটে, খড়ি কাটে, বাসন মাজে; পুরুষটি মাথা কুটে, ঠোঁঠ চাটে হিসাবের কাজে

শহরে শীত এলেই, মোড়ে মোড়ে দেখা যায়, মনোহর পিঠার দোকান, সেখানে সমতা নিয়ে কাজ করে দাদা আর পরম সুখী জীবনের সব বৌঠান

একটা পচা আপেল

একটা পচা আপেল তোমার কী হয়, এই প্রশ্ন করি না, মনেই রাখি; কারণ এটা কোনো প্রশ্ন না

তাই কেবল মনেই থাকে, মনে মনে বড় হয় সে, মনের মধ্যে এক ড্রেইনে ভাসতে ভাসতে নাই হয়ে যায় একদিন, ড্রেইনের মধ্যে পোড়ামবিলের মতো জলে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায় না; তারপরও মনে হয়ই, সে বোধহয় লার্ভা বা কোনো গুইসাপ, তাঁর মুখের বিষলালা গায়ে পড়লে ঘা হয় মানুষের, সে সাপের ডিম খেতে খেতে খোয়ারের মুরগির ডিমে মুখ দেয়, সে ভয়ানক, সে বেঈমান, আর সে জন্যেই সে মনের নদীর সাদা জলে সোনার মাছের বদলে ড্রেইনের নর্দমায় ডুবে যায়

অলংকরণ শিবলী নোমান