grand river view

।। শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ।।

অতিমারি করোনাকালে নিজের লেখালেখির পাশাপাশি কবিতার নতুন পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করেছেন কবি ও প্রাবন্ধিক শিবলী মোকতাদির। উত্তরকালের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন এই সময় কীভাবে তার লেখালেখিতে প্রভাব ফেলছে সে-কথাও।

‘বর্তমানে কি লিখছেন, নতুন পাণ্ডুলিপি নিয়ে কোনো পরিকল্পনা আছে?’ জানতে চাইলে শিবলী মোকতাদির বলেন, শিল্প কোনো সুখ নয়, সান্ত্বনা নয়, কিংবা আমোদও নয়। শিল্প একটি মহৎ ব্যাপার। শিল্প মানবজীবনের এমন এক অঙ্গ—যা মানুষের যুক্তি-নির্ভর উপলব্ধিকে অনুভূতিলোকে সঞ্চারিত করে। একজন সামান্য শব্দশিল্পী হয়ে এটুকু বুঝি, কবিতার জন্মই হয় মানবমঙ্গলের জন্য। এবং তা নিহিত থাকে মানবমিলনের মধ্যে। কবিতার লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রচলিত বলের, শাসনের পরিবর্তে আমাদের মনে প্রেমের রাজ্য সংস্থাপন করা। কবিতা প্রসঙ্গে চেনা এ কথাগুলো বলার অর্থই হলো—গদ্য, গল্প, প্রবন্ধ, নিবন্ধ যা-ই লিখি না কেন কবিতাই আমার প্রথম ও শেষ প্রেম।

‘এই সময় কী করে কাটছে আপনার, কি পড়ছেন?’ এমন জিজ্ঞাসায় তিনি বলেন, অতিমারির অত্যাচারে প্রায় বন্দি হয়ে পড়েছি আমরা সকলেই। যে যার গোত্রে, বলয়ে। সীমাহীন ক্ষতির মধ্যেও লাভের এক আনা পড়েছি—অনেক এই সময়টাতে। বিশেষকরে গত দশ বছরের ঘানিভাঙা খাঁটি ঝাঁজের নির্ভেজাল কবিদের সৎ কবিতাগুলো। কবিতা আমাকে আয়ু দেয়, আলো দেয়, স্নেহ দেয়। সকল কুসংস্কার, ভয়-ভীতি ভেঙে সে আমাকে দাঁড় করায় আমার আকাঙ্ক্ষার সামিয়ানার নিচে। কবিতা লিখতে বসেই হয়ে উঠি স্বদেশপ্রেমাত্মক, কামোদ্রেককারী। আমার সকল সারাল্য, সকল স্বচ্ছতা নেমে আসে কবিতায় পুষ্পৃবষ্টি হয়ে।

তিনি বলেন, কবিতার বিশেষ কোনো ভ্রান্তজালে জড়াতে চাই না আমি। পড়ন্ত হৃদয়েও অন্বেষণ করি কবিতার মুক্তির নতুন নতুন পথ। সেরকমই কিছু কবিতা নিয়ে আয়োজন করে রেখেছি কবিতার পাণ্ডুলিপি। প্রকাশক সাড়া দিলে ছাড়পত্র দিতে পারি।

তিনি আরো বলেন, মারি, অতিমারি, মহামারি—যা-ই বলি না কেন, সময়ের হাত ধরেই এসেছে সে দানব। যাচ্ছেতাই ভাবে শায়েস্তা করে যাচ্ছে আমাদের। এতটা হৃদয়হীনা! ভাবতেই শিউরে উঠি। তবু যতক্ষণ শ্বাস ততক্ষণই আশ। পড়ছি পুরাণ আর ইতিহাস।

‘করোনা মহামারি কতটুকু প্রভাব ফেলছে আপনার লেখায়?’ এমন প্রশ্নে এই কবি বলেন, করোনার দমবন্ধ করা করুণ বাতাসে শ্বাস নিয়ে নতুন কিছু লিখতে গিয়ে বুঝতে পারছি—কোথাও কেউ আটকে ধরছে আমার কলমকে। উপলব্ধি হচ্ছে—পূর্বগামী কবি-সাহিত্যিকদের চিন্তাধারা যদি আপন চিত্তে গ্রহণ করার ক্ষমতা এবং অন্যের চিত্তে আমার নিজস্ব চিন্তাধারা সঞ্চারের ক্ষমতা না রাখি তবে তো মানুষ থেকে অচিরেই বন্য পশুর কাতারে চলে যাব আমরা। জানি, কোথাও কেউ একজন আছেন। সকল আর্জি তার কাছে—তুমি রক্ষা করো, শৃঙ্খলে পৃথিবীকে ফের শুদ্ধ করে তোলো। 

প্রসঙ্গত. কবি ও প্রাবন্ধিক শিবলী মোকতাদিরের জন্ম বগুড়ায় ১৯৬৯ সালের ১১ জুন। তাঁর প্রকাশিত কবিতার বই: ধানের রচনা দিলে পত্রে, নিষিদ্ধ পুষ্টির কোলাহল, সোনার কার্তুজ, ব্যবহারিক বিস্ময়, দুর্ভিক্ষের রাতে, কায়া ও কৌতুকী, লুপ্ত সভ্যতার দিকে, অন্ধের ওস্তাদি। প্রবন্ধগ্রন্থ: ছন্দের নান্দনিক পাঠ, ছন্দকথা এবং মুক্তগদ্যের বই রৌদ্রবঞ্চিত লোক। লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন কবি আব্দুর রউফ স্মৃতি সাহিত্যপদক (২০১১), কবি কাজী রব স্মৃতি পুরস্কার (২০১২), বগুড়া লেখক চক্র স্বীকৃতি পুরস্কার (২০১২), কবিকুঞ্জ পদক (২০১৯) এবং লোক লেখক সম্মাননা (২০২০)।