grand river view

।। সাদিয়া রহমান মৌ, রাজশাহী ।।

আব্দুর রউফ রাফি দশম শ্রেণির ছাত্র। পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময় পাড়ার এক বড় ভাইয়ের টেবিলে সে কিছু বিদেশি কয়েন দেখতে পায়। পরে জানতে পারে এগুলো হচ্ছে ইন্দোনেশিয়ান ডাবল মেটাল কয়েন। দেখে মনে হয় এমন কয়েন যদি তারও সংগ্রহে থাকে ব্যাপারটি মন্দ হয় না। সে একটি কয়েন চেয়ে নেয়। সেখান থেকেই বিদেশি কয়েনের প্রতি তার আগ্রহ এবং সংগ্রহের শুরু।

রাজশাহীর কাজীহাটার আব্দুর রাজ্জাক এবং আফিয়া বেগমের ছোট ছেলে রাফি। রাফি পড়াশোনা করে শিমুল মেমোরিয়াল নর্থ সাউথ বিদ্যালয়ে।

প্রথমদিকে রাফির মা এসব পছন্দ করতেন না। এত শখ থাকতে কয়েন সংগ্রহ, এ কেমন কথা। রাফি ছোট থেকেই অত্যন্ত দূরন্ত। যা করতে বলা হয় করে তার উল্টো। তাই রাফির মা ছেলের এই আগ্রহ দেখে আর বাধা দেননি।

প্রায় পাঁচ বছর ধরে রাফি তার এই কয়েন সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন৷ আত্মীয়-স্বজন কিংবা পাড়া-প্রতিবেশী কেউ বিদেশ থেকে আসলে রাফি সেখানে হাজির হয়ে যান। তার মাথায় চিন্তা থাকে কীভাবে বিদেশি কয়েন বা টাকা নেয়া যায়।

রাফির কাছে রয়েছে ৩৮টি দেশের কয়েন ও টাকা। সবমিলিয়ে কয়েন ও টাকার সংখ্যা প্রায় ২০০। এর মধ্যে রয়েছে মালোয়েশিয়া, ব্রুনাই, আমেরিকা, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, ইন্দোনেশিয়ান কয়েন ইত্যাদি। এছাড়া ব্রিটিশ মোঘল যুগের কয়েনও রয়েছে।

রউফের সংগৃহীত মুদ্রা

রাফির মা আফিয়া বেগম বলেন, বাসায় কোনো বিদেশফেরত আত্মীয় এলে বিদেশি কয়েন বা টাকা আছে কিনা ও সেই খোঁজ নিতো। এই নিয়ে অনেকবার ওকে বকেছি। কিন্তু কোনো কাজ হয়নি। পরে কিছু বলা ছেড়ে দিয়েছি। সাথে এটাও ভাবলাম যে ও তো খারাপ কিছু করছে না। ওর বয়সী অনেকেই খারাপ কাজে জড়িয়ে পড়ছে। সেখানে কয়েন সংগ্রহ খারাপ কিছু নয়। বরং যে দেশের কয়েন সংগ্রহ করছে সেই দেশ সম্পর্কে অনেক বিষয় জানতে পারছে।

রাফির বড় ভাই নূর মোহাম্মদ নাফি বলেন, রাফিকে যদি বলতাম তোর জন্য কি আনবো? তখন ও বলতো আমার জন্য বিদেশি কয়েন এনো। প্রথমে ওর ওপর রাগ করতাম। কিন্তু পরে মায়া হতো। কারো কাছে কয়েন দেখলে ওর জন্য চেয়ে আনতাম।

রাফি বলেন, কয়েন সংগ্রহ করতে গিয়ে অনেকের কাছেই কথা শুনতে হয়েছে। তবুও আমি আমার ভালো লাগাকে প্রাধান্য দিয়েছি। বিদেশি কয়েন সংগ্রহের প্রতি আমার এক ধরনের ঝোঁক রয়েছে। এগুলো যখন সংগ্রহ করি তখন জগতের নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পারি। আমি এসব সংগ্রহ করেছি বেশিরভাগই পরিচিতজনদের কাছে থেকে। এছাড়া কিছু টাকার বিনিময়েও নিয়েছি।

রাফি বলেন, সংগৃহীত কয়েনের সংখ্যা আরো বাড়াতে চাই। এতে আমার ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ধারণা বাড়বে। একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে চাই। সেখানে আমার কয়েন সংগ্রহের কথা এবং সেসব দেশের কয়েন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে চাই। এতে করে অনেকেই শিক্ষামূলক এই শখের প্রতি আগ্রহী হবে।