grand river view

।। কনটেন্ট এডিটর, সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ।।

মহামারির এই কঠিন সময়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প পদ্ধতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা এমপি। শনিবার (৩ জুলাই)বিকেলে অনলাইনে একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারে তিনি বলেন, এই সংকটকাল অতিক্রমের জন্য রাষ্ট্রকে যেমন দায়িত্ব নিতে হবে, তেমনই শিক্ষকদেরও নতুন নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

আরও পড়ুন শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে পারি না, সংসদে বললেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ বিসিএস এডুকেশন একাডেমি ও বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার উন্মুক্ত মঞ্চ-এর উদ্যোগে ‘শিক্ষায় মডেল রাষ্ট্রের সন্ধানে: প্রসঙ্গ সিঙ্গাপুর’ শিরোনামে এই আন্তর্জাতিক ওয়েবিনারটি ছিলো বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ধারাবাহিক আয়োজনের প্রথম দিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষায় অনেক উল্লেখযোগ্য ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, তবে গতি যথেষ্ট শ্লথ। দেশের উচ্চশিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ১৯৭৩ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ যে উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছিল তার কতটুকু আজ  অনুসৃত হচ্ছে তা আজ পুনর্মূল্যায়ণ করতে হবে। স্বায়ত্বশাসন মানে গুটিকয়ের যাচ্ছেতাই করার হাতিয়ার নয়। বরং উচ্চশিক্ষাকে বিশ্বজনীন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে দেখা ও চর্চার জন্য গতিশীল প্রতিষ্ঠান তৈরির হাতিয়ার হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু আজ সেটাও দেখা যাচ্ছে না। তিনি শিক্ষকদের গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাদশা আরও বলেন, পেশা হিসেবে শিক্ষকতায় গতি আনার জন্য মধ্যবর্তী মূল্যায়ন ও পেশায় বিভিন্ন শাখায় আন্তঃযোগাযোগের সুযোগ সৃষ্টি করা যায় কি না, এই সময় সেটা বিবেচনা করা দরকার।   

বিশেষ অতিথি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গোলাম ফারুক সিঙ্গাপুর, ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের শিক্ষা মডেল নিয়ে তার পর্যবেক্ষণগুলি তুলে ধরেন এবং সিঙ্গাপুরের শিক্ষা ব্যবস্থার শক্তির দিকগুলি আলাদা করে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষকদের জন্য সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপ উল্লেখের পর মেধার মূল্যায়নের জন্য শিক্ষকদের পদোন্নতিতে কিছু ভিন্ন শর্ত আরোপের সুপারিশ করেন।

ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ওয়াসীম মো. মেজবাহুল হক। প্রবন্ধের সহ-লেখক বৃন্দাবন সরকারি কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক জিয়া আরেফিন আজাদ স্বাগত বক্তব্যে প্রবন্ধটির ভূমিকা উপস্থাপন করেন। এছাড়া নির্ধারিত আলোচক ছিলেন কানাডার ওন্টারিও প্রদেশের শেরিডান কলেজের অধ্যাপক ড. এ কে এম খায়রুল ইসলাম ও সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশ ল্যাঙ্গুয়েজ অ্যান্ড কালচারাল ফাউন্ডেশন বাংলা স্কুলের অধ্যক্ষ রুবাবা ইসলাম সাবেদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিসিএস সধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সহকারী অধ্যাপক কাজী জাকির হোসেন।