grand river view

।। শিল্প ও সাহিত্য ডেস্ক ।।

নিজের পড়াশোনা ও লেখালেখি নিয়ে অতিমারি করোনার এই সময় পাড়ি দিচ্ছেন কবি ও কথাসাহিত্যিক শিমুল মাহমুদ। উত্তরকালকে জানিয়েছেন তার সাম্প্রতিক লেখাজোখার কথা।

‘বর্তমানে কি পড়ছেন?’ জানতে চাইলে শিমুল মাহমুদ বলেন, পড়তেছি ইউভাল নোয়া হারারিকে। ভদ্রলোক জেরুজালেম ইউনিভার্সিটির প্রফেসর। এর আগে তার স্যাপিয়েন্স পড়ছি, এখন পড়তেছি HOMO DEUS আর 21 Lessons for the 21 Century।

তিনি আরো বলেন, মানব প্রজাতির গতিবিধি নিয়া হারারের সাথে দেখাশোনার জগতটা ভাগ কইরা নিতে গিয়া অবাক হইতেছি বুঝার চেষ্টা করতেছি এরপর আমরা কেমন মানুষে পালটায়া যাবো আর এই যে দীর্ঘমেয়াদি করোনাকালের মধ্যে দিয়া আমরা হাঁটতেছি, এই হাঁটতে পারাটা মানুষরে কই লয়া যাইতে চাইতেছে।

‘করোনা কীভাবে আপনার লেখায় প্রভাব ফেলছে?’ জানতে চাইলে তিনি বলেন, চিন্তায় ও লেখায় প্রভাব তো থাকতেছে, সতর্ক থাইকাও করোনারে এড়াইতে পারতেছি না, লেখার চেষ্টা করতেছি খ্রিস্টপূর্ব আশ্রিত সময়নির্ভর ভারতীয় দর্শনাশ্রিত হাজার পাতার বয়ান। দেখার তাড়না পাইতেছি মানুষ কই থাইকা কই আইলো, আর যাইতেছেই বা কই।

প্রসঙ্গত, শিমুল মাহমুদের জন্ম ৩ মে ১৯৬৭, সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পাঠ গ্রহণ শেষে ইউজিসি-র স্কলার হিসেবে পৌরাণিক বিষয়াদির ওপর গবেষণা করে অর্জন করেছেন ডক্টরেট ডিগ্রি। বর্তমানে তিনি রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক, চেয়ারপারসন ও কলা অনুষের ডিন-এর দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রকাশিত বই: কবিতা— মস্তিষ্কে দিনরাত্রি [১৯৯০], সাদাঘোড়ার স্রোত [১৯৯৮], প্রাকৃত ঈশ্বর [২০০০], জীবাতবে ন মৃত্যবে [২০০১], কন্যাকমলসংহিতা [২০০৭], অধিবিদ্যাকে না বলুন [২০০৯], আবহাওয়াবিদগণ জানেন [২০১২] উল্লেখযোগ্য। কবিতাসংগ্রহ: সপ্তহস্ত সমুদ্রসংলাপ [২০১৪], স্তন্যপায়ী ক্ষেত্রউত্তম [২০১৫], বস্তুজৈবনিক [২০১৬]। প্রকাশিত গল্পগ্রন্থ: ইলিশখাড়ি ও অন্যান্য গল্প [১৯৯৯], মিথ মমি অথবা অনিবার্য মানব [২০০৩], হয়তো আমরা সকলেই অপরাধী [২০০৮] ইস্টেশনের গহনজনা [২০১৫], নির্বাচিত গল্প [২০১৬] অগ্নিপুরাণ ও অন্যান্য গল্প [২০১৬] উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও বেশকিছু উপন্যাস ও প্রবন্ধগ্রন্থও প্রকাশিত হয়েছে।