grand river view

।। আরাফাত কামাল, রাজশাহী ।।

বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ঝিনুক সংগ্রহ করেন রুহুল আমিন লিটন। তারপর নিজের পুকুরে সেই ঝিনুক ছেড়ে দেন। একটা নির্দিষ্ট সময় পর সেই ঝিনুক থেকে মেলে মুক্তা। যা থেকে আয় করেছেন প্রায় তিন লাখ টাকা। এখন লিটনকে দেখে এলাকায় অনেকেই মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

লিটনের বাড়ি লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার বালাপুকুর গ্রামে। লিটন বলেন, ২০১৭ সালে ফেসবুকে দেখি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বাণিজ্যিকভাবে একটি মুক্তা চাষের ভিডিয়ো পোস্ট করেছে। সেটা দেখে আমি আগ্রহী হই। আমি ভাবি, এটা কি আদৌ সম্ভব? তারপর ইউটিউবে ভিডিয়ো ও গুগলের সার্চ করি। সেখানে দেখি দেশে ও বিদেশে মুক্তা চাষ করা হচ্ছে। তখন আমারও এই চাষের প্রতি আগ্রহ জন্মে। তারপরে ময়মনসিংহ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে যোগাযোগ করি। বাংলাদেশ ও ভারতে পাঁচটি প্রশিক্ষণে অংশ নিই।

মুক্তার দুল

প্রথমে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করি মুক্তা চাষ। তখন মানুষ অনেক নেতিবাচক কথা বলেছেন। তবে সেদিকে কান না দিয়ে নিজের মত করে কাজ শুরু করি। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে ঘুরে আমি ঝিনুক সংগ্রহ এবং তা অপারেশন করেছি। শুরু করেছিলাম এক একর জমি দিয়ে। বিশ হাজার ঝিনুক ছেড়েছিলাম। নয় থেকে বারো মাসের মধ্যে উৎপাদন হয়েছিল পাঁচশ মুক্তা। বাজারে বিক্রি করে যা থেকে আয় হয় প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

ঝিনুকের মধ্যে মুক্তা

লিটন জানান, ঝিনুক সংগ্রহ করে অপারেশন করে পুকুরে ছাড়তে হয়। দশ মিনিটের মধ্যে অপারেশন করতে হয় নাহলে সে ঝিনুক মারা যায়। নয় মাস অপেক্ষা করার পর তবেই সে ঝিনুকে মেলে মুক্তা। পাঁচশ মুক্তা চাষে পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

লিটন চাষের পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, সবচাইতে ভালো হয় মাছ এবং ঝিনুক একসঙ্গে পুকুরে চাষ করলে। তাতে বেশি লাভবান হওয়া যাবে। একই সঙ্গে যদি দুইটা চাষ করা হয় তাহলে প্রতিমাসে চুন ও গোবর সার দিতে হয়। মাছ থাকলে একটির সঙ্গে আরেকটি পরিপূরক হিসেবে কাজ করে।

লিটন সবশেষে বলেন, আমাকে দেখে এলাকার অন্য চাষিরা মুক্তা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। নতুন চাষিদের উদ্দেশে বলবো, যাদের নিজের পুকুর আছে বা লিজ নিয়ে মাছ চাষ করছেন তারা এই পেশায় আসতে পারেন। একই পুকুরে মাছ ও মুক্তা চাষ করে বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হওয়া সম্ভব।