।। আরাফাত ই কামাল, রাজশাহী ।।

কেউ শখের বশে কবুতর পালন করেন আর কেউ শখকে পেশা হিসেবে নেন। একসময় দেখা যায় শখের নেশাটি জীবিকা নির্বাহের প্রধান অবলম্বন হয়ে ওঠে। অনেক তরুণ এখন বাণিজ্যিকভাবে কবুতর পালন করে আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছেন। বদলে যাচ্ছে তাদের জীবনের চাকা। তেমনই ভাগ্য বদলের গল্প বলেছেন মেহেরপুর জেলার সাইফুজ্জামান মামুন। ব্যবসা শুরুর আগের করুণ দিনগুলো ও পরে কীভাবে সাফল্যের দেখা পেলেন তা জানিয়েছেন।

উত্তরকালকে মামুন বলেন, তখন ২০১৯ সাল। অনেক রকম ব্যবসা করার চেষ্টা করেছি কিন্তু ফল পাইনি। লোকসান করে খারাপ পরিস্থিতিতে চলে গিয়েছিলাম। পরিবারের অনেক টাকা নষ্ট করায় সবার কাছ থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। একসময় নেশার জগতে ঢুকে পড়ি। তখন বাসার কেউ বিশ্বাস করত না আমাকে। মানুষের কাছে ‘বাজে ছেলে’ হিসেবেও পরিচিত হয়েছিলাম।

মামুনের অপরূপ কবুতরঘর

পরে নিজের ভুল বুঝতে পারি। শপথ নিই নিজের পরিবর্তন ঘটাবো যেকোনো মূল্যে। নেশা ত্যাগ করবো। নেশা ত্যাগ করার জন্য পুরানো নেশা কবুতর আবার পালা শুরু করলাম। আসলে কবুতরের নেশা অনেক ছোটবেলা থেকেই ছিল। শৈশবে শখের বশে কবুতর পালতাম। কিন্তু এখন কবুতর পালা অনেক ব্যয়বহুল। আমার কাছে কিছু কম্পিউটার ছিল অনলাইনে কাজের জন্য। সেগুলো বিক্রি করে কিছু কবুতর কিনি। একটা কবুতর খুব বেশি দামে একজন কিনে নিয়ে গেল। তখন বুঝলাম, কবুতর পালন করে নিজের পকেট খরচ চালাতে পারবো।

কিন্তু কবুতর আরো কিনতে হবে। যে টাকা আছে তা দিয়ে হবে না। তখন আমি আমার বোনের কাছে টাকা চাইলাম। বড়বোন ছেলের মতো স্নেহ করেন। বোন গলা থেকে একটা সোনার মালা খুলে দিয়ে বললেন, এইটা দিয়ে কিছু করতে পারলে কর। না হলে আমার কিছু করার নাই। খুব খারাপ লেগেছিল ওইসময় মালাটা বিক্রি করার জন্য। সেই টাকা দিয়ে আরো কিছু কবুতরের বাচ্চা কিনি। সেসব বাচ্চা বড় করে বিক্রি করি।

কবুতর

মামুন এভাবেই তার ব্যবসা শুরুর কষ্টকর দিনগুলোর কথা জানান। মামুন জানান, বর্তমানে তার দুইশটি কবুতর আছে। তিনি হাইফ্লাইয়ার কবুতর পালেন। টেডি, পয়ত্রিশ ওলা, কামাগার, ডাবওলা, কাছুরি, গোল্ডেন আছে এর মধ্যে। মামুন কবুতর ছাড়াও বিদেশি মাছ এবং পাখি পালন করেন। পাখির মধ্যে বাজরিকা, লাভ বার্ড, ডায়মন্ড ঘুঘু আর মাছের মধ্যে গোল্ডফিশ, গাপ্পি, সার্ক পালন করেন। তিনি মাছের ডিম নিজেই ফুটান। পরে পোনামাছ বিক্রি করেন।

মামুন আরও জানান, আমি যেখানে দোকান করেছি সেখানে কবুতর পোষা এবং বিক্রি করার জন্য পায়রা চত্বর নামকরণ হয়েছে।

মামুন বলেন, আল্লাহর রহমতে ও বড়বোনের দোয়ায় আমি সফল। বর্তমানে ছয়টা দোকান দিয়েছি। আমার দুইজন কর্মচারী আছে। কবুতর বিক্রির জন্য অনেক ব্যবসায়ী মিথ্যা কথা বলেন। কিন্তু সত্য বললে ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জন করা যায়।