।। সাদিয়া রহমান মৌ, রাজশাহী ।।

ক্রাফটের তৈরি বাহারি জিনিস দিয়ে ঘর সাজাতে কার না ভালো লাগে। তেমনি নম্রতাও অবসরে তুলির আঁচড়ে বানাতে পছন্দ করেন ঘর সাজানোর নানা সামগ্রী।

রাজশাহীর মেয়ে নম্রতা জয়সোয়াল। ছোটবেলা থেকেই শখের বসে আঁকাআঁকি শুরু তার। তিনি জানান, কীভাবে একটা স্বচ্ছ কাচের গ্লাসকে বা বোতলকে বাহারি রঙে রাঙিয়ে তোলা যায় সেই চিন্তা মাথায় মৌমাছির মতো সারাক্ষণ ভোঁ ভোঁ করে। যতক্ষণ না সেই কাজ করতে পারছি ততক্ষণ যেন শান্তি নেই।

আর ছোটবেলার এই শখটিকেই এখন পেশা হিসেবে নিয়েছেন নম্রতা।

রাজশাহীর বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম কমিউনিকেশন অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নম্রতা। বাবা জহরলাল জয়সোয়াল পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং মা পুতুল জয়সোয়াল একজন গৃহিণী। পরিবারের সদস্য সংখ্যা চারজন। দুই ভাইবোনের মধ্যে নম্রতা বড়। আর ছোটভাই স্কুলে পড়ে।

নম্রতা বলেন, বাজারে যে জিনিসটা বেশি দাম দিয়ে কিনতে হয় সেটা যখন নিজে বানাচ্ছি খরচ অনেক কম হচ্ছে। আর সেটা নিজের পছন্দ অনুযায়ী বানাতে পারছি। মানটাও ভালো হচ্ছে। সেখান থেকেই আমার উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা আসে। মাত্র এক হাজার টাকা দিয়ে ২০২০ সালের এপ্রিলে আমার এই কাজ শুরু করি। টুকটাক বিক্রি হতে শুরু হলে ‘ক্রাফটেড এরিয়া’ নামে একটা পেইজ খুলি। আমার প্রথম অর্ডার আসে খুব পরিচিত একজন মানুষের কাছ থেকে। যতটা সম্ভব সুন্দরভাবে কাজটা করি। ডেলিভারিটাও তাকে নিজে দিয়ে আসি। তিনি আমার কাজের খুব প্রশংসা করেন।

তিনি আরো বলেন, অনেকেই মনে করেন অনলাইনে পণ্য বিক্রি করা সহজ। কিন্তু এর পেছনে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। বাজার থেকে জিনিসগুলো কিনে আনতে হয়। তারপর সেগুলো দিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করে ছবি তুলতে হয়। ছবিগুলো আপলোড দেয়ার পর গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। তারপরই বিক্রি হয়। যতটা সহজ মনে হয় মোটেও তেমন নয়।

‘কেন এই কাজে মনোযোগী হয়ে উঠছেন?’ এমন জিজ্ঞাসায় নম্রতা বলেন, কোনো কাজই কিন্তু ছোট নয়। শুধু অর্থের জন্য নয় বরং নিজের পরিচয় গড়ে তোলাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আমাদের দেশে অনেকে আছেন যারা কিছু করার সুযোগ পান না। তাদের উচিত নিজেকে কোনো কাজের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করে তোলা।

তিনি আরো বলেন, কাজ করতে গেলে প্রতিবন্ধকতা আসবেই। কিন্তু কখনো এসব নিয়ে বেশি ভাবিনি। বেশি ভাবলে তো আমার কাজেরই ক্ষতি হবে। সবকিছুর মাঝে কিন্তু পরিবারের সাপোর্ট পেয়েছি অনেক। বিশেষ করে আমার মা সবসময় আমাকে বলেন, তুমি ধৈর্য ধরে কাজটা করে যাও, একদিন অবশ্যই তোমার পরিচয় গড়ে উঠবে। এছাড়া আমার বন্ধুবান্ধবও আমাকে অনেক সাপোর্ট করেছে। তবে অনেকেই বলেন, এখন তো পড়াশোনা করার সময়। এসব কাজের কি দরকার? এসব শুনে আমি কখনো আমার কাজে পিছুপা হইনি।

নম্রতা জানান, আগে রাজশাহীর ভেতরেই পণ্য বিক্রি হতো। কিন্তু এখন দেশের প্রায় প্রতি জেলাতেই গ্রাহক রয়েছে। গ্রাহকদের কাছে ভালো জিনিস পৌঁছে দেয়ায় একটা আস্থা তৈরি হয়েছে।

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে নম্রতা বলেন, সফলতা আসলে একদিনে আসে না। এর জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হবে। একটা কাজ করতে গেলে পেছনে অনেক মানুষ কথা বলবে। কিন্তু সেটাকে ইতিবাচকভাবে নিয়ে কাজ করতে হবে। আর যারা গ্রাহক তারা যদি নতুন উদ্যোক্তাদের কাছে থেকে জিনিস কেনেন তাহলে তারা আরো বেশি আগ্রহী হবেন।

নম্রতা জয়সোয়াল নিজের ব্যবসাকে আরো বড় করার স্বপ্ন দেখেন। ভবিষ্যতে ক্রাফটেড এরিয়ার শোরুম করে কম দামে মানুষের কাছে ভালো সামগ্রী পৌঁছে দিতে চান।