।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

ঢাকার মগবাজারের বিস্ফোরণের যে ব্যাপ্তি তা প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছে বিস্ময়কর লেগেছে। ফায়ার সার্ভিস এবং পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করা হয়। ঘটনাস্থলে এরই মধ্যে পৌঁছেছেন বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ও কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা।

রাতে এক ব্রিফিংয়ে দমকল বাহিনী সংবাদমাধ্যমকে জানায়, তারা বিস্ফোরণের উৎস সন্ধানে ঘটনাস্থল থেকে নমুনা জড়ো করেছেন। তবে সন্দেহজনক কিছু এখনও মেলেনি। প্রাথমিকভাবে তাদের ধারণা, গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়।

রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মগবাজার ওয়্যারলেস এলাকার আড়ংয়ের শোরুম ও রাশমনো হাসপাতালের মাঝামাঝি গলিতে এ বিস্ফোরণ ঘটে। এর ফলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশে। ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা চালান ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যম কর্মীদের ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক (ফায়ার) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, ‘এটা অনেক বড় একটা বিস্ফোরণ। একটা বোমা সদৃশ শব্দ হয়েছিল। আশপাশের লোকজনদের কাছ থেকে আপনারা জানবেন। আমরা জেনেছি, এটা বিশাল শব্দ হয়েছে।’

‘একটা বোমা ফাটলে যেমন বিস্ফোরণ ঘটে সে রকম শব্দ হয়েছে। এই ভবনের নিচতলা থেকে সূত্রপাত হতে পারে’, যোগ করেন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৩ তলা একটি ভবনের নিচতলার শর্মা হাউস নামের রেস্টুরেন্টে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়। এর ফলে ভবনের বিদ্যুতের জেনারেটরেও বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় রাস্তায় যানজটে আটকে থাকা তিনটি বাসসহ কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরে যায়।

ঘটনাস্থলে আহত বা নিহত অবস্থায় এখন কেউ নেই জানিয়ে দেবাশীষ বর্ধন বলেন, ‘এখানে শর্মা হাউজ ও বেঙ্গল মিটের দোকান আছে। এখানে অসংখ্য ফ্রিজ থাকে। এখানে কী কারণে বিস্ফোরণ, আসলে নিচ তলায় বিস্ফোরণ হয়েছে। আবার দোতলায় সিঙ্গারের একটি গোডাউন দেখা যাচ্ছে।

‘আমরা উপর তলা পর্যন্ত গিয়েছিলাম। উপর তলায় কোনো আহত-নিহত নেই। যদিও বা কেউ থাকে তারা হয়তো বের হয়ে গেছে। কিন্তু আহতরা ঢাকা মেডিক্যালে গিয়েছে, আমরা আসার আগেই গিয়েছে। আমরা ডেব্রিসগুলো সরাচ্ছি, যদি কেউ আহত বা নিহত থাকে তাদের বের করতে আমরা কাজ করছি।

এটি নাশকতা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানান ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, ‘আপনারা জানেন দুটো বাস ছিল এখানে…এটা অনেক বড় একটা বিস্ফোরণ।