grand river view

।। আরাফাত ই কামাল, রাজশাহী ।।

রাজশাহীর রাজারহাতায় স্ত্রী ও তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে বাস করেন হাসান আলী সরকার। তার কংক্রিটের দেয়াল-ঘেরা বাড়িটার দিকে চোখ গেলে মনে হয়, যেন বাড়ি নয় গাছগাছালির নার্সারি। গাছপ্রেমী এই মানুষটি কাজ করেন নিউজিল্যান্ড ডেইরিতে। পদবি এরিয়া ম্যানেজার। কর্মের পরিধিও রাজশাহীতে।

আচার ব্যবহারে ভদ্র এই মানুষটি তার গাছপ্রেমের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ১৯৭৬ সাল। তখন আমি স্কুলে পড়ি। ধীরে ধীরে গাছের প্রতি ভালোবাসা বাড়তে থাকে। সেইসময় থেকেই গাছকে আমি অনেক ভালোবাসি।

বাড়ি যেন অরণ্য

হাসান বলেন, আমি স্কুলে পড়ার সময় বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াতাম। মনের মতো কোনো গাছ পেলে নিয়ে এসে বাসায় লাগাতাম। তবে আমি কখনো গাছ বিক্রি করি না, মানুষকে উপহার দিতে ভালো লাগে।

তিনি জানান, আমার গাছ উপহার দেবার শর্ত আছে। আমি চারটি গাছ যাকে দেবো তাকে একটি গাছ আমাকে দিতে হবে। আমি আনকমন গাছ বেশি পছন্দ করি।

‘অবসর সময় আর কী করেন’ এমন প্রশ্নের উত্তরে হাসান আলী সরকার বলেন, আমি অবসর পেলেই নতুন গাছের সন্ধানে বের হই। রাজশাহীর মতো একটা ছিমছাম শহরে গাছ খুঁজে বেড়াই। নতুন কোনো গাছ পেলে আমার আনন্দ হয়। বাড়িতে নতুন গাছ লাগানোর পর মনে হয়, নতুন কোনো অতিথি এলো।

হাজারো কিসিমের গাছ দিয়ে বাগান করা মানুষটি জানান, আমার বারান্দায় আছে প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ গাছ। গাছের পরিচর্যা, কাটিং করি। বিশেষ করে অর্কিড গাছের প্রতি আমার দুর্বলতা। অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, আমার কাছে অনেকে গাছ নিয়ে যায় তবে পরবর্তী সময়ে আমাকে গাছ দেবে বলে দেয় না।

অর্কিড, কৃষ্ণচূড়া, ক্যাকটাস, কলাবতী, নাইটকুইন, স্নেক প্ল্যান্ট, পাথরকুচির সমারোহে ভরা বাড়িটি দেখলেই যে কারো মন জুড়িয়ে যাবে। ভেতরে ঢুকলে মিলতে পারে একখণ্ড অরণ্যের ভেতর হারিয়ে যাবার অনুভূতি।

গাছ নিয়ে ভবিষ্যৎ কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, করোনার প্রকোপ কিছুটা স্বাভাবিক হলে গাছ নিয়ে একটি অনলাইন প্লাটফর্ম করবো। যেখানে গাছ কেনা ও বেচা যাবে। গাছ লাগানো খুবই সহজ, একটু পরিচর্যা করলে যে কেউ ব্যবসা করতে পারবে।