grand river view

।। নয়নিমা বসু, দ্য প্রিন্ট ।।

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে স্থগিত থাকা প্রতিশ্রুত ভ্যাকসিন জুলাইয়ের শেষ কিংবা আগস্টে ছাড় করার লক্ষ্য নিয়েছে ভারত। দেশের অভ্যন্তরে ভ্যাকসিন তৈরির ওপর নির্ভর করে শিগগির ‘ভ্যাকসিন মৈত্রী’ নামের দেশটির তৎপরতা নতুন উদ্যমে শুরু হতে পারে।

গত ২০ জানুয়ারি থেকে বিশ্বের বৃহত্তম ভ্যাকসিন উত্পাদক ভারত অনুদানের পাশাপাশি বাণিজ্যিক চালানের জন্য বিদেশে কোভিড শট বিদেশে পাঠানো শুরু করে। এর মধ্যে বাংলাদেশসহ নিকটতম প্রতিবেশিরা প্রাধান্য পায়। তবে, ভারত যখন এপ্রিলে স্থানীয়ভাবে ভ্যাকসিনের ঘাটতির মুখোমুখি হতে শুরু করল, তখন এই উদ্যোগ থমকে যায়। এই সময়ের মধ্যে ভারত ৬৬ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন বিদেশে পাঠায়।

ভারতীয় উদ্যোগ স্থগিত হওয়ার সাথে সাথে চীন পাশাপাশি রাশিয়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলিতে তাদের কোভিড শট দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নেয়।

ঘরোয়া সংকটের মুখোমুখি হয়ে হোঁচট খাবার পর ভারতের মতো প্রতিবেশি দেশেও সংক্রমণ আড়ে। সম্প্রতি ভারত একটি নীতি নিয়েছে, যার অধীনে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার সরকারিভাবে একমাত্র ভ্যাকসিন ক্রেতা হিসেবে বিবেচিত হবে। এই নীতি নেয়ার পর গত সোমবার দেশটিতে ৪ মিলিয়নেরও বেশি লোক কোভিড নাইনটিন প্রতিরোধী ভ্যাকসিন নিয়েছে।

আরও পড়ুন: উচ্চ সংক্রমিত এলাকায় কেমন আছেন ভ্যাকসিন গ্রহণকারীরা?

সংখ্যায় বৃদ্ধির এই চিত্র কেন্দ্রী সরকারকে আশেপাশের প্রতিবেশীদের জন্য মুলতুবি কোভিড ভ্যাকসিনগুলি ছাড় করার পরিকল্পনা শুরু করতে উত্সাহিত করেছে। সূত্রমতে, দেশটির সরকার মনে করছে, ভারত যদি কোভিড ভ্যাকসি উৎপাদন ও প্রদানের হার ঠিক রাখতে পারে, তাহলে আগস্টের মধ্যেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

একটি সূত্র বলেছেন, “সোমবার আমরা যে হারে ভ্যাকসিন দেখেছি সেগুলি যদি অব্যাহত থাকে, তবে সরকার প্রত্যাশা করে যে ৪০ শতাংশ জনগণ আগস্টের মধ্যে ভ্যাকসিন নিতে পারবেন। এবং সেক্ষেত্রে আমাদের ফের প্রতিবেশিদের আটকা থাকা চালানগুলো চালুর যথেষ্ট বড় সম্ভাবনা রয়েছে।”

আরও পড়ুন: ভ্যাকসিনের হারে পেছনে, সংক্রমণে এগিয়ে রাজশাহী অঞ্চল

তবে সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ভ্যাকসিন রফতানি শুরু করা হলেও এটি কেবলমাত্র ভারত তার প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ রাখবে। কারণ তারা ভ্যাকসিন সংগ্রহের জন্য টাকাও দিয়ে রেখেছে।

অন্য এক কর্মকর্তা বলেন, “দেশিয় ভ্যাকসিনগুলি উৎপাদন প্রত্যাশিতভাবে না বাড়লে কোনও রফতানি হবে না।”

মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিশ্বজুড়ে ভ্যাকসিন সরবরাহের ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকা নেয়ার বিষয়টি ইঙ্গিত করে জানান, উৎপাদন আবারও বাড়ছে।

আশাবাদী সেরাম ইন্সটিটিউট

এদিকে আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক জানিয়েছে, সম্প্রতি সেরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার সিইও আদর পুনাওয়াল্লা কোভিড ভ্যাকসিন উত্পাদন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেছেন যে, এই পদক্ষেপ ভারতের ভ্যাকসিন উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং মহামারীবিরোধী ঐক্যবদ্ধ লড়াইকে শক্তিশালী করবে।

এক টুইট বার্তায় পুনাওয়ালা মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আশা করি, এই নীতিগত পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী এবং ভারতে কাঁচামালের সরবরাহ বাড়বে; আমাদের ভ্যাকসিন উত্পাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এই মহামারী বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ লড়াই জোরদার করবে।”

বাইডেন প্রশাসন সম্প্রতি অ্যাস্ট্রাজেনেকা, নোভাভ্যাক্স এবং সানোফি ভ্যাকসিন থেকে ১৯৫০ সালের প্রতিরক্ষা উত্পাদন আইনের অগ্রাধিকারের বাধ্যবাধকতা সরিয়ে নেয়ার পর সেরামের সিইওর কাছ থেকে মন্তব্যটি এলো। এর মাধ্যমে সেরাম ইন্সটিটিউটের সামনে অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং নোভাভ্যাক্স দুই ভ্যাকসিন উত্পাদন ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আর কোনো বাধা রইলো না।