।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

দেশে করোনার প্রথম ঢেউয়ের পর ভারত থেকে সেরাম ইন্সটিটিউটের উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন আসে। প্রাপ্ত ভ্যাকসিনের সংখ্যা অনুযায়ী নিবন্ধিতদের ভ্যাকসিনটির দুই ডোজ করে দেয়া হয়। মোট ভ্যাকসিনের তুলনায় প্রদানের হারে দেশে পেছনের সারিতে রয়েছে রাজশাহী অঞ্চল। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণের ভয়াবহ ঊর্ধ্বগতির পেছনে এটিও একটি কারণ।  

কোভিড চিকিৎসায় সংশ্লিষ্টরা সবাই একবাক্যে জানিয়েছেন, রাজশাহীসহ সীমান্ত অঞ্চলে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন প্রদান নিশ্চিত করা গেলে সংক্রমণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জটিলতা ও মৃত্যু বৃদ্ধির এই চিত্র বদলানো যেত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, দেশে টিকাদান পরিকল্পনায় প্রথম ধাপে ৪০ বছরের বেশি বয়স্ক এবং সম্মুখ সারির কর্মী মিলিয়ে তিন কোটি ৯৫ লাখ মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৭২ লাখ ৪৮ হাজার ৮২৭ জন। আর টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছেন ৫৮ লাখ ২০ হাজার ১৫ জন। তাঁদের মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নিতে পেরেছেন ৪২ লাখ ৪০ হাজার ৮৫৬ জন।

এর মধ্যে প্রথম ডোজের হিসাবে সর্বোচ্চ ১৮ শতাংশ পেয়েছেন রাজধানী ঢাকার মানুষ। এর পরই চট্টগ্রামে ৭ শতাংশ এবং কুমিল্লায় ৪ শতাংশ দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ভ্যাকসিন পাওয়া তালিকায় রয়েছে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর নাম। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ৩, নওগাঁয় ২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ শতাংশ করে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। প্রথম ঢেউয়ের সময় বিভাগে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত বগুড়াসহ বিভাগের বাকি জেলাগুলোতে সেই হার ১ শতাংশেরও কম। দ্বিতীয় ডোজও এই হারেই দেয়া হয়েছে।  

স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে, এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ দিয়ে শুরু হয়ে রাজশাহী হয়ে পুরো বিভাগেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। প্রকোপ এখনও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতেই বেশি। এখন পর্যন্ত বিভাগে ৪৯ হাজার ৬৬৬ জন করোনা সংক্রমিত হয়েছেন। সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃত্যুও। বিভাগের ৮ জেলায় করোনা পজিটিভ হয়ে ৭৬৮ জনের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (টিকা) ডা. শামসুল হক সংবাদমাধ্যমে বলেন, “আমাদের হাতে টিকা থাকলে সব জায়গায়ই আমরা বেশি করে টিকা দিতে পারতাম। যেহেতু আমাদের হাতে পর্যাপ্ত টিকা ছিল না, তাই আমরা চাইলেও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে বেশি করে টিকা দিতে পারিনি।”

তিনি আরো বলেন, “আমরা যখন টিকা দিচ্ছিলাম, তখনও ভারতে সংক্রমণ ছিল। আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও মোটামুটি স্বাভাবিক অবস্থা ছিল। আমাদের টিকার মজুদ ফুরিয়ে আসার কাছাকাছি সময়ে ভারতে সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। ভারতে সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির ওই সময় অন্তত ১৪ দিন যদি আমরা স্বাভাবিক টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারতাম, তাহলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যেত।”

সম্প্রতি এই বিভাগের জেলাগুলোতে চীনা ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। এগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিবন্ধিত মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্বাস্থ্যকর্মীসহ ফ্রন্টলাইনারদের দেয়া হচ্ছে।