।। নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহী বিভাগের ৭টি জেলায় ২৪ ঘণ্টায় করোনা শনাক্ত রোগী বৃদ্ধির হার অব্যাহত রয়েছে। শুধুমাত্র একটি জেলা নাটোরে এই সময়ে রোগী বৃদ্ধির হার সামান্য কিছু কমেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ১৮ জুনের পরিসংখ্যান বলছে, একদিনে করোনা রোগী বৃদ্ধির হার এই বিভাগের জয়পুরহাটে সবচেয়ে বেশি, ৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। আগের দিন এই জেলায় বৃদ্ধির হার ছিলো ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

পরিসংখ্যানে দেখা যায়, এরপরের জেলাটিই রাজশাহী। একদিনে এই জেলায় রোগী বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। আগেরদিন এ হার ছিলো ২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। পাবনা জেলায় আগের দিন রোগী বৃদ্ধির হার দশমিকের নিচে থাকলেও একদিনে জেলায় ২ দশমিক ২ শতাংশ রোগী বেড়েছে।

এদিকে পরিসংখ্যানে জানা যায়, দেশে গত বছর করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এই বিভাগে সুস্থ্যতার হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে পাবনা ও বগুড়া। এই হারে সব থেকে পিছিয়ে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

পরিসংখ্যান বলছে, করোনার প্রথম ঢেউয়ে এ বিভাগে বগুড়া জেলার পরিস্থিতি ছিলো সবচেয়ে খারাপ। এখন পর্যন্ত বগুড়ায় শনাক্ত ১২ হাজার ৭৫৭ সংখ্যাকে ছাড়িয়ে বিভাগের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক করোনা রোগী এখন রাজশাহী জেলায়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেবে ১৮ জুন পর্যন্ত তা ১৩ হাজার ৬৫৭। তবে করোনা পজিটিভ হিসেবে মৃতের সংখ্যার দিক থেকে এখনও বগুড়া সবার ওপরে। সেখানে মারা গেছেন ৩৩৮ জন। সরকারি হিসাব বলছে, এই সংখ্যা রাজশাহীতে ১৮ জুন পর্যন্ত ১১৮ জন।

এদিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আরটিপিসিআর পরীক্ষায় শনাক্তের হার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ দুই জেলাতেই ঊর্ধ্বমুখি। রাজশাহীতে গত তিনদিন ধরে এই হার ৪০-এর নিচে নামেনি।

তবে রামেক হাসপাতাল ১৮ জুন যে হিসেব প্রকাশ করেছে, সে অনুযায়ী আগের ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি সামান্য কিছুটা কমেছে ও সুস্থ্য হয়ে ছাড়পত্র পাওয়া রোগীর সংখ্যা খানিকটা বেড়েছে। ১৭ জুন ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয় ৪৪ জন। ১৮ জুন ৪১ জন। আর ১৭ জুন ৩১ জন সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছাড়লেও ১৮ জুন এ সংখ্যা ছিলো ৫১।

রামেক হাসপাতালের পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৩ জুন থেকে শনাক্ত হয়ে ও উপসর্গ নিয়ে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২৫ জনের বয়স ৬১ বছর বা তার অধিক। এদের মধ্যে মাত্র দুজন নারী।

গত ৬ দিনে এই হাসপাতালে মৃতদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী ছিলেন ৩ জন।