।। সাদিয়া রহমান মৌ, রাজশাহী ।।

আমানের ছোটবেলা থেকেই কাজের প্রতি নেশা। নিজের খরচ নিজে চালাতে পছন্দ করেন। রাজশাহীতে থাকাকালীন বন্ধুর ল্যাপটপের সাহায্যে ফ্রিল্যান্সিং আর টিউশনি করে বেশ ভালোই দিন যাচ্ছিল আমানের। করোনায় কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কাজগুলো বন্ধ করে তাকেও ছুটতে হলো বাড়ি।

বাড়িতে ফেরার কিছুদিন পর ‘কী করা যায়’ এমন ভাবনা ঘিরে ধরে আমানকে। কবিতা আবৃত্তি আর গাছের পরিচর্যা করেও যেন সময় কাটছিল না। একদিন নিজেদের আমবাগানে ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ মাথায় আসে এখান থেকেই তো কিছু করা সম্ভব। পরিকল্পনা করেন অনলাইনে আমের ব্যবসা করার। বাজারে পাইকারি দামে আম বিক্রি করলে তেমন লাভ হয় না। তার চেয়ে অনলাইনে ব্যবসা করলে লাভের মুখও দেখা যেতে পারে। ব্যাস, যেমন ভাবনা তেমন কাজ। ফেসবুকে খুলে ফেলেন ‘রাজশাহী আমের ভুবন’ নামে একটি পেজ। শুরু হয় হাঁটি হাঁটি পা পা করে ব্যবসার প্রসার।

গতবছর থেকেই অনলাইনে আমের ব্যবসা শুরু করেন আমান। প্রথম বছর তেমন পরিচিতি না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়েছে। আম বিক্রি তেমন হয়নি। কিছুটা লোকসান হয়েছে। তবে ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়ায় লাভের পরিমাণ বেড়েছে। এবছর জমিয়ে বিক্রি করছেন আম।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার লস্করহাটী গ্রামের জালাল উদ্দীন ও মমেনা বেগমের ছোট ছেলে আমানুল্লাহ আমান। বাবা কৃষক। মা গৃহিণী। বড় ভাই ফল ব্যবসায়ী। বোনের বিয়ে হয়েছে। মেজো ভাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। আমান রাজশাহী কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র।

আমান বলেন, ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি আমাকে খুব টানে। মুগ্ধ করে। আগে থেকেই ভাবতাম ব্যবসা করবো। তবে হুট করে এই ভাবনা মাথায় আসবে বুঝতে পারিনি। সবমিলিয়ে আমের ব্যবসা করে ভালোই লাগছে। আম বিক্রি করায় অনেকেই উপহাস করে। সেদিকে কান না দিয়ে নিজের ব্যবসা নিয়ে ভাবতেই বেশি ভালো লাগে।

নিজের বাগানের আম অনলাইনে বিক্রি করেন আমানুল্লাহ আমান

আমানদের বাগানের জমির পরিমাণ প্রায় পাঁচ বিঘার মতো। সেখানে নব্বইটিরও বেশি আমের প্রজাতি রয়েছে। খিরসাপাত, গোপালভোগ, হিমসাগর, আম্রপালি, রানীপ্রসাদ, ল্যাংড়া, আশ্বিনা, ফজলি, লখনাসহ নানাজাতের আম রয়েছে।

আমান বলেন, কোনোপ্রকার কীটনাশক স্প্রে না করায় আম সতেজ ও মিষ্টি। আমকে নিরাপদ রাখার জন্য ব্যবহার করা হয় ব্যাগিং পদ্ধতি। যার কারণে অনেকেই এই আম পছন্দ করে। আমের বিক্রিও হয় ভালো।

গতবছরের থেকে এবছর পরিচিতি বাড়ায় আমানের ক্রেতার সংখ্যা বেড়েছে। সহপাঠী, শিক্ষক এমন পরিচিতরা ছাড়াও অপরিচিত অনেকেই আম কিনছেন তার কাছ থেকে। আম নামানোর সময় থেকে শুরু করে প্যাকেজিং, কুরিয়ারে আম পাঠানো সব তদারকি করেন। আমানের এবছর বিক্রির পরিমাণ পঞ্চাশ মণের মতো।

আমান বলেন, সামনের বছর থেকে অনলাইনে এই ব্যবসা নিয়ে আরো পরিকল্পনা আছে। বাগান লিজ নিয়ে ব্যবসা আরো বড় করতে চাই। দেশের সব জায়গায় পৌঁছে দিতে চাই নিজেদের বাগানের সতেজ ও মিষ্টি আম। পড়াশোনার পাশাপাশি একজন সফল উদ্যোক্তাও হতে চাই।