মনে আছে এই পুরনো ভবনটার কথা? মিয়াপাড়া পাবলিক লাইব্রেরি বলে পরিচিতি ছিল যার। ১৩৭ বছর আগে নির্মিত এই ভবনটিকে ঘিরে আছে রাজশাহীর অনেক ইতিহাস ও ঐহিত্য। আধুনিক এক ইমারত গড়তে বছর কয়েক আগে ভেঙে ফেলা হয়েছে পুরনো এই ভবন। যারা দেখেছেন, তাদের স্মৃতিতে হয়তো থাকবে। কিন্তু উত্তরপ্রজন্ম তো আর দেখতে পাবে না সেই স্থাপনা।

রাজশাহীতে এমন অনেক পুরনো স্থাপনা এখন আর নেই। অথচ গৌড়ের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশের প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় সেই স্থাপনাগুলো একেকটা কালের সাক্ষী। স্মৃতির ভাঁড়ারে পুরনো রাজশাহীকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনার স্কেচ এঁকেছেন আতিক ইমরান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলার প্রাচ্যকলা শাখার শেষবর্ষের এই শিক্ষার্থী রাজশাহীকে নিয়ে এমন কাজ আরও করতে চান।

এই স্কেচটি একসময়ের জমজমাট বাটার মোড়ের। খেলার দোকান, দর্জির দোকান আর জুতার দোকান- এসবের সঙ্গে বাটার মোড়ের জিলাপি। বলা যায়, বিখ্যাতই ছিলো জায়গাটি। আর সাহেববাজার থেকে নিউমার্কেট যাবার মূল রাস্তাও ছিলো এটি। সময়ের প্রয়োজনে এসব ভবন ভাঙা পড়েছে। পাশ দিয়ে বেরিয়েছে বড় রাস্তা। মোড়টিকেও করা হয়েছে অনেকখানি প্রশস্ত। আতিক ইমরানের স্কেচ পুরনো বাটার মোড়কে মনে করাবে।

সিঅ্যান্ডবি মোড়ে কিছুদিন আগ পর্যন্ত পুরনো যুদ্ধবিমানটি ছিল। এখন এর স্থান হয়েছে আলিফলামমিম ভাটা থেকে নতুন যে রাস্তা বেরিয়েছে তার মোড়ে।

একদম পুরনো ঘোড়ামারা। এখনও এসব স্থাপনার অনেকগুলোই টিকে আছে। তবে যে হারে বহুতল ভবন উঠছে চারপাশে, তাতে কতদিন টিকে থাকবে, বলা যায় না।

একই কথা বলা যায় ঘোড়ামারা পোস্ট অফিস রোডের পদ্মামঞ্চের ব্যাপারে। সময়ের বিবর্তনে স্থাপনা না থাকলেও আতিক ইমরানের এই স্কেচ সেই স্মৃতিটাকে জাগিয়ে রাখবে।

মহারানি হেমন্তকুমারীর আমলের এসব ঢোপকল তো এখন দূর অতীত। দুয়েকটা সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর বাকিটা হয়তো এমন ছবিতেই থাকবে।

আতিক ইমরান উত্তরকালকে জানান, প্রতি বছরের অক্টোবরে চারুকলার শিক্ষার্থীরা কালি-তুলিতে একেকটা থিম বেছে নিয়ে ছবি আঁকেন। এর নাম ‘ইংকোক্টবর’। ২০১৯ সালে তিনি বেছে নেন রাজশাহীর স্থাপনার থিম। এসব স্কেচ সেসময়ই করা হয়েছিল। চলুন, রাজশাহী নিয়ে ওর আরও কিছু কাজ দেখি—

আবার, আতিক ইমরানের ছবিতে যে শুধু পুরনো রাজশাহীই উঠে এসেছে, তাও কিন্তু নয়। তিনি তুলে এনেছেন এখনকার নগরের অনেক স্থাপনাও।