grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

গত তিনদিন ধরে ভারতের মূলধারার সব সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হচ্ছে এক চীনা নাগরিকের নাম। হান জুন উয়ি নামে চীনের হুবেই প্রদেশের বাসিন্দা বলে চিহ্নিত করা হয়েছে তাকে। এই ব্যক্তি বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতের মালদা জেলায় অনুপ্রবেশ করে বিএসএফ-এর হাতে আটক হন।

বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পর থেকে দেশটির সংবাদমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। প্রশ্ন ওঠে আটক ব্যক্তির উদ্দেশ্য নিয়ে। শুক্রবারে কালিয়াচক পুলিশ স্টেশনে তাকে হস্তান্তরের পর দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনআইএ ও এটিএস দফায় দফায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। সেদিনই পুলিশের পক্ষ থেকে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদন জানালে আদালত ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। আগামী ১৮ জুন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে হান জুন উয়িকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।

মালদা জেলার পুলিশ সুপার অশোক রাজোড়িয়া জানান, চীনা নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন তারা। প্রয়োজনে অন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থার সহায়তা নেয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে ভারতের সংবাদমাধ্যমে আলোচনা থামেনি। এনআইএ, এটিএস ও বিএসএফ’র প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে দেশটির মিডিয়া বলছে, আটক চীনা নাগরিক এর আগে ৬ বার ভিসা নিয়েই ভারত সফর করেছেন। সবমিলিয়ে দেশটি থেকে ১৩ হাজার মোবাইল ফোনের সিমকার্ড চীনে নিয়ে যান তিনি। এগুলো ব্যবহার করে আর্থিক খাতে বড় প্রতারণার পরিকল্পনা ছিলো। গুরুগ্রামে ভারতীয় এক নাগরিকের সঙ্গে যৌথভাবে একটি হোটেল গত এক বছর ধরে চালিয়ে আসছেন তিনি।

কিছুদিন আগে ওই চীনা নাগরিক তার দেশে ফিরে যান। এ সময়ই লখনৌ থেকে এটিএস আরেক চীনা নাগরিক সাং জিয়াংকে আটক করে। ভারতে আর্থিক খাতে বড় ধরনের প্রতারণার পরিকল্পনার অভিযোগে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হান জুন উয়ির সম্পৃক্ততাও পাওয়া যায়। এরপরই ভারত উয়ির ভিসা আটকে দেয়।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ভারতের ভিসা না পেয়ে নেপাল ও বাংলাদেশের ভিসা নেন উয়ি। ২ জুন তিনি ঢাকা আসেন। সেখান থেকে ৯ তারিখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে এক পূর্বপরিচিতের বাসায় রাত কাটান। পরদিন অবৈধ অনুপ্রবেশের পর বিএসএফ তাকে আটক করে।

দেশটির সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, তার অনুপ্রবেশের সঙ্গে কোন চক্রের কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখছে দেশটি।

উয়ির আইনজীবী জ্ঞানেন্দ্র দেওয়ানের দাবি, তার মক্কেল চীনের বৈধ পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে ঘুরতে আসেন। পরে ঘুরতে ঘুরতে পথ ভুলে সীমান্ত পেরিয়ে ঢুকে পড়েন ভারতে।

পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি বাংলা সংবাদমাধ্যম তো আটক হান জুন উয়িকে চীনা গুপ্তচর বলেও দাবি করেছে।