grand river view

।। জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

সকাল সাড়ে দশটা। নগরের লক্ষ্মীপুর মোড়ের চায়ের দোকানগুলোতে তখন রমরমা অবস্থা। খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে চা খেতে দেখা গেল বেশ কয়েকজনকে। অবশ্য তাদের কারো মুখেই মাস্ক নেই। এদেরই একজন পলাশ রহমান। কুষ্টিয়া থেকে এসেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার মা ভর্তি হওয়ার সুবাদে দিনরাত হাসপাতালেই কাটছে। সকালে তেষ্টা পাওয়ায় এসেছেন চায়ের দোকানে।

এমন পরিবেশে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে কিনা জিজ্ঞেস করতেই একগাল হেসে বললেন, জানি না। তবে আমার মতো অনেকেই হাসপাতালে থাকছেন, খাওয়া দাওয়া করছেন আবার বাইরেও ঘোরাঘুরি করছেন।

এই যখন অবস্থা তখন পুলিশ বক্সের পাশেই চলছে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। পরীক্ষাটা সেরে নিবেন কিনা জানতে চাইলে বললেন, আমার তো কোনো উপর্সগ নেই, অযথা কেন পরীক্ষা করাবো।

রাজশাহীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে মঙ্গলবার (৮ জুন) সকাল থেকে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের পরীক্ষা হয়েছে ১৪৬টি নমুনা। করোনা পজিটিভ হয়েছেন ২৬ জন। শনাক্তের হার পরীক্ষার তুলনায় ১৭ভাগ। যেটি নগরে তৃতীয় দিনের মতো ১২টি কেন্দ্রের র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টের মধ্যে সর্বোচ্চ হার।

মঙ্গলবার নগরে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে ৯৫৮ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ৯৮ জন শনাক্ত হন। শনাক্তের হার ১০ দশমিক ২২ শতাংশ।

পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার বলছে, যেসব এলাকায় ভিড় বেশি, সেগুলোতেই সংক্রমণের হার বেশি।

গত তিনদিনে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে লক্ষ্মীপুর মোড়ে। মঙ্গলবার ১৭ দশমিক ৮০ শতাংশ, গত সোমবার ১৯.৬৭ শতাংশ ও গত রোববার ছিল ১২ শতাংশ।

চিকিৎসকরা বলছেন, লক্ষ্মীপুর পয়েন্টটি বেশি সংক্রমিত এলাকা হওয়ার দুটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, এখানে বিভিন্ন জায়গার মানুষ আসে এবং তারা কাছাকাছি অবস্থান করে। দ্বিতীয়ত হাসপাতালে যারা চিকিৎসার জন্য আসেন, তারা দিনের বেশিরভাগ সময় এই এলাকায় থাকেন। এতে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে।

রাজশাহী সিভিল সার্জন কাইয়ুম তালুকদার বলেন, সংক্রমিতদের আলাদা করতে অ্যান্টিজেন টেস্ট বাড়ানো হয়েছে। আমরা এনিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলবো যাতে এই এলাকায় ভিড় দূর করা যায়।