।। জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট মোটামুটিভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে কাঠামোগত দূর্বলতা রয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষার মতো খাতওয়ারি বিষয়ের দিকনির্দেশনা যেমন স্পষ্ট নয়, তেমনি সকল খাতকে সমভাবে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। প্রথমবারের মত আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় বাজেট পর্যালোচনা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগ এভাবেই তাদের মতামত তুলে ধরেছে।

তাদের পর্যালোচনাকে উত্তরবঙ্গের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে কৃষি ভর্তুকি ও কৃষি গবেষণায় কম গুরুত্ব দেবার বিষয়টি সবার আগে আসে। এর বাইরে আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে যথেষ্ট কাজের সুযোগ রয়েছে, যেগুলো বাজেটে আসেনি। এছাড়াও রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে রেলখাত ও নদী উন্নয়নের বিষয়টি এবারও উপেক্ষিতই থেকে গেছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণে বেরিয়ে এসেছে।

সোমবার বেলা এগারোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মমতাজ উদ্দিন কলাভবনে মোশাররফ হোসেন গ্যালারিতে বাজেট পর্যালোচনার নানা দিক তুলে ধরেন বিভাগের শিক্ষকরা। বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খানের সঞ্চালনায় শুরুতেই পর্যালোচনার লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন বিভাগের সভাপতি ড. আব্দুল ওয়াদুদ।

পর্যালোচনারা সুপারিশমালায় বেশ কিছু দিক তুলে ধরা হয়। সরকারি ব্যয়ের কর্মদক্ষতা বাড়ানো, করোনাকালীন সৃষ্ট দারিদ্র্য মোকাবিলা ও সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বাড়ানো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে অধিকতর জোরদার, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা রোধ, কৃষির বৈচিত্র্যকরণ, আঞ্চলিক বৈষম্য হ্রাস এবং উত্তরাঞ্চলসহ সারা দেশে রেল ও নদী উন্নয়ন।

ড. আব্দুল ওয়াদুদ বলেন,এ বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা’র মত খাতওয়ারি বিষয়ে দিকনির্দেশনা স্পষ্ট নয়। সরকারী ব্যয় বাড়ার সম্ভাবনা যেমন আছে তেমনি ঘাটতি বাজেটে বাড়তে পারে করের বোঝা। সামজিক নিরাপত্তায় সঠিক ব্যক্তির কাছে সুবিধা পৌছানোর পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তদের আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।

বাজেটে বড় কিছু দিকনির্দেশনা থাকা প্রয়োজন। যেসবের ভিত্তিতে অর্থবছরের বিভিন্ন পরিকল্পনা গৃহীত ও বাস্তবায়িত হবে। যেমন আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণের গাইডলাইন, আঞ্চলিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির গাইডলাইন, আর্থিক ও কাঠামোগত সংস্কারের গাইডলাইন, দারিদ্র্যবিমোচনের গাইডলাইন, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও বদ্বীপ পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উন্নত দেশে পৌঁছানোর গাইডলাইনগুলো আরও সুস্পষ্ট হতে হতো।

অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. ইলিয়াস হোসেন বলেন, এবারের বাজেট পুনরুদ্ধার ও আগামীর পথে অগ্রযাত্রার বাজেট । এবারের বাজেটকে সামগ্রিকভাবে গ্রহণযোগ্য , তবে কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। কৃষি বৈচিত্রকরণ, আঞ্চলিক বৈষম্য কমিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রেল ও নদী উন্নয়নের বিষয়গুলো কম গুরুত্ব পেয়েছে।