grand river view

।। আরাফাত ই কামাল, রাজশাহী ।।

২০১৬ সালে যখন আম দিয়ে ব্যবসা শুরু করি তখন অনেক মানুষ বাঁকা চোখে দেখতেন। সামনে বলতেও দ্বিধা করতেন না। বলতো, “আপনি মেয়ে মানুষ। বুটিক, কসমেটিকস নিয়ে কাজ করবেন। বাগানে বা আড়তে (প্যাকিং) কাজ করা মেয়েদের মানায় না।”

মানুষের বাঁকা কথা অস্বস্তিতে ফেলতো। তবে আমি এগুলো পাত্তা দিতাম না। আশ্চর্য বিষয় ছিল যখন মেসেঞ্জারে কাউকে মেসেজ দিতাম। অধিকাংশ মানুষের কমন প্রশ্ন ছিল, আপনার পরিচিত কারো পক্ষে বিজ্ঞাপন পাঠান। অনেকে তো প্রতারক বলতেও ছাড়তেন না।

ভোক্তার কাছে যাবার আগে লিচুর মান দেখছেন আশা

ব্যবসা করতে নেমে কঠিন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হওয়া আফসানা আশা এসব কথা জানাচ্ছিলেন। আফসানা আশা একজন সফল উদ্যোক্তা। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘কিষাণী’। রাজশাহী মহিলা কলেজ থেকে স্নাতক ও রাজশাহী সরকারি কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর প্রথমে দুটো ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে শিক্ষকতাও করেছেন। তার জন্ম নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার নন্দীগ্রামে। দুই দশক ধরে রাজশাহীতে বসবাস করছেন তিনি।

আমবাগানে আশা

ব্যবসার শুরু নিয়ে তিনি বলেন, শুরুতে কিষাণীর পুঁজি ছিল শূন্য। গ্রাহকের কাছ থেকে অগ্রীম নিয়ে ব্যবসা শুরু করি। আমের মৌসুমে সবাই বলতো, আম পাঠাও। আস্তে আস্তে বন্ধুর বন্ধু, আত্মীয়ের আত্মীয় আম পাঠাতে বলতেন। তখন বাজারের আমে ফরমালিনের আতঙ্ক বিরাজ করছিল। মাথায় হঠাৎ চিন্তা আসে বাণিজ্যিকভাবে তো আমিই আম পাঠাতে পারি। ব্যবসা থেকে মানুষকে সেবা দিতে পারি। এই উদ্দেশ্যে আম দিয়ে ব্যবসা শুরু করি। ২০১৬ সাল থেকে অনলাইন ভিত্তিক ছিল। তখন পেজ ছিল না। মেসেঞ্জারে মাধ্যমে বিজ্ঞাপন ও বিক্রি হতো। পরে ২০২০ সালে ফেসবুক পেজ খোলা হয়। প্রথমে আম দিয়ে শুরু করলেও পরে খাঁটি মধু, গাওয়া ঘি, নারকেল তেল, সরিষার তেল, খুলনার চুইঝাল, কুমড়া বড়ি, শ্রীমঙ্গলের চা, খেজুরের গুড়, লিচু যোগ হয়।

তিনি বলেন, শূন্য থেকে যাত্রা শুরু করলেও এখন কিষাণীর মূলধন দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ টাকায়। ছোট ভাই কিষাণী’র ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছে। আমার স্বপ্ন দেশের প্রতিটা ঘরে কিষাণীর পণ্য পৌঁছে যাবে। খাঁটি পণ্যের ব্র্যান্ড হিসাবে কিষাণীকে চিনবে। খাবার খেতে ভেজালের কথা আর ভাবতে হবে না।

পরিশ্রম করেই জীবনে সফল হতে হয়, বললেন আশা

নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সফল হতে চাইলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা থাকা জরুরি। পণ্যের কোয়ালিটিতে কোনো ছাড় দেয়া যাবে না।