।। মওদুদ রানা, রাজশাহী ।।

রাজশাহী নগরীর জান্নাতুন ফেরদৌস। গত দুদিন ধরে দেখা দিয়েছে করোনা উপসর্গ। নমুনা পরীক্ষার জন্য নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর, তিনি জানতে পারেন, নমুনা দেয়ার সুযোগ পেলেও নেগেটিভ না পজিটিভ তা জানতে পারবেন অন্তত তিন দিন পর।

রাজশাহী অঞ্চলে যখন করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহ, তখন জান্নাতের মতো আরও অনেকেই পড়েছেন এই বিড়ম্বনায়। করোনা পরীক্ষায় আগ্রহীদের ফলাফল পেতে দেরি হওয়ার কারণ নমুনা জট।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাবে করোনাভাইরাস পরীক্ষার সক্ষমতার চেয়ে প্রায় কয়েক গুন বেশি নমুনা জমা রয়েছে। যার কারনে ফল পেতে দেরি হচ্ছে।

কলেজের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. সাবেরা গুলনাহার বলেন, গত বছরের ১ এপ্রিল থেকে মাইক্রোবায়োলোজি বিভাগের ল্যাবে পিসিআর মেশিন বসিয়ে নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর থেকে লাগাতার পরীক্ষা হচ্ছে। গত বছরের অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কয়েক মাস নমুনার পরিমাণ কম ছিল। সম্প্রতি প্রতিদিনের যে সক্ষমতা, তার চেয়েও কয়েকগুন নমুনা বেশি জমা পড়ছে। তাই পরীক্ষা শেষে ফলাফল দিতে দেরি হচ্ছে।

তিনি জানান, শুক্রবার পরীক্ষা পর ৭৫১টি নমুনা উদ্বৃত্ত রয়েছে। এগুলো ধারাবাহিকভাবে শেষ করতে হবে।

নমুনা পরীক্ষা করতে দিয়েছেন এমন একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফলাফল পেতে কোনো কোনো ক্ষেত্রে তিন-চার দিন সময় লাগছে।

ল্যাব সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে উপসর্গধারীদের সংখ্যা। ফলে করোনা পরীক্ষায় আগ্রহীদের চাপও বেড়েছে যে কোনো সময়ের তুলনায় কয়েকগুন। এতেই এই নমুনা জট।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ মে) নওগাঁ ও নাটোরের নমুনা পরীক্ষা করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের নমুনা নেয়া সম্ভব হয়নি ল্যাব কর্তৃপক্ষের। এদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাত্র একটি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ল্যাবে।

স্বাস্থ্য বিভাগের হিসেবে, গত এক সপ্তাহ ধরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দুটি আরটিপিসিআর ল্যাবে গড়ে ৪৬০টি করে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। এরমধ্যে প্রতিদিন চার শিফটে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৮০টি নমুনা পরীক্ষা। আর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক শিফটে প্রতিদিন ৮০ থেকে ১০০টি নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।
এই দুটি ল্যাবে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নাটোর ও নওগাঁ জেলার বাসিন্দাদের নমুনা পরীক্ষা হয়ে থাকে।

জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. চিন্ময় কান্তি দাস বলেন, এখন নমুনা পরীক্ষা বন্ধ বা জট মানেই মহাবিপদ। যেভাবে করোনা প্রকোপ বাড়ছে তার থেকেও পাল্লা দিয়ে পরীক্ষা সম্পন্ন হবে। বাড়াতে হবে আরটিপিসিআর টেস্টের সক্ষমতা। পরিস্থিতি বিবেচনায়, বাড়াতে হবে র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টও।

উল্লেখ্য, বর্তমানে আরটিপিসিআর, র্যাপিড অ্যান্টিজেন ও জেন এক্সপার্ট এই তিন পদ্ধতিতে করোনা ভাইরাসের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম চলছে।