grand river view

।। জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

‘ঠাঁই নাই, ঠাঁই নাই- ছোটো সে তরী…।’ শনিবার সকালে রাজশাহী নগরীর বাসিন্দা টলিন এভাবেই ব্যাখ্যা করছিলেন হাসপাতালের করোনা রোগী ও চিকিৎসা অবস্থা। তিনি তার এক স্বজনকে ভর্তি করতে এসে, হাসপাতালের পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখে ও তার স্বজনের অবস্থা খুব বেশি বেগতিক না হওয়ায় বাসাতেই ফেরত নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

যখন ফিরে যাচ্ছিলেন তখন পরিস্থিতি বোঝাতে গিয়ে অনেকটা বক্রসুরেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী কবিতার আশ্রয় নিলেন। বলাই বাহুল্য, তরী বলতে তিনি হাসপাতালের করোনা চিকিৎসার ধারণক্ষমতাকেই বোঝালেন।

শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল ২২৪জন রোগী। শেষ ২৪ ঘন্টার ভর্তি হয়েছে ১৬ জন। এরমধ্যে রাজশাহী জেলা ১০ জন, চাপাইনবাবগঞ্জের ৫ জন ও নওগাঁ জেলার ১ জন। আইসিইউতে ভর্তি আছেন ১৬ জন।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. শামীম ইয়াজদানী জানান, করোনা চিকিৎসায় হাসপাতালের সক্ষমতা অনুযায়ী রোগীতে পরিপূর্ণ।

এর আগে ৪টি ওয়ার্ডের সঙ্গে শনিবার থেকে হাসপাতালের আরও একটি ওয়ার্ড করোনা চিকিৎসায় প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রামেক হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস।

এদিকে, একই হাসপাতালে করোনা ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসা চলার কারণে করোনা রোগীর চাপ যত বাড়ছে, সাধারণ রোগীদের চিকিৎসাসেবাও ততই ব্যাহত হচ্ছে। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা সাধ্যের সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির আশঙ্কায় আগে থেকেই তারা একটি বিকল্প উপায়ের কথা ভাবছিলেন। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ২৫ মে রাজশাহী সদর হাসপাতালে কয়েকটি সাধারণ ওয়ার্ড চালুর অনুমতি চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় স্থানীয় প্রশাসন।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। তবে এখনও বিকল্প ব্যবস্থাটি চালু করা যায়নি।