grand river view

।। জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, রাজশাহী ।।

রাজশাহী নগরের আলুপট্টি মোড়ের বাসিন্দা নাজমা খাতুন। তিনি সকালে গণমাধ্যমে জানতে পারেন ১২ লিটার গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৮৪২টাকা। এমন খবরে উৎফুল্ল মনে তিনি দোকানে যান গ্যাস কিনতে। কিন্তু দোকানে উপস্থিত হয়ে আক্কেলগুড়ুম! দোকানি দাম চাইছেন ৯৫০ টাকা। তার সাফ কথা, এক টাকা কমেও হবে না বিক্রি।

এমন অবস্থা নগরজুড়ে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, রাজশাহীতে সরকারের বেঁধে দেয়া দামে বিক্রি হচ্ছে না সিলিন্ডার গ্যাস। সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকরের দু’দিন পার হলেও গ্যাস বিক্রি হচ্ছে আগের দামে। ফলে এখনও ক্রেতাদের প্রতি সিলিন্ডারের জন্য গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তায় তারা ৮৫০ টাকা করে ১২ লিটারের সিলিন্ডার ক্রয় করেছেন। দোকান থেকে তারা ৯৩০ টাকা এবং বাড়িতে ডেলিভারি চার্জসহ ৯৫০টাকায় বিক্রি করছেন। তাদের যুক্তি, যেহেতু ডিলার কিংবা সরকারের লিখিত কোনো নির্দেশনা পাননি সেকারণে তারা কমে বিক্রি করছেন না। এসব দোকানদাররা অতিরিক্ত দামে বিক্রি করায় ক্রেতাকে কোনো ক্যাশ মেমোও দিচ্ছেন না।

ডিলার পর্যায়ে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বেশিরভাগ ডিলার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি করছেন না। গুল গফুর পেট্রোল পাম্প ও হালিমা এজেন্সির ম্যানেজার আব্দুর রহিম বলেন, “সরকারি এই নির্দেশনার আগের দিন দুটি কোম্পানি দাম বাড়বে এমন প্রলোভনে ফেলে আমাদের কাছে আড়াই হাজার সিলিন্ডার গ্যাস বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করেছে। এখন ওই কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি আর ফোন ধরছে না। আমরা পড়েছি বিপাকে। সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করলে সিলিন্ডার প্রতি ১০০ টাকা লস হবে। আবার বেশি দামি বিক্রি করলে ভোক্তা অধিদপ্তর জরিমানা করবে। সেকারণে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি আপাতত বন্ধ রেখেছি।”

এদিকে খুচরা পর্যায়ে গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। ভোক্তা অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে কিনা সেটি মনিটরে দ্রুতই নগরজুড়ে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত সোমবার গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা করে জ্বালানি খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশে ভোক্তাপর্যায়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য দ্বিতীয়বারের মতো সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠানটি। বেসরকারি খাতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের এলপিজি মূসকসহ ৯০৬ টাকা থেকে কমিয়ে ৮৪২ টাকা করা হয়। যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হচ্ছে।

আর উৎপাদন পর্যায়ে ব্যয় পরিবর্তন না হওয়ায় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানির এলপিজির দাম পরিবর্তন করা হয়নি। সরকারি সাড়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম আগের ৫৯১ টাকাই থাকছে। গাড়িতে ব্যবহৃত এলপিজির নতুন দাম প্রতি লিটার ৪১ টাকা ৭৪ পয়সা। আগে এটি ছিল ৪৪ টাকা ৭০ পয়সা।

গত ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করেছিল এই সংস্থা। সেসময় বলা হয়েছিল, বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে প্রতি মাসে দাম সমন্বয় করা হবে। এর আগে গত ২৯ এপ্রিল একদফা দাম সমন্বয় করা হয়।