grand river view

।। ঘরে বাইরে ডেস্ক ।।

এক রহস্যময় জগৎ লুকিয়ে আছে পানির নিচে। সে জগৎ নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। অনেক উদ্ভিদ ও প্রাণীর সঙ্গে পানির নিচে আছে অনেক শহর ও জনপদ। অনুসন্ধানকারীরা খুঁজে বের করেছেন ডুবে যাওয়া শহরগুলোর বাড়িঘর, উপাসনালয়সহ বিভিন্ন উপাদান। এমন চার শহর নিয়ে আজকের আয়োজন।

চীনের শিচেং

রহস্যময় নগর আটলান্টিস নিয়ে এখনো মানুষের জানা শেষ হয়নি। এই শহরের আবেদন আগের মতোই। চীনের প্রাচীন শহর শিচেং পরিচিত ‘প্রাচ্যের আটলান্টিস’ নামে। চীনের ঝিজিয়াং প্রদেশের সাংহাইয়ের ৪০০ কিলোমিটার দক্ষিণে ফাইভ লায়ন মাউন্টেনের পাদদেশে কিয়ান্দো লেকের ৪০ মিটার নিচে এই শহরটি অবস্থিত। প্রাচীন আর রহস্যময় এই শহরটি অনেকের কাছেই আগ্রহের। শহরটিতে মিং ও কিং রাজবংশের (১৩৬৮-১৯১২ সাল পর্যন্ত শাসন করা রাজবংশ) অসাধারণ পাথুরে স্থাপত্যের দেখা পাওয়া যায়। কিন্তু কীভাবে এই শহর পানির নিচে অবস্থান নিল?

শিচেং শহরটি গড়ে উঠেছিল ২৫ থেকে ২০০ খ্রিস্টাব্দের সময়কালে। নগরের বিভিন্ন স্থাপনা বেশিরভাগই সে সময়ে নির্মিত। শহরে বসবাস ছিল তিন লাখেরও বেশি মানুষের। এতগুলো মানুষ নিয়ে গড়ে ওঠা শহরটি পানির নিচে নিমজ্জিত হওয়ার কারণ মূলত চীন নিজেই। ১৯৫৯ সালে শিচেং শহরের পাশে জিনআন বাঁধ ও তার সঙ্গে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন চীন সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্দেশে শহরের তিন লাখ লোককে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। বাঁধের পানি আটকানোর জন্য কিয়ান্দো নামে একটি কৃত্রিম হ্রদ নির্মাণ করা হয়। এই কিয়ান্দোর পানিতেই ধীরে ধীরে তলিয়ে যেতে থাকে প্রাচীন সভ্যতার শিচেং শহর।

ডুবে যাওয়ার পর সেভাবেই পানির নিচে রয়ে গিয়েছিল শিচেং। চীন সরকারসহ নাগরিকরাও এর কথা ক্রমেই ভুলে যাচ্ছিল। ২০০১ সালে সরকারের সিদ্ধান্তে পানির নিচে পাঠানো হয় একদল পুরাতাত্ত্বিক অনুসন্ধানকারীকে। তাদের কাজ ছিল, ডুবে থাকা শিচেং-এর অবস্থা বর্তমানে কেমন সেটি সরকারকে জানানো। পানিতে নেমে অনুসন্ধানকারীদের সবচেয়ে বিস্ময় জাগে, পানির নিচের শিচেং দেখে। কারণ ৫০ বছর পার হয়ে গেলেও শহরটি প্রায় অক্ষতই ছিল। ২০১১ সালে চীনের ন্যাশনাল জিওগ্রাফি শিচেং নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ছবিগুলোতে দেখা যায় শহরটির পাঁচটি প্রবেশদ্বারের দুটি পশ্চিম দিকে, বাকি তিনটি উত্তর, দক্ষিণ আর পূর্বদিকে অবস্থিত। শহরের প্রশস্ত রাস্তার প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাস্তাতে ২৬৫টির মতো বিশাল আকৃতির তোরণ রয়েছে। পাথরের কাজ করা এসব তোরণের মধ্যে সিংহ, ড্রাগন, ফিনিক্স পাখির মতো বিভিন্ন পৌরাণিক মূর্তি রয়েছে। তোরণের শিলালিপিগুলো থেকে ধারণা করা হয়, এদের বেশিরভাগই তৈরি করা হয়েছিল ১৭৭৭ সালে, শহরের দেয়ালগুলো তৈরি ১৬ শতকে। পানির নিচে থাকার কারণে শিচেং বরং বাতাস, বৃষ্টি আর সূর্যের তাপ থেকে সুরক্ষিতই ছিল। শহরের কাঠামোগুলোতে খুব একটা পরিবর্তন হয়নি। অধিকাংশ কাঠের কাঠামো, নকশা, বাড়িগুলোর কাঠের সিঁড়িতে কেবল শ্যাওড়ার আস্তরণ মিলেছে। বাড়িঘর, মন্দিরসহ বিভিন্ন স্থাপনার তেমন কোনো ক্ষতি না হওয়ায় আজও শহরটির সৌন্দর্য অমলিন।

মিসরের হেরাক্লিয়ন

হেরাক্লিয়ন শহরের মিসরীয় নাম থনিস। অনেকেই একে থনিস-হেরাক্লিয়ন বলেও ডাকেন। মিসরের আলেকজান্দ্রিয়া থেকে ২০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে নীল নদের বদ্বীপের কাছে প্রাচীন মিসরীয় এই শহরের অবস্থান। খ্রিস্টপূর্ব ১২ শতকে ঐতিহাসিক এই শহরে মানুষের বসবাস শুরু হয়। হেরাক্লিয়ন ছিল ভূমধ্যসাগরে প্রবেশের অন্যতম প্রধান ও জনপ্রিয় বন্দর। মিসরীয় দেবতা ‘আমন’ এর সুবিশাল মূর্তি থাকায় নানা স্থান থেকে পূজা করার জন্য মানুষ আসত এখানে। জনপ্রিয়তা থাকা সত্ত্বেও খুব অল্প সময়ে মানুষ ভুলতে বসে এই শহরের কথা। এর কারণ হেরাক্লিয়নের সমুদ্রে হারিয়ে যাওয়া। ভূমিকম্পের আঘাতে খ্রিস্টপূর্ব কোনো এক সময়ে শহরটি পানিতে ডুবে যায়। এই শহরের কথা অনেকেই ভাবতেন সেই আটলান্টিসের মতো। নাম-প্রচার সবই আছে, অথচ শহরের কোনো অস্তিত্ব নেই। নামের প্রচার কমতে কমতে এমন পর্যায়ে আসে যে শহরটি সম্পর্কে কারও জানার আগ্রহই দেখা যায় না। এখানেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে ইতিহাসবিদ ও প্রত্নতত্ত্ববিদদের পার্থক্য। মানুষের আগ্রহ যেখানে শেষ, সেখান থেকেই তাদের তথ্য সংগ্রহ শুরু।

হেরাক্লিয়নের সন্ধান অবশ্য মিলেছিল অন্য এক জিনিসের সন্ধান করতে গিয়ে। ২০০০ সালে ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট ফর আন্ডারওয়াটার আর্কিওলজি পানির নিচে খোঁজ করছিল একটি যুদ্ধজাহাজের। এই উদ্যোগের সঙ্গে আরও ছিল মিসরীয় পুরাতত্ত্ব কাউন্সিলও। পানির নিচে এই অনুসন্ধানী দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিখ্যাত প্রত্নতত্ত্ববিদ ফ্রাঙ্ক গুডি। মিসরের আবু কি’র উপসাগরে তারা মূলত খুঁজছিলেন সম্রাট নেপোলিয়নের একটি যুদ্ধজাহাজ। গুডি আর তার দলের কোনো ধারণাই ছিল না এই জিনিস খুঁজতে গিয়ে তারা কতটা অমূল্য গুপ্তধনের সন্ধান পেয়েছেন। পানির তলে প্রায় ১২০০ বছরের জমে থাকা বালি সরিয়ে সন্ধান মেলে হেরাক্লিয়নের। গুডি যখন যুদ্ধজাহাজের অংশ খুঁজছিলেন তখন তার হাতে লাগে মিসরীয় দেবতা হাপির মূর্তির কিছু অংশ। এই হাপি ছিল হেরাক্লিয়নের বন্দরের ছয় টন ওজনের একটি মূর্তি। দারুণ এই সন্ধানের পর গুডি আর অপেক্ষা করেননি। ১৩ বছর ধরে খুঁড়ে সন্ধান বের করেছেন হেরাক্লিয়নের নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন।

খননে মিসরীয় দেবতা ও তার ছেলে খনসৌ-এর মন্দিরের ভগ্নাংশ মেলে। ৭০০টি নোঙরসহ ৬৪টিরও বেশি জাহাজের ধ্বংসাবশেষ, প্রচুর স্বর্ণমুদ্রা ও তামা, পাথরের বাটখারা, সোনার তৈরি অনেক তৈজসপত্রও পাওয়া যায় পানির নিচে। ধারণা করা হয় প্রখ্যাত এই বন্দরটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক কেন্দ্রও ছিল। পানির নিচ থেকে তুলে আনা হয় ২ হাজার বছরের পুরনো মিসরীয় দেবী আইসিসের আদলে বানানো তৃতীয় ক্লিওপেট্রার মূর্তি। হাপি ছাড়াও এক ফারাওয়ের মূর্তির সন্ধানও মিলেছিল। মূর্তি ছাড়া আরও পাওয়া গিয়েছিল গ্রিক ও মিসরীয় ভাষায় খোদাই করা পাথরের ফলক ও বেশ কয়েকটি শবাধার। এসব শবাধারের মধ্যে ছিল দেবতা আমনের উদ্দেশ্যে বলি দেয়া বিভিন্ন পশুর মমি। অবাক করা বিষয় হচ্ছে এই মমিগুলো এত বছর পরেও খুব সুন্দর অবস্থায় ছিল। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সন্ধান মিললেও শহরের অনেক জিনিসই হয়তো সমুদ্রের বালির নিচে আজীবনের জন্য হারিয়ে গেছে, যার সন্ধান আর মিলবে না কখনোই।

কিউবার ডুবে যাওয়া শহর

মাত্র দুই দশক আগের কথা। একদল অনুসন্ধানকারী পশ্চিম কিউবার সমুদ্রের তলদেশে গিয়েছিলেন জরিপের কাজ করতে। তাদের হাতে ছিল শব্দ সংগ্রহের একটি যন্ত্র। যন্ত্রের মাধ্যমে ৬৫০ মিটার নিচ থেকে পাথুরে কোনো কাঠামোর উপস্থিতি বুঝতে পারলেন তারা। সমুদ্রের তলদেশে বালিতে স্বাভাবিকভাবে এমন কাঠামো দেখে তারা বুঝতে পারলেন এসব একলা গড়ে ওঠা কোনো কাঠামো নয়, বরং ডুবে যাওয়া কোনো এক শহরের স্মৃতিচিহ্ন। মিডিয়ায় মুহূর্তে এ খবর ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেদন ছাপানো হয় ‘কিউবায় আটলান্টিসের আবিষ্কার’ ও ‘হারানো শহর খুঁজে পেয়েছে ক্যারাবিয়ানরা’ এমন শিরোনামে। এমন অবিশ্বাস্য অনুসন্ধান নজর কাড়ে সরকার, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির। তারা সবাই সিদ্ধান্ত নেয় এ নিয়ে তারা আরও অনুসন্ধান চালাবে। তবে সে সময় প্রশ্ন উঠেছিল, পানিতে ডুবে যাওয়া এ শহর নিয়ে কেউ কেন কখনো অনুসন্ধান করেনি? ঠিক কী হয়েছিল কিউবার ডুবন্ত এ শহরের?

মেরিন ইঞ্জিনিয়ার পলিন জালিটজোকি ও স্বামী পল ওয়েজেউইয়েগকে নিয়ে ২০০১ সালের ১৪ মে কিউবার সরকারের কথায় কিউবার পিনার ডে রিও প্রদেশের গুয়ানাহাকাবাইব পেনিনসুলার উপকূলের ধারে অবস্থিত সমুদ্রের নিচে একটি জরিপের কাজে যান। পল ছিলেন অ্যাডভান্সড ডিজিটাল কমিউনিকেশনস নামে কানাডিয়ান একটি কোম্পানির মালিক। তার প্রতিষ্ঠান কাজ করত প্রেসিডেন্ট ফিদেল ক্যাস্ত্রোর সরকারের সঙ্গে। যে সম্পদবাহী জাহাজগুলো কিউবার সমুদ্রে নোঙর ফেলত, তাদের দেখাশোনার ভার ছিল যে চারটি প্রতিষ্ঠানের ওপর, তার মধ্যে একটি ছিল এই এডিসি। পানির নিচে অস্বাভাবিক শব্দ ধারণের জন্য তারা সোনার যন্ত্র ব্যবহার করতেন। এই যন্ত্রে পানির নিচের বস্তুর ছবিও ভেসে উঠত। ১৪ মে জরিপ চালানোর সময় পানির নিচের ২ স্কয়ার কিলোমিটার এলাকা থেকে কিছু শব্দের ছবি তাদের যন্ত্রে ভেসে ওঠে। পলিন যন্ত্রে ছবিগুলো আবছাভাবে দেখে বুঝতে পারছিলেন সেগুলো ব্লক, পাথুরে বস্তু আর জ্যামিতিক কোনো জিনিস বোঝাচ্ছে। কিছু ব্লক দেখতে পিরামিড আর কিছু ব্লক ছিল গোলাকৃতির।

সে সময় কেবল জরিপ চালিয়েই ফিরে এসেছিলেন তারা। পরে একই বছরের জুলাই মাসে কিউবার ন্যাচারাল হিস্টোরি মিউজিয়ামের সিনিয়র রিসার্চার ম্যানুয়েল ইটারডেলকে সঙ্গে নিয়ে তারা আবার সেই জায়গায় যান। এবার তারা সঙ্গে নিলেন রিমোট চালিত রোবটসহ প্রয়োজনীয় আরও নানা জিনিস। ব্লকের যে ছবিটি যন্ত্রে দেখা যাচ্ছিল সেটি দেখা গেল ৮ ফুট বাই ১০ ফুটের একটি গ্রানাইট। কিছু ব্লক একটি অপরটির ওপর সাজানো আর কিছু বিচ্ছিন্ন অবস্থায় এদিকে সেদিকে পড়েছিল। পলিন বুঝতে পারছিলেন এসব অবশ্যই কোনো শহরের ধ্বংসাবশেষ। কিন্তু নির্দিষ্ট আরও প্রমাণ ছাড়া তিনি কোনো সিদ্ধান্তে আসতে চাচ্ছিলেন না। পানির নিচের ডুবে থাকার গভীরতা নির্ণয় করে জানা গেল, এই শহরের বয়স ৫০ হাজার বছরের কম নয়। ধীরে ধীরে মিলল পিরামিড, বাড়িঘর, বারান্দা, সড়কের চিহ্ন। প্রশ্ন জাগে, এত বছর আগে এমন প্রযুক্তিতে সবকিছু নির্মাণের মানুষ তো ছিল না। তাহলে কীভাবে এলো এমন শহর? আর কীভাবেই বা শহরের মানুষগুলো হারিয়ে গেল? গবেষকদের সন্ধান বলে, এখানে খুঁজে পাওয়া অনেক কিছুই স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গে মেলে। তাদের মতে, শহরটি হয়তো ভূমিকম্পের কবলে পড়ে আর তাতে ডুবে যায় পুরো শহর আর শহরের মানুষ। যদিও তারা এও বিশ্বাস করেন যে, প্রকৃতি এমন অবাস্তব বস্তু নিজ থেকেই তৈরি করতে পারে। তবে সত্য মিথ্যা যাই হোক, পানির নিচে খুঁজে পাওয়া অদ্ভুত এ শহরটিও যে ইতিহাসের একটি অংশ হয়ে রইল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

গ্রিসের পাভলোপেত্রি

বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো ডুবে যাওয়া শহর বলা হয় গ্রিকের পাভলোপেত্রিকে। ১৯০৪ সালে এ শহরের সন্ধান জানান জিওলজিস্ট ফোকিয়োনোস নেগ্রিস। আবিষ্কারের পর এক প্রতিবেদনে তিনি জানান প্রাচীন এই শহরটি এলাফনিসস দ্বীপ ও দক্ষিণ ল্যাকোনিয়ার পুন্টা বিচের মাঝামাঝি সমুদ্রের পানির নিচে অবস্থিত। তখন একে নিয়ে খুব একটা আলোচনা না হলেও ১৯৬৭ সালে সাউদাম্পটন ইউনিভার্সিটির সমুদ্রবিদ ডক্টর নিকোলাস ফ্লেমিং পানির নিচের শহরটি দেখতে যান। গিয়ে দেখেন পানির ৩-৪ মিটার নিচেই ডুবে আছে এক প্রাচীন শহর।

১৯৫৮ সালে তিনি ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি ও প্রফেসর অ্যাঞ্জেলস ডেলিভরিয়াসের সঙ্গে মিলে একদল তরুণ আর্কিওলজিস্টকে নিয়ে পাভলোপেত্রিতে যান। তারা জায়গাটির ম্যাপ বানান, তারিখ হিসাব করেন। খুঁজে পান ঐতিহাসিক সে সময়ের অনেক ভবন, সড়ক, উপাসনালয়। তারা ধারণা করেন শহরটির জন্ম হয়েছিল ব্রোঞ্জ যুগে। পুরো শহরের আয়তন হিসেব করা হয় ৩,২২, ৯১৭ বর্গমাইল। প্রতিটি স্থাপনার নকশা ক্ষয়ে গেলেও এখনো সবকিছু বেশ সাজানোই আছে। গবেষকরা ধারণা করেন, এই শহরে কৃষিকাজ, সুতা ও কাপড় বোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য সবকিছুই চালু ছিল। প্রায় ৫ হাজার বছর বা তারও আগে গঠিত হওয়া এই শহরটিও ভূমিকম্পের কবলে পড়ে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হয়। আপনার যদি পানির নিচের আর্কিওলজি নিয়ে জানার আগ্রহ থাকে তবে নির্দ্বিধায় পাভলোপেত্রিতে চলে যেতে পারেন। কালামাটা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টায় অথবা এথেন্স থেকে ৪ ঘণ্টার দূরত্বে পেলোপনোজের লাকোনিয়াতে পাভলোপেত্রির সন্ধান মিলবে।