grand river view

।। বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী ।।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক প্রক্টর ড. লুৎফর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে যুবলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ইব্রাহিম হোসেন মুনের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সঙ্গে ড. লুৎফরের স্ত্রী মনিরা ইয়াসমিন ও মুনের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা শিমুলের ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে এনবিআর-এর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল (সিআইসি)।

রোববার (৩০ মে) সিআইসি উপপরিচালক মোছা. ফাতেমা খাতুন স্বাক্ষরিত ব্যাংকগুলোর এমডি বরাবর ১৯৮৪ সালের আয়কর অধ্যাদেশ-এর ১১৩ (এফ) ধারাবলে পাঠানো এক চিঠিতে তাদের লেনদেন, সঞ্চয়সহ যাবতীয় তথ্য পাঠাতে বলা হয়। আগামী সাতদিনের মধ্যে তথ্য দিতে বলা হয়। বিষয়টিকে অতীব জরুরি ও গোপনীয় হিসেবে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য না দিলে আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এর আগে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে মেয়াদের শেষ দিনে ১৩৭ জনকে নিয়োগ দেয়া উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক এম আবদুস সোবহান, তার স্ত্রী, সন্তান ও জামাতার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। ওই ১৩৭ নিয়োগকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে দায়ীদের চিহ্নিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিলো। তদন্ত কমিটির একটি সূত্র জানিয়েছে, ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সাবেক ভিসির সঙ্গে সহযোগী কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রক্টর ড. লুৎফর ছিলেন। ক্যাম্পাসের বাইরের আরও যে কজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে ইব্রাহিম হোসেন মুন অন্যতম। তার স্ত্রীও এই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পান।

জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির প্রধান ইউজিসি সদস্য ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, “আমাদের দায়িত্ব যতটুকু ছিলো আমরা তা যথাযথভাবে পালন করেছি। আমাদের প্রতিবেদনে সুপারিশও রয়েছে। বাকিটা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।” ব্যাংক হিসাব তলবের সুপারিশ তাদের প্রতিবেদনে ছিলো কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির পক্ষ থেকে কথা বলার সুযোগ নেই।” তবে এনবিআর-এর একটি সূত্র জানায়, সচরাচর রাষ্ট্রের কোনো সংস্থার কাছ থেকে অনুরোধের ভিত্তিতে এনবিআর ব্যাংক হিসাব তলব করে থাকে। এ ধরনের অনুরোধ দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সবচেয়ে বেশি করে থাকে।