grand river view

।। শোবিজ প্রতিবেদন ।।

‘আমি চাই বৈচিত্র্য। অপেক্ষা দীর্ঘ হোক, চরিত্রের জন্য জীবনবাজি হোক- ক্ষতি নেই। আমার কখনোই তাড়া ছিল না। এখন আরও ধীরলয়ে হাঁটতে চাই।’ গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে ভারতের বর্ধমান যাওয়ার আগে এমনটাই বলেছিলেন বাঁধন।

টানা পাঁচ মাস পর যেন সেই কথারই প্রতিউত্তর মিললো সৃজিত মুখার্জির কণ্ঠে। প্রকাশ্যে অকুণ্ঠ-স্বরে ভারতের এই নামজাদা নির্মাতা ঢাকাই অভিনেত্রী বাঁধনকে জানালেন টুপিখোলা সম্মান। বললেন, ‘ফাইনালি শেষ করলাম #REKKA (রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি)’-এর ডাবিং-আবহসংগীত। কাজটি শেষ করার পর একটা কথাই বলতে চাই, বাঁধন তার চরিত্রটির জন্য যেভাবে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন, সেটির জন্য তাকে টুপিখোলা সম্মান জানাই।’

সৃজিত জানিয়েছেন, শুটিংয়ের সময় সিকিমের প্রতিকূল পরিবেশে বেশ কষ্ট করেছেন বাঁধন। যার ফলেই সিরিজের জুবেরী চরিত্রটি সার্থক হয়েছে।

শুটিংয়ের শেষ দিন প্যাকআপের পর সিকিমের চূড়ায় তোলা একটি ছবি গতকাল (২৬ মে) ফেসবুকে শেয়ার করে সৃজিত বাঁধনকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘প্রতিকূল পরিস্থিতিতে শুটিং চালিয়ে যাওয়া, কাজ নিয়ে অসংখ্যবার প্রশ্ন তোলা, প্রচুর সময় চেয়ে নেওয়ার মাঝেও আপনি মুশকান জুবেরী চরিত্রটিকে জিতিয়ে দিয়েছেন এবং আমাকে গর্বিত করেছেন।’

ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এর ওয়েব সিরিজ ‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’-এর শুটিং হয়েছে সিকিমের জিরো পয়েন্ট ও পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান-দুর্গাপুর এলাকায়।

সৃজিতের এমন প্রকাশ্য স্বীকৃতি পেয়ে বাঁধন নিজেকে হালকা অনুভব করছেন। মানসিক চাপ থেকে মুক্ত হলেন। বললেন, ‘‘এটা ধ্রুব সত্য, এমন একজন নির্মাতার কাছ থেকে যখন উৎসাহ বা প্রশংসা পাই তখন নিজেকে হালকা লাগে। মনে হয় সব শ্রম সার্থক। আমার স্পষ্ট মনে আছে, এই ছবিটি তোলা হয়েছে ১০ জানুয়ারি। কাজ শুরু করেছি গত বছর ১৬ ডিসেম্বর থেকে। ছবিতে আমার মুখে যে মেকআপ সেটা হলো বিমান দুর্ঘটনার পরের দৃশ্যগুলোর জন্য নেয়া। এখনও কানে বাজে, শুটিং প্যাকআপ হওয়ার পর এই ছবিটি তুলতে তুলতে সৃজিত আমাকে বলছিলেন, ‘ধন্যবাদ আমাকে ভুল প্রমাণ না করার জন্য। আমার এখনও বিশ্বাস, তুমি ছাড়া এই চরিত্রটি এতটা প্রপারলি তুলে আনতে পারতাম না।’ তো সেই কথাগুলোই এবার সবার সামনে বললেন ফেসবুকে। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা সনদ।’’

‘রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনও খেতে আসেননি’তে বিশেষ একটি চরিত্রে অভিনয় করছেন অঞ্জন দত্ত; থাকছেন রাহুল বোস, অনির্বাণ ভট্টাচার্যসহ অনেকে।

শিগগিরই এটি হইচই-এ উন্মুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

রবীন্দ্র-সৃজিত পেরিয়ে আজমেরী হক বাঁধন দারুণ অপেক্ষায় আছেন ‘লাইভ ফ্রম ঢাকা’-খ্যাত নির্মাতা আব্দুল্লাহ মোহাম্মাদ সাদের জন্য। এরমধ্যে যিনি তাকে নিয়ে শেষ করেছেন একটি চলচ্চিত্রের কাজ। মুক্তি এ বছরই। যে ছবিটিকে বাঁধন দেখছেন তার জীবন পাল্টে দেয়ার প্রধান নিয়ামক হিসেবে।