grand river view

।। ঘরে বাইরে ডেস্ক ।।

গ্রীস্মকালে তাপমাত্রা যত বাড়ে, চর্মজাতীয় রোগ তত বৃদ্ধি পায়। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাম থেকে ত্বকে ঘটতে পারে ছত্রাক বা ফাঙ্গাসের সংক্রমণ। সারা দিন ধরে আন্ডার গার্মেন্টস, প্যান্ট ও জুতা পরে থাকলে সে স্থান এবং কুঁচকি, পায়ের আঙুলের মাঝখানে ছত্রাক আক্রমণ করার আশঙ্কা বেশি থাকে। জেনে নিন ফাঙ্গাস কি ও এর থেকে বাঁচতে কী করবেন।

কীভাবে কোথায় রোগ হয়

ছোঁয়াচে রোগ, তাই আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে সুস্থ ব্যক্তিতে ছড়ানোর আশঙ্কা প্রবলভাবে দেখা দেয়। এ ছাড়া পোষা প্রাণী, সেলুনে ব্যবহৃত ব্রাশ, সিনেমা হলের সিট, অন্যের ব্যবহার করা টুপি বা হ্যাট থেকেও হয়ে থাকে ফাঙ্গাস ইনফেকশন। শুধু ত্বকে নয়, এ ফাঙ্গাস নখ ও চুলেও আক্রমণ করতে পারে। এ অসুখ জীবননাশের জন্য হুমকি না হলেও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। অতিরিক্ত চুলকানি, আক্রান্ত স্থান থেকে কষ বা পুঁজ ঝরা রোগীকে সামাজিকভাবেও বিপর্যস্ত করে তোলে। মাথার কোনো স্থানে হঠাৎ গোল গোল টাক পড়াও ফাঙ্গাস থেকে হয়ে থাকে। দাড়িতে ফাঙ্গাস হলে লোমের গোড়ায় পুঁজ দেখা যায়।

রোগ সম্পর্কে বিশ্লেষণ

যেকোনো মানুষের ত্বকেই ফাঙ্গাস সংক্রমণ হতে পারে। ত্বকের উপরিভাগে যেসব ফাঙ্গাস সংক্রমণ ঘটে, তার মধ্যে ক্যানডিডা ও ম্যালাসেজিয়া নামক ইস্ট ট্রাইকোফাইটন, মাইক্রোস্পোরাম, ইপিভারমোফাইটন নামক ডার্মাটোফাইট প্রধান।

ডার্মাটোফাইটগুলো আক্রান্ত মানুষ, রোগাক্রান্ত গৃহপালিত পশু বা স্যাঁতসেঁতে মাটি থেকে শিশুদের দেহে স্থানান্তরিত হয়। এর মধ্যে আক্রান্ত পশু বা স্যাঁতসেঁতে মাটি থেকে যে ডার্মাটোফাইটগুলো শিশুদের ত্বকে এসে সংক্রমণ ঘটায়, তাদের আক্রমণ স্বল্প সময় স্থায়ী হয় কিন্তু তারকা খুব বেশি থাকে। আর আক্রান্ত মানুষ থেকে শিশুর ত্বকে যেসব ডার্মাটোফাইট কেয়ার সৃষ্টি করে, তা কম তীব্রতর কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি হয়।

রোগ নির্ণয়

ত্বকের ডার্মাটোফাইট সংক্রমণকে সাধারণ অর্থে রিংওয়ার্স, টিনিয়া সংক্রমণ বা দাদ বলে। ত্বকের এ সমস্যাটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীর সাম্প্রতিক তথ্যাবলি জানা জরুরি। আক্রান্ত স্থান পরীক্ষা করে চিকিৎসক রোগ সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা পেতে পারেন। ল্যাবরেটরিতে নিম্নলিখিত পরীক্ষা করে ডার্মাটোফাইট সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয় ১. পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড পরীক্ষা, ২. ফাঙ্গাস কালচার, ৩. উডস লাইট পরীক্ষা দেহের কোন অংশের ত্বকে ডার্মাটোফাইট সংক্রমণ হয়েছে বা দাদ হয়েছে।

চিকিৎসা

পুঁজ হয় বলে অনেকে অ্যান্টিবায়োটিক সেবন করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এ ক্ষেত্রে আসলে অ্যান্টিফাঙ্গাস ট্যাবলেট ও ক্রিম ব্যবহার করলে উপকার বেশি পাওয়া যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে অবশ্য রোগ নির্মূল হতে কয়েক মাস টানা চিকিৎসা করাতে হয়। মাথা, নখ ও ত্বকের এ চিকিৎসা একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের অধীনে হওয়াই ভালো। কারণ এ ওষুধগুলো অনেকের ক্ষেত্রে নিরাপদ নাও হতে পারে। ফাঙ্গাস সংক্রমণগুলোর বেশির ভাগ খুব ছোঁয়াচে বলে পরিবারের কোনো এক সদস্যের এ রোগ হলে অন্যদের সতর্ক থাকতে হবে। যেমন কাপড়, বিছানা, বসার আসন ব্যবহারে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।