।। বিশেষ প্রতিনিধি, রাজশাহী ।।

গুরুত্বপূর্ণ পৃথক একটি রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে নিয়ে মোবাইল ফোনে অশোভন কথোপকথনের দায়ে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে র‌্যাব-৫ এর পুলিশ সুপার (এসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা এস এম ফজলুল হক ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা নাজমুল হাসানকে। ঢাকায় পুলিশের একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশের এই দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে আদেশ হয়েছে। বুধবার থেকে তা কার্যকর হবে। ‘জনস্বার্থে’ এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কথা আদেশে বলা হয়েছে।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ১৬ মে এসপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত ৪৭ জন কর্মকর্তাকে পুলিশ সদর দফতর থেকে র‌্যাবে পদায়ন করা হয়। এদের মধ্যে এসপি ফজলুল হকও ছিলেন। তাকে পদায়ন করা হয় র‌্যাব-৫ রাজশাহীতে। এই পদায়ন বিষয়ে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী কমিশনার (এএসপি পদমর্যfদার) নাজমুল হাসানের সঙ্গে ওই এসপির মোবাইল ফোনে কথোপকথন হয়। সেখানে র‌্যাবে অন্য বাহিনী থেকে আসা সমমর্যfদার কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বিষয়টি আলোচিত হয়। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাই রাষ্ট্রের অন্য গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী সম্পর্কে অশোভন কথাবার্তাও বলেন সেখানে।

এই কথোপকথনের রেকর্ড সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও ইউটিউবে ভাইরাল হয়। সেই কথোপjথনের রেকর্ডকে পুঁজি করে দেশের বাইরে থেকে নানা অপপ্রচারও শুরু হয়। এর জেরই ধরে মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদেরকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়।

এর আগে র‍্যাবের পরিচালক (অপারেশনস) লে. কর্নেল মোহাম্মদ এফতেখার উদ্দিন এসপি ফজলুল হককে পুলিশে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার এবং তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশ সদর দপ্তরে একটি চিঠি দেন।

চিঠিতে বলা হয়, এসপি ফজলুল হক সম্প্রতি এএসপি নাজমুলের সঙ্গে একটি স্পর্শকাতর ফোনালাপ করেছেন। ফোনালাপের রেকর্ড পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ফজলুল হক নিজ ইউনিটের উপ-অধিনায়ক ও অন্যান্য কর্মকর্তাদের সম্পর্কে মিথ্যা ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন।

এছাড়াও চিঠিতে বলা হয়, তিনি সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও র‍্যাব নিয়ে বিভিন্ন আপত্তিকর, মিথ্যা, অসৌজন্যমূলক ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন। তার এ ধরনের স্পর্শকাতর বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে দুইটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা থাকে যা মোটেও কাম্য নয় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।