grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার-এর এক মার্কিন সম্পাদককে ইয়াঙ্গুনে আটক করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, সোমবার বিমানে ওঠার আগে মার্কিন নাগরিক ও তাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ড্যানি ফেন্সটারকে আটক করা হয়। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমার তাদের ভেরিফাইয়েড টুইটার অ্যাকাউন্টে জানায়, আমরা জানি না কেন ড্যানিকে আটক করা হয়েছে। সকাল থেকে আমরা তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছি না। তাকে নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদমাধ্যমটি আরও বলেছে, আমাদের অগ্রাধিকার হলো তিনি যে নিরাপদ আছেন তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য হিলের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের মন্তব্য জানতে চাইলে তারা জানায়, গোপনীয়তার বিবেচনায় আমরা বিস্তারিত জানাতে পারছি না।

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ড্যানি যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটভিত্তিক সাময়িকী মেট্রো ডেট্রয়টেও সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন।

১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকেই মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল। প্রতিদিনই বিক্ষোভ ও জাতীয়ভিত্তিতে সরকারকে অসহযোগিতা আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় একটি সংস্থার মতে, এখন পর্যন্ত সেনাবাহিনীর হাতে ৮ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

জান্তার রোষানলে পড়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যমও। বিক্ষোভ ঠেকাতে তথ্য প্রবাহে নিয়ন্ত্রণ, ইন্টারনেট বন্ধ করা এবং পাঁচটি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিল করার মাধ্যমে টুঁটি চেপে ধরা হয়েছে।

৩৭ বছর বয়সী ড্যানি ফেন্সটার ফ্রন্টিয়ার মিয়ানমারে প্রায় এক বছর ধরে কর্মরত আছেন। সংবাদমাধ্যমটির চিফ এডিটর থমাস কিন এএফপিকে জানান, পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ড্যানি বাড়ি যাচ্ছিলেন।

থমাস বলেন, স্থানীয় সময় সকাল দশটার দিকে জানতে পারি ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে ড্যানিকে উঠতে দেয়া হচ্ছে না। ফ্রন্টিয়ার জানায়, ইয়াঙ্গুনের কুখ্যাত ইনসেইন কারাগারে ড্যানিকে নেওয়া হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।

মিয়ানমারজুড়ে অন্তত ৩৪ জন সাংবাদিক ও ফটো সাংবাদিক কারাগারে রয়েছেন। এর আগে গত জাপানি রিপোর্টার ইউকি কিতাজুমিকে আটক করা হয়। তবে গত সপ্তাহে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। মার্চে অল্প কিছু সময়ের জন্য বিবিসির এক সাংবাদিককে সাদা পোশাকে তুলে নিয়ে আটক করেছিল। পৃথক ঘটনায় পুলিশ ফটোসাংবাদিক রবার্ট বসিয়াগাকে বিক্ষোভের ছবি তোলার সময় গ্রেফতার করার পর ছেড়ে দেয়া হয়।

২০২১ সালের রিপোর্টার্স উইদাউথ বর্ডার্সের সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে মিয়ানমার ১৮০টি দেশের মধ্যে ১৪০তম অবস্থানে রয়েছে।