grand river view

ইয়াস-ঝুঁকি থেকে মুক্ত বাংলাদেশ: আবহাওয়া অধিদফর

২৬ মে ২০২১, বুধবার, বেলা ১২টা ১৫

ভারতে যখন তাণ্ডব চালাচ্ছে ইয়াস, তখন বাংলাদেশ এর থেকে ঝুঁকিমুক্ত বলে জানিয়ে দিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর

পশ্চিমবঙ্গের দীঘায় জলোচ্ছ্বাস

২৬ মে ২০২১, বুধবার, বেলা ১২টা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সমুদ্র সৈকত দীঘায় ইয়াসের প্রভাবে শুরু হয়েছে জলোচ্ছ্বাস। পাশের মন্দারমনিতেও একই অবস্থা। সামাজিক মাধ্যমে ছবি ও ভিডিওতে শেয়ার করা হচ্ছে পরিস্থিতি। তেমনই এক ভিডিও দেখুন-

ঢেউ বেড়েছে পদ্মায়, ভেঙে গেছে শিমুলিয়া ঘাটের পন্টুন

২৬ মে ২০২১, বুধবার, বেলা ১২টা

ইয়াসের প্রভাবে বেড়েছে পদ্মা নদীতে ঢেউ। সেই সঙ্গে স্রোতের গতিও বেড়েছে। দেশে শিমুলিয়া ঘাটের পন্টুন ভেঙে গেছে এই ঢেউ আর স্রোতের তোড়ে।

অনুমিত সময়ের আগেই ভারতে আঘাত হানলো ইয়াস

২৬ মে ২০২১, বুধবার, সকাল ১১টা

ভারতের ওড়িশায় আঘাত হানতে শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ভারতের আবহাওয়া বিভাগের ভেরিফাইড টুইটার হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উপকূলে আঘাত হানার সময় এর গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৫ কিলোমিটার। ভারতের আবহাওয়া অফিস বলছে, তিন ঘণ্টা এই তাণ্ডব চলবে।

বুধবার দুপুর নাগাদ ইয়াস আঘাত হানতে উডিষ্যার উপকূলে

২৫ মে ২০২১, মঙ্গলবার, রাত ১১টা

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ এখন ‘অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়ে উডিষ্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে। বুধবার দুপুর নাগাদ ‘ইয়াস’ উড়িষ্যা রাজ্যের উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে বলে আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার দুপুর নাগাদ ঘূর্ণিঝড়টি ‘প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে’ পরিণত হয়। আর সন্ধ্যা নাগাদ সেটি অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়। ঝড়ের কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ রয়েছে ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার।

আগে মনে করা হচ্ছিল যে ঘূর্ণিঝড়টি উড়িষ্যার পারাদ্বীপ থেকে পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপের মধ্যে আছড়ে পড়বে, কিন্তু এখন নির্দিষ্টভাবে জানা যাচ্ছে যে উড়িষ্যার বালেশ্বর শহর থেকে ধামরা বন্দরের মধ্যবর্তী অঞ্চলে আছড়ে পড়বে। ভারতের আবহাওয়া বিজ্ঞান দপ্তর বলছে ওই রাজ্যের ভদ্রক জেলার চাঁদবালিতেই সবথেকে বেশি ক্ষতি করবে এই ঘূর্ণিঝড়।

তটে আছড়ে পড়ার সময়ে ওই অঞ্চলে হাওয়ার গতিবেগ ১৮০ কিলোমিটার প্রতিঘণ্টা পৌঁছবে বলে ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তর তাদের রাতের আবহাওয়া অধিদপ্তর বুলেটিনে জানিয়েছে।

এদিকে ইয়াসের সঙ্গে সঙ্গে ভরা পূর্ণিমা হওয়ায় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জোয়ারের পানি বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

দেশের উপকূলে ঝড়ো বাতাস, জোয়ারের পানি

২৫ মে ২০২১, মঙ্গলবার, দুপুর ৩টা

ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ঘণ্টায় ২১ কিলোমিটার গতি নিয়ে এগোচ্ছে। এটি মঙ্গলবার বিকেলের মধ্যে সুপার সাইক্লোনে পরিণত হতে পারে। বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬৫ থেকে ১৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়তে পারে। বুধবার সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ওডিশা উপকূলে এটি আঘাত হানতে পারে।

এরই মধ্যে ঝড়টির প্রভাবে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঝোড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে। খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, নোয়াখালী এলাকার নিচু এলাকা এবং চরাঞ্চলগুলোতে জোয়ারের পানি প্রবেশ করেছে। অনেক স্থানে বেড়িবাঁধ টপকে ওই পানি প্রবেশ করছে। সুন্দরবনের দুবলার চরসহ জেলে পল্লিগুলোর বেশির ভাগ এলাকা এরই মধ্যে ডুবে গেছে।

বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা ক্ষীণ, তবে বৃষ্টিপাত হবে

২৫ মে ২০২১, মঙ্গলবার, দুপুর ১২টা

বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ প্রবল শক্তিশালী হয়ে সমুদ্রে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এমন অবস্থায় বাংলাদেশের সমুদ্র বন্দরগুলোর জন্য দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রাত ১ টা থেকে ছয় ঘণ্টায় ঘূর্ণিঝড়টি নয় কিলোমিটার গতিতে এগিয়েছে এবং এটি আরো শক্তি সঞ্চয় করবে। তবে এই ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ রুহুল কুদ্দুস। তিনি বলেন, “এখনো পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে, এই ঘূর্ণিঝড়ের পুরো গতিপথ ভারতের উড়িষ্যা এবং পশ্চিমবঙ্গের দিকে। উপকূলে আসার পর ভারতের দিকে যাওয়ার পথে বাংলাদেশের খুলনা এবং সাতক্ষীরা উপকূলে কিছু বৃষ্টিপাত হবে।”

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়েছে ঘূর্ণিঝড়টি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ২৬মে ভোর নাগাদ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছাতে পারে।

মঙ্গলবার সকাল ছয়টায় ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াস’ চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৫২০ কিলোমিটার, মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৫১৫ কিলোমিটার এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৪৮০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার। ঝড়ো হাওয়ার আকারে এর গতি ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

খুলনাসহ চারজেলায় প্রভাব পড়বে বেশি

ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও বরগুনা জেলায়। গতিপথ পরিবর্তন করায় এসব এলাকার উপর দিয়ে ঝড় বয়ে না গেলেও দমকা হাওয়াসহ প্রচুর বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই চার উপকূলীয় এলাকা।

সোমবার ভোরে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের। ঝড়টির বাতাসের গতিবেগ ৮৮ কিলোমিটার। তবে এটি আগের অবস্থান থেকে সামান্য সরে গেছে। এজন্য এখন বাংলাদেশের তুলনায় ভারতের উড়িষ্যা উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছে বাংলাদেশ ও ভারতের আবহাওয়া অধিদফতর। যদি আবারও ঘূর্ণিঝড় দিক পরিবর্তন করে তাহলে বাংলাদেশের উপকূলের দিকেও আসতে পারে। এক্ষেত্রে ঝড়টি বাংলাদেশের খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও বরগুনা জেলাকে আঘাত করতে পারে।

বুধবার আঘাত হানতে পারে

পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আগামীকাল আরও শক্তিশালী হয়ে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ এ পরিণত হতে পারে। নিম্নচাপের কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেন্দ্রের কাছের সাগর উত্তাল রয়েছে।

নিম্নচাপ হলেও দেশের চার সমুদ্র বন্দরকে আগের মতোই ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে গভীর সাগরে বিচরণ না করার পাশাপাশি তাদের আগামীকালের (২৩ মে) মধ্যে উপকূলে ফিরে আসতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা আগামী ২৬ মে বুধবার ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ বাংলাদেশের খুলনা ও সাতক্ষীরা এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও উড়িষ্যার উপকূলে আঘাত হানার শঙ্কা প্রকাশ করছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত বিশেষ সতর্ক বার্তায় বলা হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে এবং এর আশপাশের এলাকায় সৃষ্ট সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে একই এলাকায় নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে গভীর নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।

নিম্নচাপটি দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৭০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৬২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ পশ্চিমে, মোংলা বন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং পায়রা বন্দর থেকে ৬৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এ জন্য চট্টগ্রাম, পায়রা, কক্সবাজার এবং মোংলা সমুদ্রবন্দরগুলোকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নিদেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ করতে না করা হয়েছে।

বিশ্বের সব আবহাওয়ার পূর্বাভাস কেন্দ্রগুলো জানায়, ২৫ মে মধ্যরাত থেকে ২৬ মে সন্ধ্যার মধ্যে ঘূর্ণিঝড় ‘ইয়াশ’ বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। আম্পান যেদিক দিয়ে স্থলভাগে প্রবেশ করেছিল, সেই সাতক্ষীরা ও খুলনার ওপর দিয়ে সম্ভাব্য আঘাতটা হানতে পারে এ ঘূর্ণিঝড়।

সর্বশেষ পূর্বাভাস মতে, মধ্যম মানের এ ঘূর্ণিঝড়টি প্রবেশের সময় বাতাসের গতিবেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৫০ কিলোমিটার। তবে গতিবেগ কম হলেও ২৬ মে ভরা পূর্ণিমার ফলে উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসসহ বড় ধরনের ক্ষতির শঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ৮ থেকে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস বয়ে যেতে পারে উপকূল দিয়ে।