সাংবাদিক রোজিনার জামিন

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সরকারি অফিস থেকে তথ্য চুরির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দিয়েছেন আদালত। জামিনের পর তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না বলে জানিয়ে তার পাসপোর্ট জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার (২৩ মে) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বাকী বিল্লাহর ভার্চুয়াল আদালতে তার জামিন আবেদনের শুনানি হয়। আদালত শুনানি শেষে তাৎক্ষণিক আদেশ না দিয়ে নথি পর্যালোচনা করে আজ আদেশের জন্য দিন ধার্য করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হীরণ এবং রোজিনা ইসলামের পক্ষে প্রশান্ত কুমার কর্মকার ও এহসানুল হক সমাজীসহ কয়েকজন আইনজীবী অংশ নেন।

রোজিনা ইসলাম পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সোমবার (১৭ মে) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। পরে জানা যায়, তাকে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা একটি কক্ষে আটকে রেখেছেন। রোজিনা ইসলামকে আটকে রাখার খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওই ভবনে যান। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে তাকে আটকে রাখার কারণ সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীরা জানতে চাইলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা কিছুই জানাননি। একপর্যায়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে কিছু নথি সরানোর অভিযোগ এনে পুলিশ ডাকা হয়েছে। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে রোজিনাকে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসা হয় এবং রাতেই তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরদিন মঙ্গলবার (১৮ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীমের আদালত রোজিনা ইসলামের রিমান্ড নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আটকের ৬ দিন পর রোববার জামিনের আদেশ দেন আদালত। সাংবাদিক রোজিনাকে ৫ হাজার টাকার বন্ড দিতে হয়। আদেশ দানকালে আদালত বলেন, “গণমাধ্যম রাষ্ট্রের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত ও গণতন্ত্রের সহায়ক ভূমিকা পালন করে।”