।। সোশ্যাল মিডিয়া ডেস্ক ।।

সচিবালয়ে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও পুলিশে দিয়ে মামলার ঘটনার ক্ষোভ ছুঁয়েছে সামাজিক মাধ্যমেও। প্রতিবাদ করেছেন বিশিষ্টজনেরা। তারই কয়েকটি তুলে ধরা হলো—

মোহাম্মদ রফিক, কবি

যে দেশের সচিবালয়ে, একজন সাংবাদিক এবং নারী শারীরিকভাবে নির্যাতিতা হতে পারেন এবং হন; উক্ত দেশের সরকারের দায়িত্ব পালনে কী পরিমাণ নৈতিকতার দাবিদার; আমাদের সকলের অবশ্যই বুঝে নিতে হবে। নচেৎ দেশটাই যে ভেস্তে যাবে; এগিয়ে আসুন—দেশ বর্বরদের নয়; আপনার এবং আমাদের; আমাদের পূর্বপুরুষের রক্তেভেজা এ দেশে মাটি। আওয়াজ তুলুন, বর্বরতা ধ্বংস হোক… বয়কট করুন বর্বরদের।

হাসনাত আবদুল হাই, কথাসাহিত্যিক

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল সিক্রেটস এক্টে পড়ার মত কোনো বিষয় থাকতে পারে বলে মনে হয় না। জনসেবায় নিয়োজিত বলে স্বচ্ছতা থাকার কথা। তথ্য অধিকার আইন কি বলে তা দেখা হোক। কোন তথ্য অফিসিয়াল সিক্রেটস আক্টে পড়ে আর পড়ে না, তা পরিস্কার হবে। করোনার পর স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতির অনেক কথা কাগজে ছাপা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে এই খাতের ওপর নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।

মলয় ভৌমিক, নাট্য ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষক

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ২০০৭ সালে নিজের দায়বদ্ধতা থেকে প্রধানত আপনার মুক্তির জন্য কারাগারে গেছি। আজ রোজিনা ইসলামের জন্য কারাগারে যেতে প্রস্তুত। আপনার প্রজ্ঞা প্রশ্নাতীত।

আহমেদ শফিউদ্দিন, সাংবাদিক ও কলামলেখক

ভর্তি থেকে শুরু করে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসুরক্ষার সকল পর্যায়ে যেকোন অনিয়ম দুর্নীতি—পরোক্ষভাবে গণহত্যার মত অপরাধ নয় কি?

জাকির তালুকদার, কথাসাহিত্যিক

কার জন্য এত ঝুঁকি নেন রোজিনা এবং তার মতো আরো দুই-চারজন? সত্য প্রকাশের জন্য? সত্য জেনে পাবলিক কী করে? রাজপথে তো নামেই না, তাদের সুখনিদ্রাতেও কোনো ব্যাঘাত ঘটে না।

আ-আল মামুন, শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

জনগুরুত্বপুর্ণ কোন তথ্যই জনগণের কাছে থেকে ‘গোপনীয়’ হতে পারে না। ফলে, প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে যারা ‘নির্যাতন ও হয়রানি’তে অংশ নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেয়ার দাবি উঠুক।

সাজ্জাদ বকুল, শিক্ষক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

এই করোনা মহামারির মধ্যে দেশের মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে হতাশ হয়ে জার্মানির একজন প্রাদেশিক মন্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন।

করোনা সামলাতে ব্যর্থতার জন্য একটি দেশে (নামটা এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না) পরপর চারজন স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিপরীতে বাংলাদেশে করোনা সামলাতে সীমাহীন ব্যর্থতার সর্বশেষ নজির হলো সময়মতো টিকা আমদানির কার্যকর ব্যবস্থা না করায় লক্ষ লক্ষ মানুষের দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদানে ঘোর অনিশ্চয়তা। নিম্নমানের মাস্ক-পিপিই সরবরাহ, জরুরিভিত্তিতে আমদানি করা করোনার চিকিৎসার সামগ্রী এক বছর ধরে বিমানবন্দরে খালাসের অপেক্ষায় পড়ে থাকা, এই করোনার সময়েও স্বাস্থ্যখাতে লাগামহীন দুর্নীতি- এতো কিছুর পরেও এ দেশে মন্ত্রীর কিছুই হয় নি, শাস্তি পান নি অভিযুক্ত কোনো সরকারি কর্মকর্তা।

এই সংকটের মধ্যেও সরকারি কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকা সরকারের কাছে চাচ্ছেন বিদেশে প্রশিক্ষণের নামে প্রমোদ ভ্রমণের জন্য।

উল্টো এসব দুর্নীতির খবর প্রকাশের রাগে সাংবাদিক রোজিনাকে কাল সচিবালয়ে আটকে মানসিক নির্যাতন, পরে মামলা, আদালতে তোলা, জেলহাজতে পাঠানো সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আশা, ভবিষ্যতে আর কোনো রোজিনা যাতে তাদের দুর্নীতি নিয়ে রিপোর্ট না করতে পারেন, কানাডার বেগমপাড়া-সাহেবপাড়ার খবর জাতিকে দিতে না পারেন।

সরকারকে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি আমলাদের একটা বড় অংশ জিম্মি করে ফেলেছে-এসব সেটাই প্রমাণ করে। বিশেষ করে আমলাদের একটা অংশ অবৈধভাবে বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছে, ক্ষমতার দম্ভে কখনো তারা তাদের মালিক জনগণকে কান ধরিয়ে ওঠবস করাচ্ছে, কখনো সাংবাদিককে রাতের আঁধারে লোক দিয়ে বেধড়ক করাচ্ছে (কুড়িগ্রামের ডিসি সুলতানার সরকারি পুকুর নিজের নামে ‘সুলতানা সরোবর’ করা নিয়ে নিউজ করার জের)।

এসব লক্ষণ মোটেও ভাল নয়। বঙ্গবন্ধুকন্যা যখন দেশকে উন্নত রাষ্ট্র করার চেষ্টায় দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন তখন তাঁর বাহিনীর এই অংশটা সরাসরি সেই প্রচেষ্টার বিপরীতে কাজ করে যাচ্ছে।

সত্যি এটা ভয়াবহ অশনিসংকেত।

আমিরুল ইসলাম কনক, শিক্ষক, ফোকলোর বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে সচিবালয়ের ফ্লোরে ফেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ কর্তৃক অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যাচেষ্টার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

কাজী শাহেদ, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংবাদিক নেতা

গলাটি রোজিনার নয়, আমলাতন্ত্রের দম্ভের হাত সাংবাদিক সমাজের গলা ধরেছে। পেশাদারিত্বের কণ্ঠ চেপেছে ঔদ্ধত্য নিয়ে। রোজিনা ইসলামের মুক্তি চাই।

রাষ্ট্র মানবিক না হলে তার চেয়ে দুঃখজনক কিছু থাকে না। বাংলাদেশ স্বাধীনতার ৫০ বছরে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা চোখের মণির মতো রক্ষা করতে হবে বলেই মনে হচ্ছে।

রফিকুল ইসলাম, সভাপতি, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন

সাংবাদিক রোজিনাকে ৫ ঘণ্টা ধরে সচিবালয়ে আটকে রাখার পর তাকে পুলিশে দেয়ার ঘটনাটি ন্যাক্কারজনক। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

মোজাফফর হোসেন, কথাসাহিত্যিক

এখনো আমাদের চোখগুলো তুলে নেয়া হয়নি, তাই আমরা দেখতে পাই। এখনো আমাদের অনুভূতিতে বেয়োনেট চার্জ করা হয়নি, তাই আমরা নিঃশব্দে চিৎকার করতে পারি। মাননীয় আদালত, একটা অন্ধজাতির রায় লিখে দেন, আমরা দৃশ্যের যন্ত্রণা থেকে বাঁচতে চাই।