grand river view

।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

সরকারি অফিস থেকে তথ্য চুরির অভিযোগে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় দায়ের করা মামলায় কারাবিধি অনুযায়ী তাকে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসীমের আদালত এই আদেশ দেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এদিন তার আইনজীবী প্রশান্ত কুমার কর্মকার আদালতের কাছে বলেন, রোজিনা ইসলাম বিভিন্ন রোগে ভুগছেন। তার চিকিৎসা দরকার। আমরা তার চিকিৎসার জন্য আবেদন করেছি। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তা মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে আদালত রোজিনা ইসলামের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। একইসঙ্গে তার জামিন শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার (২০ মে) ধার্য করেন।

এর আগে সোমবার (১৭ মে) পেশাগত দায়িত্ব পালনের জন্য সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান। সেখানে ৫ ঘণ্টার বেশি সময় তাকে আটকে রেখে হেনস্তা করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাত ৯টার দিকে তাকে সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানায় আনা হয়।

রাতে রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের উপ-সচিব ডা. মো. শিব্বির আহমেদ উসমানী এ মামলা দায়ের করেন। সাংবাদিক রোজিনার বিরুদ্ধে অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোনে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলা এবং আরও কিছু নথি লুকিয়ে রাখার অভিযোগ এনেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা তথ্য পাচার মামলায় রোজিনা ইসলামকে আজ সকাল আটটার দিকে সিএমএম আদালতে নিয়ে আসা হয়। সকাল ১১টা ৫ মিনিটে তাকে আদালতে তোলা হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী হেমায়েত উদ্দিন খান হিরন। রোজিনা ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করা হলে তার আইনজীবী এহসানুল হক সামাজী রিমান্ডের আবেদনের বিরোধিতা করে জামিন চান।

চিফ জুডিশিয়াল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জসিম সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের রিমান্ড নাকচ করেন এবং আগামী বৃহস্পতিবার (২০ মে) জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন। এই দুই দিন তাকে কারাগারেই থাকতে হবে। বিচারকের আদেশ পাওয়ার পর সিএমএম আদালতের গারদ খানায় রাখা হয় তাকে। সর্বশেষ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পাঠানো হয়েছে সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে।