।। এপি, বিবিসি রয়টার্স ।।

আগে থেকে ঘোষণা দিয়ে গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়ে ক্ষেপনাস্ত্রে একটি ১২তলা ভবন গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল, যেখানে মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) ও কাতারভিত্তিক আল-জাজিরার অফিস ছিলো।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় বহুতল ভবনটি ধসে পড়ে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। এতে বেশকিছু অফিস ও আবাসিক ফ্ল্যাট ছিল।

আক্রমণের আগে ওই ভবনের মালিকের কাছে আগাম সতর্কবাণী দেয় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। বলা হয়, জালা টাওয়ার নামে বহুতল ভবনটিতে আক্রমণ চালানো হবে।

ভবন খালি করার জন্য মাত্র এক ঘন্টা সময় দেয়া হয়। অতিরিক্ত ১০ মিনিট চেয়ে একজন ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে বার বার অনুরোধ করেন মালিক জাওয়াদ মেহেদি – কিন্তু কর্মকর্তাটি তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এর পর ভবনটি থেকে সব লোকজনকে বের করে নেয়া হয়। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে কেউ হতাহত হবার খবর পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের দাবি, ওই ভবনে হামাসের তৎপরতা ছিলো এবং তাদের বেশ কিছু জিনিসও সেই ভবনে রাখা ছিলো।

গণমাধ্যমের অফিস থাকা ওই ভবনটিতে হামলার ঘটনায় এপির প্রেসিডেন্ট ও সিইও আল জাজিরাকে বলেছেন, আল-জাজিরা ভবনে যেখনে এপির অফিস ছিল, সেখানে ইসরায়েলি আক্রমণ ‘অবিশ্বাস্যরূপে বিরক্তিকর’। তিনি এতে ‘ব্যথিত ও আতঙ্কিত’।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আল জাজিরার সাংবাদিক সাফওয়াত আল-কাহালাউট বলেন, ‘আমি ১১ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। আমি এই ভবন থেকে অনেক ইভেন্ট কাভার করেছি। দুই সেকেন্ডের মধ্যে সবকিছুই শেষ হয়ে গেল।’

‘আমার সব সহকর্মীরা এই দুঃখের পরেও এক মুহূর্তও থেমে নেই। তারা আল জাজিরাকে খবর প্রকাশের দিক থেকে শীর্ষে রাখার জন্যে বিকল্পের সন্ধান করছে’, তিনি বলেন।

আল জাজিরা ইংলিশের একজন সংবাদ উপস্থাপিকা বলেন, ‘আল-জাজিরাকে নীরব করা যাবে না। সে বিষয়ে এখন আমরা গ্যারান্টি দিতে পারি।’

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক টুইট বার্তায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে যে ওই ভবনটিতে তাদের ভাষায় “হামাসের সামরিক সম্পদ” ছিল এবং ওই ভবনের বাসিন্দাদের “মানব-ঢাল” হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ইয়েন সাকি এক বার্তায় বলেছেন, এ নিয়ে ইসরায়েলের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং সাংবাদিক ও স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তাদের বলা হয়েছে।

জো বাইডেনের দূত ইসরায়েলে পৌঁছার একদিনের মধ্যেই এই ঘটনা ঘটলো।