আমিরুল ইসলাম কনক

।। আমিরুল ইসলাম কনক ।।

ঢাকায় গুলশানের ফ্ল্যাটে গত ২৬ এপ্রিল ২০২১ মোসারাত জাহান মুনিয়া নামক তরুণীর মৃত্যুরহস্য নিয়ে গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সরকার এবং প্রশাসনের নানা স্তরে বিভিন্নমুখী আলোচনার শেষ নেই যেন। প্রতিটি স্তরেই আলোচনার বিষয়বস্তু এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করছে যেন, ‘সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি?’ সর্বশেষ খবর চট্টগ্রাম-৩ এর সাংসদ শামসুল হকের পুত্র শারুনের নামে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ দায়ের করে মুনিয়ার ভাইয়ের মামলা। ইতোমধ্যে মুনিয়া আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মুনিয়ার বড়ো বোন তানিয়ার করা মামলা এবং মিডিয়ার প্রশ্নবিদ্ধ আচরণের বিষয়টি দেশব্যাপী টক অব দ্য ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান লেখাটি মুনিয়ার মৃত্যুরহস্যকেন্দ্রিক কিছু মিডিয়ার পক্ষপাতমূলক দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ সামনে রেখে অগ্রসর হলেও প্রতিশ্রুতিশীল অথচ সামনের দিকে নয় ঢাকার বাইরের এমন কিছু সংবাদমাধ্যমের নিষ্ঠা সম্পর্কেও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

কৃষিক্ষেত্রে ফসল ফলানোর প্রথম শর্ত হলো কর্ষণ। উপযুক্ত আবহাওয়ায় বর্ষণ হলে ক্ষেত্র চাষ করে বীজ বুনে দিলে ফসলের চারা দৃশ্যমান হয়। কর্ষণে একাধিক হাল ব্যবহার করা হলে সাধারণত দক্ষ এবং অভিজ্ঞ চাষির হাল আগে চলে এবং তার পেছনে পেছনে চলে অপেক্ষাকৃত কম দক্ষ চাষিদের হাল। অর্থাৎ, নতুন চাষিরা অভিজ্ঞদের অনুসরণ করেন। বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতেও এমনটিই সাধারণত হওয়ার কথা। কিন্তু তা ঘটছে না। অর্থাৎ, বর্তমান প্রজন্মের প্রতিশ্রুতিশীল মিডিয়া জগতের অনুজেরা তাদের সামনে চলা ব্যর্থ এবং পক্ষপাতদুষ্ট অগ্রজদের সকল ক্ষেত্রে অনুসরণ করছেন না। এর ব্যতিক্রম নেই, এমনটিও নয়। সম্প্রতি মুনিয়া মৃত্যুরহস্য নিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত প্রথিতযশা সাংবাদিক, সম্পাদক, লেখক, গবেষক, চিন্তকদের অবস্থান কেবল হতাশাজনকই নয়; লজ্জাকর এবং করুণারও উদ্রেক করে। চোখ বন্ধ রাখলেই তো আর প্রলয় থেমে থাকে না। ক্ষেত্রবিশেষে পুরাতন অভিজ্ঞ হালবাহক ব্যর্থ হলে নতুনদেরই মুখ্য চালকের কাজটি করে যেতে হয়। যারা চোখে দেখেও দেখেন না, কানে শুনেও শোনেন না; তাদের জেগে থাকা দিবানিদ্রার রহস্য সাধারণ মানুষ খুব সহজেই বুঝতে পারেন, এ কথাটি তারা ভুলে যান।

এ ক্ষেত্রে ঢাকার বাইরের বিভিন্ন বিভাগ, জেলা এমনকি উপজেলা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় প্রজন্ম, অনলাইনভিত্তিক বেশকিছু নিউজপোর্টাল এবং ব্লগ যথাযথ সত্য প্রকাশের কাজটি যত্ন এবং দায়িত্ববোধের সঙ্গেই করে চলেছে বলে দৃশ্যমান হচ্ছে। মিডিয়ার নীতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, অনলাইনভিত্তিক বিভিন্ন পত্রিকা এবং বিভিন্ন সামাজিক গ্রুপ অনলাইনভিত্তিক আলোচনায় চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন। সবকিছু যখন স্পষ্ট তখন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অনলাইন ভার্সন থেকেও এখন গণমানুষের চিন্তার সঙ্গে সুর মেলানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু তাদের অবস্থান এমন যেন, ‘বিচার মানলাম কিন্তু তালগাছটি আমার।’ গত ২৮ এপ্রিলের ডেইলি স্টারের ‘স্ট্রেইট ফ্রম স্টার নিউজ’ আয়োজিত আলোচনাটি যারা দেখেছেন তারা একটু মনে করার চেষ্টা করুন। আলোচনাটির গুরুত্ব সন্দেহাতীত এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সেখান থেকে পরিষ্কারও হয়েছে। যেখানে মূল আলোচনাটিই ছিল ‘গণমাধ্যমের নীতি নিয়ে প্রশ্ন’ সেখানে গণমাধ্যমে সত্য লুকিয়ে কিংবা মিথ্যা প্রচার করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে রূপায়ন গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক দেশ রূপান্তরের মতো পত্রিকার শিরোনাম ‘বোনের লোভে লোভী মুনিয়া’, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক সময়ের আলো পত্রিকার শিরোনাম ‘পোশাকের মতো প্রেমিক বদলাতেন মুনিয়া’, আহছানিয়া মিশনের মালিকানাধীন দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকার শিরোনাম ‘মুনিয়া সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য’, নাসিমা খান মন্টি সম্পাদিত আমাদের সময় ডটকমের ‘পোশাকের মত প্রেমিক বদলাতেন মোসারাত জাহান মুনিয়া’(যদিও তারা পরে ভুল স্বীকার করেছে), পূর্বপশ্চিম বিডি শিরোনাম দিয়েছে ‘মুনিয়ার একের পর এক পুরুষ শিকার ছিলো নেশা ও পেশা’, দেশবন্ধু গ্রুপের মালিকানাধীন দৈনিক আজকালের খবরের শিরোনাম ‘পোশাকের মতোই প্রেমিক বদলাতেন মুনিয়া’, ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকম ‘অপ্রাপ্ত বয়সে বিয়ে করেছিলেন মুনিয়া? এসব নিয়ে মামলা-মোকদ্দমা করেছিলেন তার বড় বোন?’, কাজী এরতেজা সম্পাদিত দৈনিক ভোরের পাতা ‘ক্লাস নাইনেই দুই বাচ্চার বাবাকে গোপনে বিয়ে করেছিল মুনিয়া!’, বাংলা প্রতিদিন নামে একটি অনলাইন পোর্টাল ‘একের পর এক প্রেমিক বদলে অভিজাত বনেছে মুনিয়া, বোন-ভগ্নিপতিকে বানিয়েছে ধনাঢ্য’—শিরোনামগুলো একবার দেখলেই বোঝা যায় এই জাতীয় পত্রিকাগুলো অপরাধীর অপরাধ আড়াল করতে নতুন অপরাধের পাহাড় জমা করার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমকে গণবিরোধী ও আস্থাহীন করে তুলেছে। মুনিয়ার চরিত্র হনন করে তারা মৃত্যুরহস্য কিংবা হত্যাকাণ্ডকেই অস্বীকার করতে চাইছে।

মুনিয়া না হয়ে একজন সহায়হীন যৌনকর্মীর মৃত্যু হলেও তার মৃত্যু রহস্য উন্মোচন রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটন ও অপরাধীর শাস্তির দাবি না তুলে একজন মৃত নারীর ব্যক্তিজীবন নিয়ে মুখরোচক আলোচনা ও বিচারের রাস্তা বন্ধ করার এই প্রবণতা জাতীয় চরিত্রেরই দীনতা বলে মনে করা যেতে পারে। অপরাধী যেই হোক না কেন তার শাস্তি হোক নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে। সেই সঙ্গে একজন মৃত নারীর ব্যক্তিজীবন নিয়ে অপ্রয়োজনীয় এবং বিব্রতকর তথ্য পরিবেশনের কারণে এই সকল পত্রিকাগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি। বসুন্ধরা দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী। তাদের মালিকানায় রয়েছে পাঁচটি সংবাদমাধ্যম। দেশের শীর্ষস্থানীয় সকল সকল পত্রিকায় প্রতিদিন তাদের কোটি কোটি টাকার বিজ্ঞাপন যায়। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সরকারি বেসরকারি সংগঠনে আনভীর কোটি কোটি টাকা আর্থিক অনুদান দিয়ে থাকে। মুনিয়ার সঙ্গে আনভীরের একটি সম্পর্ক ছিল এ বিষয়টি এখন নিশ্চিত। এ সম্পর্কের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও যেহেতু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে, কাজেই এটা এখন হত্যাজনিত অপরাধ। অভিযোগ অনুযায়ী এই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট সকল উৎস এবং আনভীরের পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই নিশ্চিত হওয়া দরকার ছিল যে এটি আত্মহত্যা না কি হত্যাকাণ্ড। আনভীরের পরিবারের সদস্যবৃন্দ কেন তাড়াহুড়ো করে দেশ ছেড়ে গেলেন? মুনিয়াকে নিয়ে কিছু সংবাদ মাধ্যমের সাম্প্রতিক আচরণ একদমই দায়িত্বজ্ঞানহীন। বিচারের প্রয়োজনে মুনিয়ার ব্যক্তিজীবন এবং পরিবারকে এভাবে আক্রমণ আর বিব্রত করার কোনো মানে হয় না, যা বিচারের জন্য কোনো গুরুত্ব রাখে। প্রচার মাধ্যমে মৃত মুনিয়ার নাম বাদ দেয়ার যৌক্তিকতা যেন তার পরিবার আরও বেশি হয়রানি ও ঝুঁকির মাঝে না পরে। উপরন্তু বসুন্ধরা গ্রুপের নামটি পর্যন্ত উহ্য রেখে অভিযুক্ত অপরাধীকে আড়াল করে সাজামুক্ত রাখার ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া গেল।

সরাসরি অর্থগ্রহণ কিংবা বসুন্ধরার বিজ্ঞাপন হারানোর ভয়ে এই শ্রেণির পত্রিকাগুলো প্রথমত, অপরাধীর অপরাধ আড়াল করে নতুন অপরাধ করছে; দ্বিতীয়ত, মিথ্যা ছড়িয়ে জনমনে অনাস্থা সৃষ্টি করছে; তৃতীয়ত, সামাজিক বৈষম্যকে উসকে দিচ্ছে। এই সকল পত্রিকা কি মুনিয়ার চরিত্র হনন থেকে বিরত থাকতে পারতো না? মুনিয়ার মৃত্যু হয়েছে আকবর সোবহানপুত্র সায়েম সোবহান আনভীরের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে। মুনিয়া সেখানে একা থাকতো। সায়েম সেখানে যাতায়াত করতো। চ্যানেল আই তাদের প্রতিবেদনে সংবাদটি প্রচার করলো কিন্তু দ্বৈত ফটোতে মৃত মুনিয়ার মুখটি প্রদর্শন করলো আনভীরের ফটোটি ব্লার করে। অবশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ঢাকার বাইরের অনলাইন পোর্টালগুলোতে প্রকাশিত গণধিক্কারের বিষয়টি অবগত হয়ে তারা দুঃখ প্রকাশ করলো এই বলে যে টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে ভুলক্রমে তারা এমনটি করেছে। দুঃখপ্রকাশ এবং তথাকথিত ভুল করে হলেও তাদের এই ছবি প্রকাশ বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বশীল সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকৃত মানসিক চিত্রই প্রকাশ করে।

পুলিশের সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজ, মুনিয়ার ডায়েরি, তার বোনের ভাষ্য, আনভীরের সঙ্গে কথোপকথনের ফোনরেকর্ড, আনভীরের ঐ সময়ে অন্যদের সঙ্গে ফোনে কী ধরনের যোগাযোগ, মুনিয়াকে নিয়ে জটিলতা, শারুনের সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে আনভীরের সম্পর্ক, মুনিয়া শারুন আনভীর জটিলতা, আনভীর মুনিয়ার সম্পর্ক প্রকাশ, আনভীরের মা-স্ত্রী এবং পরিবারের সঙ্গে সংঘটিত ঘটনা, পরিমনি, পিয়াসা কানেকশন প্রভৃতি নিয়ে প্রকৃত সত্য অনুসন্ধানের আলোকে প্রতিবেদন করা যেত। সত্য আড়াল করবার যত কৌশলই অবলম্বন করা হোক না কেন, কোনো কিছুই এখন আর আড়ালে নেই। আড়াল রয়েছে কেবল সবকিছু পরিষ্কার হওয়া স্বত্বেও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করার রহস্য।

বাংলাদেশে সর্বজনস্বীকৃত বেশকিছু সম্পাদক এবং সংবাদকর্মী কেন প্রশ্ন তুললেন না যে আনভীরের ভাড়া করা ফ্ল্যাটে যেহেতু মুনিয়ার লাশ পাওয়া গেছে, সেহেতু এর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাকে আইনের আওতায় নেয়া দরকার ছিল। প্ররোচনার দায়ে আনভীরের নাম সরাসরি থাকার পরেও কেন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি এ বিষয়ে তারা কী ভূমিকা নিয়েছেন? ঘটনাটি হত্যা না আত্মহত্যা যথাযথ তদন্তের পূর্বেই তারা কীভাবে নিশ্চিত হলেন? আনভীরের মা-স্ত্রী-ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের দেশ ছেড়ে যাওয়া নিয়ে তারা কেন সরকার এবং প্রশাসনের কাছে প্রশ্ন তুললেন না? তাদেরকে কেন দেশ ছেড়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়া হলো? তাদেরকে কেন জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন করা হলো না? আনভীর দেশ ছেড়ে যদি পালিয়ে গিয়ে না থাকে তবে সে কোথায় অবস্থান করছে, তা কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না? সরকারের মনোভাব এবং প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বারোপ করে তারা কেন দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন না? সকলেই দিন এনে দিন খাওয়ার মতো ব্যক্তিত্ব তারা নন। সত্যপ্রকাশের বাধা থাকায় প্রতিবাদস্বরূপ তারা অন্তত একজন নিজ দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারতেন।

আপাতদৃষ্টে টাকা খেয়ে মুনিয়ার চরিত্র হননে নেমেছে কোনো কোনো গণমাধ্যম, কিন্তু কতিপয় টিভি চ্যানেল এবং এই সম্পাদকগণ এমনই ভয়াবহ নোংরামির সমার্থক এবং সমর্থক? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখক, রাজনৈতিক গবেষক ফিরোজ আহমেদের একটি লেখায় পুরো বিষয়টি এমন বিশদে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যেখানে মুনিয়ার মৃত্যুরহস্যের সমান্তরালে বর্তমান দেশ-কাল স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তার ভাষ্যে, “খেয়াল করুন পাঠক, আমরা সচেতনভাবে মুনিয়ার কথা লিখছি। ডেইল স্টার লেখেনি বা বলেনি। আমরা একইভাবে লিখেছিলাম তনু কিংবা এর আগে আরও অনেকের কথা। আমরা কি এইভাবে ডেইলি স্টারের মত বলতে পারতাম, গুলশানে নিহত কিশোরী হত্যার বিচার চাই? কুমিল্লায় নিহত কিশোরী হত্যার বিচার চাই? চট্টগ্রামে নিহত অমুক হত্যার বিচার চাই? কিংবা এক দুই তিন চার এমন সব সংখ্যায় দিয়ে প্রকাশ করতে পারতাম? মনে হয় পারতাম না। শিশু হলেও হয়তো তাদের নামই লিখতাম, এমন পরিস্থিতিতে। মামলার কারণে এই নামগুলো প্রকাশ্য তথ্যে পরিণত না হলেও হয়তো ঝুঁকি নিয়ে লিখতাম। কেননা, আইন যদি স্বাভাবিক থাকতো, কিছু আসতো যেতো না তাদের নাম ‘রোকেয়া বা রোকসানা’ তাতে, এমনিতেই হয়তো ন্যায় বিচারের আশা আমরা করতে পারতাম।” … ‘ফলে মুনিয়ার পরিবারের বিব্রত হওয়াটা বুঝেও আমাদের তার নামটা বারংবার বলতে হবে। মুনিয়ার নামটা এই রাষ্ট্রের অবিচারের প্রতীক, যেমন তনু কিংবা বুশরা বা আরও  অনেক প্রায় ভুলে যাওয়া নাম।’ আশার কথা এই যে কিছু কিছু জাতীয় গণমাধ্যম এবং ঢাকাকেন্দ্রিক তাঁবেদার গোষ্ঠীর বাইরে উদীয়মান কিছু সংবাদকর্মী এবং আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিশীল সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ববোধের কারণেই গণমানুষের মনে বিচারের দাবিটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মুনিয়া হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত হোক। গণমাধ্যম হোক পক্ষপাতদুষ্ট; সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত হোক রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের, এই প্রত্যাশা।

আমিরুল ইসলাম কনক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও সামাজিক কর্মী

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.