।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতজুড়ে হু হু করে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বলা হচ্ছে উচ্চ সংক্রমণের জন্য ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট খুবই ভয়াবহ।

তাই সেখানে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। বাংলাদেশকে তিন দিক থেকেই ঘিরে আছে ভারত। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ এড়াতে রাজশাহী সীমান্তে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সোমবার (৩ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা বৈঠক থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের একথা জানান। 

করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে সীমান্ত বন্ধ রাখার যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা পরিবর্তন হচ্ছে না জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্ডার যেভাবে বন্ধ করা আছে, তা বন্ধ থাকবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত সীমান্ত খুলবে না। ফলে আগের ঘোষণানুযায়ী বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত ৯ মে পর্যন্ত বন্ধ ছিল। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য করে দেয়া হয়।

এদিকে, পাশের দেশ থেকে গরু, কসমেটিকস, শাড়িসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য চোরালান হয়ে আসে ভারত থেকে। ঈদের আগে তা আরও বেড়ে যায়। এ কারণে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সর্বোচ্চ তৎপর হয়ে উঠেছে বিজিবি। এরপরও এই অঞ্চলের চোরাচালানিরা রাতের আঁধারে লুকিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন বলে জানা যায়। তবে বিজিবি বলছে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধীনে থাকা সীমান্ত এলাকা দিয়ে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেনি।

বর্তমানে করোনা সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়তে থাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি আগের চেয়ে জনবল বাড়িয়ে সীমান্তে সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একইভাবে তৎপর রয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীও (বিএসএফও)। যে কারণে এই উল্লেখিত সময়ের মধ্যে রাজশাহী সীমান্ত এলাকায় কোনো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া চোরাচালানও অনেকাংশে কমে এসেছে।

অন্যদিকে, রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় রাজশাহী বিভাগে করোনা ভাইরাসে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। 

এর মধ্যে সীমান্তঘেঁষা রাজশাহীতে একজন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে দু’জন রয়েছে। এছাড়া করোনা আক্রান্ত হয়ে বগুড়ায় তিনজন এবং পাবনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। 

মঙ্গলবার (৪ মে) বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভাগের আট জেলায় এ পর্যন্ত ৪৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বগুড়ায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৭০ জন মারা গেছেন রাজশাহীতে। এছাড়া সীমান্ত এলাকা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০ জন, নওগাঁয় ৩৪ জন, নাটোরে ১৭ জন, জয়পুরহাটে ১১ জন, সিরাজগঞ্জে ২৩ জন এবং পাবনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজশাহী বিভাগে ১০২ জন রোগী নতুনভাবে শনাক্ত হয়েছেন। তবে আশার কথা হচ্ছে রাজশাহী বিভাগে এখনও পর্যন্ত কারও মধ্যে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট মেলেনি।

সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের ব্যাপারে বিজিবি-১ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল সাব্বির আহমেদ বলেন, নির্দেশনা আসার পর বিজিবি সীমান্তে নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। করোনা সংক্রমণের মধ্যে ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট যেন ছড়াতে না পারে সেজন্য বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে কঠোর অবস্থানে আছেন। সর্বোচ্চ সতর্ক থেকে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে বিএসএফের সঙ্গে দিন ও রাতে সমন্বিত টহল দিচ্ছে। নিয়মিত পতাকা বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ করছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী। এছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষেকে এ ব্যাপারে সচেতন করছে। 

এতে সীমান্তবর্তী মানুষ এখন করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আগের চেয়ে অধিক সচেতন। আর সীমান্তে অপরাধ প্রবণতাও অনেকাংশে কমে গেছে। সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, হত্যাকাণ্ডসহ সব ধরনের অপরাধ প্রবণতা বন্ধে বিজিবি বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক।

Comments are closed, but trackbacks and pingbacks are open.