।। বার্তাকক্ষ প্রতিবেদন ।।

গুলশানে নিজ ফ্ল্যাটে কলেজপড়ুয়া মোসারাত জাহান মুনিয়ার মৃত্যুরহস্যের সঙ্গে আলোচনায় এসেছে আরও দুটি নাম। পুলিশ মামলা তদন্তের স্বার্থে এরইমধ্যে একজনের সঙ্গে এক দফা কথা বলেছে। আরেকজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়।

এর একজন পিয়াসা। যার মাধ্যমে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি ও আসামি সায়েম সোবহান আনভীরের মা আফরোজা বেগম মুনিয়াকে ডেকে ভয়ভীতি দেখান বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। তাকে আনভীরের স্ত্রীর ফেসবুক ফ্রেন্ড বলেও উল্লেখ করা হয়েছে এজাহারে, যিনি ফেসবুকের ছবি বসুন্ধরাকর্তাদের পরিবারে দেখান।

অন্যজন সরকারদলীয় হুইপ ও চট্টগ্রামের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর ছেলে শারুন চৌধুরী। যার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে আনভীরের সম্পর্ক হয়েছে বলে তাকে জানিয়েছিলেন নিহত মুনিয়া।

পিয়াসা কে?

ঢাকার অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানিয়েছে, এজাহারে দুবার নাম আসা এই পিয়াসা হলেন ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা, যিনি চার বছর আগেও রেইনট্রি হোটেলে দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় আলোচনায় এসেছিলেন। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ জুয়েলারি শপ আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ ছিলেন ওই ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি। পিয়াসা ছিলেন সাফাত আহমেদের সাবেক স্ত্রী।  রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণের ওই ঘটনার কিছুদিন আগেই সাফাতের সঙ্গে পিয়াসার ডিভোর্স হয়েছিল।

সেসময় আপন জুয়েলার্সের কর্ণধার তার ছেলের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলার নেপথ্য কারিগর হিসেবে পিয়াসাকে অভিযুক্ত করেছিলেন। পরে অবশ্য তাদের মধ্যে সমঝোতা হয় বলে খবর প্রকাশ পায়। ধর্ষণের শিকার দুই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে সহায়তার কথা স্বীকার করলেও কয়েকদিনের মাথায় পিয়াসা তাদের মীমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। এজন্য পিয়াসার বিরুদ্ধে দুটি সাধারণ ডায়েরিও করেন তিনি।

ওই ঘটনার পর দিলদার আহমেদ তার সাবেক পুত্রবধূ পিয়াসার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পিয়াসাও সাবেক শ্বশুর দিলদার আহমেদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেছিলেন।

পিয়াসার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমিই বিষয়টি আনভীর ভাইয়ের মাকে বলেছি। আনভীর ভাইয়ের আগের সংসার রয়েছে। সেটি বাঁচানোর জন্য আমি উদ্যোগ নিয়েছিলাম। এতে কি আমার অপরাধ হয়েছে?”

নিহত মুনিয়াকে অশ্লীল সব বিশেষণ দিয়ে ফারিয়া মাহাবুব পিয়াসা আরও বলেন, “এই ঘটনার নেপথ্যে আরও অনেক কাহিনি আছে। এই মেয়ে (মুনিয়া) তো একটা সাইকো ছিল। আনভীর ভাই বিবাহিত জানা সত্ত্বেও কেন তার দেওয়া ফ্ল্যাটে থাকা শুরু করেছিল? তাকে তো আগে আমরা কুমিল্লায় পাঠিয়ে দিয়েছিলাম।” এই ঘটনায় চট্টগ্রামের হুইপপুত্র শারুণের যোগসাজস রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

শারুন-পর্ব

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারদলীয় হুইপ ও চট্টগ্রামের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর পরিবারকে নিয়ে বসুন্ধরার মালিকানাধীন ইস্টওয়েস্ট মিডিয়া লিমিটেডের আওতাধীন সংবাদমাধ্যমগুলোতে লাগাতার নেতিবাচক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছিলো। একাধিকবার হুইপ ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, আক্রোশমূলকভাবে এই সংবাদমাধ্যমগুলো এ ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশ বা প্রচার করছে।

ঢাকার প্রভাবশালী পত্রিকা প্রথম আলো জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া হুইপপুত্র শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মুনিয়ার কিছু কথোপকথনের স্ক্রিনশটের সূত্র ধরে মঙ্গলবার বিকেলে একটি সূত্র তাঁর কাছে কিছু তথ্য জানতে চায়।

শারুন সূত্রের জানতে চাওয়া বিষয়গুলো তিনি জানিয়েছেন। তবে কে তাঁকে ফোন করেছিলেন, সে ব্যাপারে হুইপপুত্র কিছু বলতে চাননি। এর আগে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার হতে থাকে, মৃত্যুর আগে শারুন চৌধুরীর সঙ্গে মোসারাত জাহান মুনিয়ার কথা হয়েছিল। এ কারণেই শারুনের সঙ্গে কথা বলে ওই সূত্র।

শারুনের তথ্য মতে, তাঁর কাছ থেকে গতকাল বিকেলে একটি সূত্র মোসারাতের সঙ্গে কথোপকথনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে জানতে চেয়েছে, তিনি মোসারাতকে চেনেন কি না। শারুন জানান, মোসারাতের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। গত বছর মোসারাত ফেসবুকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনিই তাঁকে জানান, বসুন্ধরার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সঙ্গে তাঁর সাবেক স্ত্রীর সম্পর্ক হয়েছে।  

তবে শারুনের দাবি, মোসারাতের মৃত্যুর পর ফেসবুকে তাঁর সঙ্গে কথোপকথনের যে স্ক্রিনশট ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো মিথ্যা। সত্য-মিথ্যা যাচাইয়ে এই কথোপকথনগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করারও দাবি জানিয়েছেন শারুন।